এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

রহস্যময় পুরুষ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ যেভাবে গ্রেফতার হলেন!

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, লাখ লাখ গোপন নথি ফাঁস করে দেয়া উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা যিনি। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রথম ইন্টারনেটে তাদের ওয়েবসাইট নিতে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর থেকে তারা বিভিন্ন সময় এমন সব গোপন নথি প্রকাশ করে যা হেভিওয়েট দেশ কিংবা ব্যক্তিদের জন্য বিব্রতকর। আমেরিকা ইরাকে যুদ্ধ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যার তথ্য কিংবা আফগানিস্তান যুদ্ধের গোপন নথি, আফ্রিকা অঞ্চলের দুর্দশা কিংবা এশিয়ার গোপন কোনো নথি – কিছুই বাদ যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি মূলত আধিপত্যবাদ বিরোধী, ফলে এই প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁসের ধারাবাহিক ঘটনা আধিপত্যবাদীদের কাছে সুখকর ঘটনা ছিল না।

উইকিলিকস কিভাবে এতসব তথ্য পায় এই নিয়ে বিস্তর গল্প প্রচলিত। বলা হয়ে থাকে, টর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়ার গোপন সংবাদগুলো সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি সাহায্য পায় নিপীড়িত কিংবা মানবতাবাদী স্বেচ্ছাসেবীদের। তারা নানা ভাবে বড় করে তুলেছে উইকিলিকসকে, তারা বিশাল থেকে বিশালতর করছে উইকিলিকসের তথ্য ভান্ডার। এমন হতেই পারে, আমেরিকান নৌ বাহিনীর একজন অফিসারও উইকিলিকসের হয়ে কাজ করে এবং সে তার সামনে ঘটে যাওয়া সবই রেকর্ড সহ দিয়েছে উইকিলিকসকে। এভাবেই উইকিলিকস কাজ করে আসলে।

২০১০ সালে আড়াই লাখ মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা ও পাঁচ লাখ সামরিক গোপন নথি ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছিল উইকিলিকস। এর কিছুদিন পর উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছিল। অ্যাসাঞ্জ তখন লন্ডনে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রেপ্তার এড়াতে। ২০১০ সালেই একবার গ্রেপ্তার হন তিনি, যদিও শর্তসাপেক্ষে জামিন পান। পরে লন্ডনে অবস্থিত ইকুয়েডরের দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় পান। সেখানেই গত সাতবছর তার অবস্থান।

অবশেষে লন্ডন পুলিশের হাতে আজ গ্রেপ্তার হলেন অ্যাসাঞ্জ। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত করছি, জুলিয়ান পুলিশ হাজতে আছেন। তাঁকে যুক্তরাজ্যেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।” গত কয়েকমাস ধরে ইকুয়েডরের সাথে সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিলো না জুলিয়ানের। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন দূতাবাস থেকে তাকে বের করে দেওয়া হতে পারে এবং তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন। ইকুয়েডর অ্যাসাঞ্জের শরনার্থী স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করে নিলে আজ তিনি গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হন।

আজ ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে আটক করার পর তাকে ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইকুয়েডর প্রেসিডেন্ট কারণ হিসেবে বলেন, বার বার আন্তর্জাতিক নীতিমালা ভঙ্গ করায় তার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করেছে তার দেশ।

রহস্যময় পুরুষ ৪৭ বছর বয়সী জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে অবশেষে আইনের বেড়াজালে বন্দী হতে হলো। তার পরিণতি কোন দিকে গড়ায় তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন..

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button