এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

এবার শ্রীলঙ্কার গীর্জায় হামলা, ধর্মের নামে কারা এত মৃত্যুক্ষুধায় আক্রান্ত?

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার পর শ্রীলঙ্কার গীর্জায় হামলা। স্বপরিবারে ঢাকা ঘুরে গতকালই মাত্র আমার এক শ্রীলঙ্কান সাংবাদিক বন্ধু তার দেশে ফিরেছে। তার কাছেই শুনলাম, কলম্বাের তিনটি গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শতাধিক নিহত হয়েছে। আহত দুই শতাধিক। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইস্টার সানডের আয়োজন ঘিরে আজ গির্জাগুলোতে উপচে পড়া ভীড় ছিল। আর সেই সুযোগেই এই হামলা।

ভীষন মন খারাপ করা খবর। ভয়াবহ দুঃসময় পৃথিবীর জন্য। খ্রিষ্টান বা ভিন্ন ধর্মের মানুষ মারা গেছে ভেবে যদি স্বস্তি পেয়ে থাকেন তাহলে বলবো, আজকের পৃথিবীর সমস্যা এটাই। আমেরিকা হিসেব করে তার নাগরিক মরেছে কী না, মুসলমানরা হিসেব করে মুসলিম মরেছে কী না, অন্য র্ধমের মানুষ মনে করে তাদের কেউ মরেছে কী না। এভাবেই পৃথিবী বিভক্ত হয়।
নিউজল্যাণ্ডের ঘটনার পর শুনেছিলাম, হামলাকারীর রাইফেলের উপরে যে কথাটা লেখাটা ছিল, তার নাকি অর্থ দাঁড়ায়. “To take revenge for Ebba Akerlund”।

ঘটনা হলো, ২০১৭ সালের ৭ই এপ্রিল উজবেকিস্তানের এক জঙ্গি সুইডেনের স্টকহোম শহরে লড়ি চালিয়ে পিষে মেরে ফেলেছিলো আটজনকে৷ নিহতদের মধ্যে ছিলো ১১বছর বয়সী ‘Ebba Akerlund’ নামের এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী মেয়ে। স্কুল থেকে ফেরার পথে মায়ের সাথে তাকেও লড়ির নিচে পিষে মরতে হয়েছিলো। নিউজিল্যাণ্ডে হামলার দিনে নাকি মেয়েটির জন্মদিন ছিল।সেই হত্যার প্রতিশোধ নিতেই নাকি ক্রাইস্টচার্চে হামলা। কিন্তু এই মসজিদের হামলায় নিহতদের মধ্যেও তো দুটি বাচ্চা শিশু ছিলো। তাহলে কী সেই হত্যার প্রতিশোধ নিতে আবার কোথাও হামলা হবে? এভাবেই কী আমরা পরষ্পরকে হত্যা করবো?
আমি জানি পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থে কোথায় এভাবে পরষ্পরকে হত্যার কথা বলা আছে।

তাহলে কেন আমরা এভাবে খুনের উৎসবে মেতে উঠছি? কেন সারা পৃথিবীতে আজ কট্টরপন্থার জয়জয়কার? কেন অস্ত্রের এই ঝনঝনানি?
আমি জানি না আমরা কবে একটা মানুষের পৃথিবী পাবো। এমন একটা পৃথিবী যেখানে কাশ্মীর থেকে ফিলিস্তিন, প্যারিস থেকে অরল্যাণ্ডো, ক্রাইষ্টচার্চ থেকে বৈরুত , মুম্বাই থেকে গুজরাট, পেশোয়ার থেকে কাবুল, লণ্ডন থেকে বার্সেলোনা, টুইনটাওয়ার থেকে ইরাক, বেসলান থেকে ইস্তাম্বুল, ঢাকা থেকে কলম্বো যেখানেই যে মারা যাবে শুধু ভাববে, এই পৃথিবীর আরও একজন মানুষ মারা গেল। এমন মৃত্যু আমরা চাই না।

আচ্ছা বলেন তো আজকে কলম্বোয় যে লোকগুলো মারা গেলো, তারা তো লাল রক্তেরই মানুষ। কেন আমরা পরষ্পরকে হত্যা করছি? কেন ভাবছি না, এই পৃথিবীর যে প্রান্তেই মরুক না কেন সে তো মানুষই। মানুষ হয়ে এভাবে মানুষ হত্যা করে কী আনন্দটা পাচ্ছি অামরা? এখনো সময় আছে মানবজাতি। চলুন আমরা এক হই। মানবিক হই। মানবজাতিকে বাঁচাই। ভয়াবহ এক ধ্বংসের থেকে রক্ষা করি নিজেদের।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button