খেলা ও ধুলা

অস্ট্রেলিয়ার জয়টা শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও!

সিরিজ মাঠে গড়ানোর আগেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক, বীরেন্দ্র শেবাগকে স্টার ক্রিকেটের বানানো একটা প্রমোশনাল ভিডিও নিয়ে ছড়িয়েছিল আগুন। ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরে রিশভ প্যান্ট ও টিম পেইনের সেই বেবি সিটিঙের ঘটনা নিয়েই বানানো হয়েছিল ভিডিওটা। ম্যাথু হেইডেন তখন সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেলেও, অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে দেখার কিছু নেই। দলটা নামের ভারেও ভালো খেলতে পারে। হেইডেনের কথাটা ফলে গেছে অক্ষরে অক্ষরে, উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেবাগকে নিয়ে চলছে বাহারি ট্রলের মেলা! টি-২০ সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করার পরে ওয়ানডে সিরিজেও যে পিছিয়ে থেকে সমতায় ফিরেছে মাইটি অস্ট্রেলিয়া।

শন মার্শ তখন বুমরার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা ধরেছেন, কমেন্ট্রিবক্সে সঞ্জয় মাঞ্জারেকারকে বলতে শোনা গেল, ‘অস্ট্রেলিয়ার এখন বড় একটা জুটি দরকার, খুব বড়সড় একটা জুটি।’ অবশ্য, ৩৫৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাটিঙে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসলে জুটি তো গড়তেই হবে একটা, তাও বড়সড়।

খাজা বা হ্যান্ডসকম্ব কেউই সঞ্জয়ের কথা শুনতে পাবার কথা নয়, কিন্ত সাবেক এই ভারতীয় ক্রিকেটারের কথাই অক্ষরে অক্ষরে রেখেছেন এই দুই অস্ট্রেলিয়ান। ১৯২ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিটাই গড়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত। কুসংস্কারে বিশ্বাস থাকলে ম্যাচশেষে সঞ্জয় হয়তো একটু আফসোসই করেছেন, কেন যে অপয়া কথাটা বলতে গেলেন!

এমনিতে মাঠে দুটো দল যখন মুখোমুখি হয়, লড়াইটা তখন শুধু বাইশ গজে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেটা গ্যালারিতে থাকা দুই দলের দর্শক থেকে শুরু করে কমেন্ট্রিবক্সেও ছড়ায়। মাইক্রোফোনের সামনে বসে একে অন্যকে খোঁচাখুঁচির কাজে ব্যস্ত থাকেন দুই দলের সাবেক ক্রিকেটারেরা। তবে মাঠের ক্রিকেটের মতো গতকাল এই জায়গাটাতেও ধরাশায়ী হয়েছে ভারত। এক সঞ্জয় মাঞ্জারেকারই নিজের কথা গিলে নিতে বাধ্য হয়েছেন বেশ কয়েকবার।

খাজা-হ্যান্ডসকম্বের জুটি তখন জমে গেছে, দুজনই আশির কোটা পেরিয়ে ছুটছেন সেঞ্চুরির দিকে। সঞ্জয় হঠাৎই বলে উঠলেন, ‘এখন ওরা দুজন সেঞ্চুরি পাবার জন্যে একটু বেশিই সতর্ক থাকবে, যেটা ভারতের অনুকূলে যেতে পারে।’ অন্যপাশ থেকে হেইডেন জবাব দিলেন, ‘আমি অনেকদিন ধরেই ওদের খেলা দেখছি, এবং তোমাকে এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় অর্জনটাই ওদের কাছে মূখ্য।’ তখনই বোলারের মাথার ওপর দিয়ে দুটো ছক্কা হাঁকিয়ে হেইডেনের কথায় যেন সায় জানালেন হ্যান্ডসকম্ব!

অ্যাশটন টার্নারের দুর্দান্ত এক ইনিংসে তখন ম্যাচ মোটামুটি হাতের মুঠোয় পুরে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া, সমীকরণ জানাচ্ছে, চার ওভারে প্রয়োজন ছাব্বিশ রানের। ভারতের হাতে তখনও বুমরা আর ভূবনেশ্বরের দুটো করে ওভার থাকাতেই বোধহয় আশা হারাননি সুনীল গাভাস্কার, বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই তিনি বলেছিলেন, এবার দেখা যাক, শেষ চার ওভারে ‘সেন্সিবল ক্রিকেট’-টা টার্নার খেলতে পারেন কিনা! এক বল বাদেই বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে গাভাস্কারের কথার জবাব দিয়ে দিলেন টার্নার! গাভাস্কার তখন সব ভুলে ভূবনেশ্বরের মুণ্ডুপাত করতে নেমে গেলেন!

৩৫৮ রান চেজ করে জয়, ভারতের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা এটা। অস্ট্রেলিয়ার টানা দুই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ২-২ সমতা, শেষ ম্যাচটা তাই অঘোষিত ফাইনাল। স্মিথ-ওয়ার্নারকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়া দলের জন্যে এটাকে বিরাট সাফল্যই বলা চলে। সেই জয়ের পথে কমেন্ট্রিবক্সের এই ছোট ছোট ঘটনাগুলো জয়ের মঞ্চে বাড়তি পালক যোগ করেছে গতকাল, তাতে সন্দেহ নেই কোন। হ্যান্ডসকম্ব-টার্নারেরা শুধু মাঠেই হারাননি ভারতকে, কমেন্ট্রিবক্সেও বারবার বিব্রত করেছেন ভারতীয় ধারাভাষ্যকারদের!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button