Uncategorized

‘কবি’ আল মাহমুদ ও আমাদের বক্তব্য

মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মুনতাসির মামুন এনারা হচ্ছেন ‘দালাল’, তাই এনাদের এত বছরের লেখালেখি, পরিশ্রম, গবেষণা এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। এদের কে ‘চিনে নিয়ে’ পরিত্যাগ করতে হবে কারণ এনারা ‘ফ্যাসিবাদি দালাল’। অন্য দিকে, আল মাহমুদের মত আত্মস্বীকৃত জামাতিরা হচ্ছে ‘রাজনৈতিক ভাবে বিভ্রান্ত’ এবং ‘শুদ্ধতম কবি’। তাই তাদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং সাহিত্যিক পরিচয় আলাদা ভাবে বিচার করতে হবে। যদি না করেন তাহলে আপনিও ফ্যাসিবাদী!

হুমায়ুন আজাদ স্যার আধুনিক কবিতার যে সংকলনটি সম্পাদনা করেছিলেন সেখানে তিনি ভূমিকাতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছিলেন আল মাহমুদের কথা। তিনি লিখেছেন যে আল মাহমুদের কিছু কবিতা আধুনিক কবিতায় স্থান পাবার মত কিন্তু যেহেতু ব্যক্তি আল মাহমুদ এখন মৌলবাদ তোষক এবং একজন মৌলবাদী কখনোই আধুনিক নন, তাই তিনি সচেতন ভাবে তাকে এই সংকলনে স্থান দেননি। অর্থাৎ কবিতার থেকে কবির পরিচয় এখানে মুখ্য৷

কবি আল মাহমুদের কিছু কবিতা কালের বিবর্তনে হয়তো টিকে যাবে৷ ভবিষ্যতের পাঠকরাই সেটার বিচার করবেন। তবে ব্যক্তি আল মাহমুদ একজন জামাত তোষক। যার কাছে গোলাম আযম একজন মহান নেতা, শিবিরের নিহত সন্ত্রাসীরা শহিদ, সাঈদীর পাশে বসতে পারাটা যার কাছে বিশেষ অর্জন তাকে সম্মান জানানোর কোন যুক্তি থাকতে পারেনা৷ কবি মেহেরুন্নেসার হত্যাকারীদের যে বন্ধু মনে করে, সে যত বড় কবি হোক তাতে কিছু যায় আসেনা। এতে যদি আমি ফ্যাসিস্ট হই, তাহলে আমি একজন গর্বিত ফ্যাসিস্ট।

লিখেছেন- রাফী শামস।

**************

সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম সম্পর্কে কবি আল মাহমুদ এর অভিমত-

অধ্যাপক গোলাম আযম এর মত প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ এই উপমহাদেশে ক্রমাগত বিরল হয়ে এসেছে। তাঁর জীবনের খুটিনাটি বিষয় এবং রাজনৈতিক বিনিময়ের কৌতুহল উদ্দিপক ঘটনা অনেকেরই অজানা। তিনি সাহসী মানুষ এবং সুদৃড় মনবলের অধিকারী। তার বয়স আশির কোঠায়। কিন্তু তিনি অটুট স্বাস্হ্য এবং রাজনৈতিক ধীশক্তি সম্পন্ন। গত ৮০-র দশকে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মুলা দিয়ে জাতিকে এক ঘনায়মান রাজনৈতিক দুর্যোগ থেকে উদ্ধার করেছেন। এতে বুঝা য়ায়, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এই ৮০ বছর বয়সেও সতেজ এবং উদ্ভাবনাময়।

তার ব্যাপারে আমার নিজেরও কৌতুহলের কোন সীমা নেই। তার অনেক রাজনৈতিক সীদ্ধান্ত আমাদের মত ব্যক্তিদের বোধগম্য নয়। যেমন তিনি সহসা আমীরে জামায়াতের পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেছেন। কেন করেছেন এর কোন ব্যাখ্যা নেই। অমি একজন অল্প বুদ্ধি কবি এবং সাংবাদিক মাত্র। তাঁর এই অবসর গ্রহনের তাৎপর্য উপলদ্ধি করতে পারছিনা। হতে পারে যে,তিনি এর মধ্যে কোন বৃহৎ কল্যাণ দেখতে পেয়েছেন।

তিনি ইতিহাস নির্মাতা পুরুষ,অদম্য এবং অকুতোভয়। তাঁর দূরদৃষ্টি নিশ্চয় আমার মত কবির চেয়ে প্রখর,দিগন্ত বিস্তৃত এবং অনাগত কালের দিকে নিবদ্ধ। তবু একথা বলতে দ্বিধা নেই, বাংলাদেশের তথা এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত খুবই দুর্লভ। যিনি জেল-জুলুম,ফাসি ইত্যাদি তুচ্ছজ্ঞান করে সুদৃড় মনোবলের পরিচয় দিয়ে এসেছেন এবং বিপুল রাজনৈতিক শত্রুতা মোকাবেলা করে নিজের নাগরিক অধিকার আইনগত ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, যিনি আগুন ও গন্ধকের নদী পাড়ী দিয়ে একটি বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক দলকে সংঘটিত এবং সুদৃড় করে বিজয়ের তোড়নের সন্নিকটে এনে উপস্থিত করেছেন।

সর্বদিক দিয়েই তিনি সতেজ মানুষ,আমি মাঝে মধ্যে তাঁর সান্নিধ্য পাই বলে একথা বিলক্ষণ জানি। তাঁর “জীবনে যা দেখলাম” বইটি অচিরেই এদেশের জ্ঞান সন্ধানী মানুষের হ্রদয়কে স্পর্শ করবে, আমি এ আশা নিয়ে বসে থাকব।

লিখেছেন- আরিফ রহমান।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button