সিনেমা হলের গলি

ঢাকার পূর্বাণী হোটেলের শেফ থেকে বলিউড সুপারস্টার- এক যোদ্ধার অজানা গল্প

তাঁকে আমি সুপারস্টার বা অভিনেতা বলি না, বলি যোদ্ধা। অমৃতসরের মফস্বল শহর থেকে উঠে এসে তিনি এখন মুম্বাইয়ের আলো ঝলমলে সিনেমা জগতের সবচেয়ে ব্যস্ততম অভিনেতা, গত কয়েক বছরেই ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশী সফল ছবির নায়ক। অমৃতসর থেকে মুম্বাইয়ের দূরত্ব প্রায় সতেরোশো কিলোমিটার, কিন্ত এই দূরত্ব পাড়ি দিতে তাঁকে পার করতে হয়েছে অনেকটা সময়, ঢেলে দিতে হয়েছে নিজের শ্রম আর মেধার সবটুকুই। সিঙ্গাপুর, দুবাই কিংবা ঢাকা হয়ে বোম্বে- বন্ধুর পথটা তিনি পাড়ি দিয়েছেন একা, একদম শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি শিখরে। বলিউডে কোন ফাদার-গডফাদার ছিল না তাঁর, একের পর এক ফ্লপ আর ডিজাস্টারের সাগর পেরিয়েই তাঁর হাতে ধরা দিয়েছে আজকের এই সাফল্য। আর এর পেছনে আছে তাঁর প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, ঝুঁকি নেয়ার বাসনা, কাজের প্রতি একাগ্রতা আর জীবনযাপনের অদ্ভুত এক নিয়মানুবর্তীতা। ক্যারিয়ারের বেশীরভাগ সময়েই নানা বঞ্চনা সয়েছেন, ঢাকা পড়ে ছিলেন তিন খান কিংবা অন্য অনেকের আড়ালে। কিন্ত সূর্যের মতো আপন আলোয় জ্বলেছেন তিনি, হার মানেননি, হেরে যাবার ভাবনাটা মাথায় আসতেও দেননি কখনও। অনেকেই বুঝে গেছেন কাকে নিয়ে কথা বলছি, অক্ষয় কুমার, এই সময়ে বলিউডের সুপারহিট সিনেমার সবচেয়ে কমন রেসিপি; পঞ্চাশতম জন্মদিনে তাঁর সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন!

#১- প্রচন্ড রুটিনমাফিকভাবে সাজানো একটা জীবন অক্ষয়ের, সেই জীবনে ছন্দপতন নেই, নেই কোন অনিয়ম। কঠোর নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতেই পছন্দ করেন মানুষটা। ভোর চারটায় বিছানা ছাড়েন তিনি, তখন থেকেই শুরু হয় ব্যায়াম। পঞ্চাশে পা দিয়েও দারুণ ফিট বডির পেছনের গল্পটা এই শৃঙখলাবদ্ধ জীবন জানে। জিমে ওয়েট লিফটিং ছাড়াও এর বাইরে শরীর ঠিক রাখার জন্যে দৌড়, মার্শাল আর্ট আর বক্সিং এর প্র‍্যাকটিস করেন তিনি নিয়মিত।

#২- অক্ষয় বিশ্বাস করেন, সূর্যাস্তের পর মানবশরীর ক্যালরি বার্ন করা বন্ধ করে দেয়, আর তাই সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়ার পরে কোন খাওয়াদাওয়া করেন না তিনি। ডিনার সেরে নেন সূর্যাস্তের আগেই! রাত নয়টার মধ্যে ঘুমে কাদা হয়ে পড়েন এই সুপারস্টার, বলিউডের লেট নাইট পার্টির যে রেওয়াজ, তার সঙ্গে দারুণ ব্যতিক্রম অক্ষয় কুমার। সান্ধ্য বা রাত্রীকালীন কোন পার্টিতে কখনোই তাঁকে দেখা যায় না। করণ জোহর একবার জোর করে সস্ত্রীক অক্ষয়কে নিয়ে গিয়েছিলেন নিজের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, সেখানে নাকি এক কোণায় বসে ঢুলছিলেন অক্ষয়!

#৩- টুইঙ্কেলের সঙ্গে তাঁর বিয়েটাও অদ্ভুত এক ঘটনা! ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনের কভারের জন্যে ফটোশুট করতে গিয়ে প্রথমবার টুইঙ্কেলকে সামনাসামনি দেখেন অক্ষয়, দেখেই প্রেমে পড়ে যান। অনেকবার ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্ত পাত্তা পাননি। ২০০০ সালে টুইঙ্কেলের ‘মেলা’ সিনেমা মুক্তি পাবার কথা, সেই সিনেমা নিয়ে টুইঙ্কেল ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত। কিন্ত অক্ষয় বলে দিলেন, ‘মেলা’ ফ্লপ হবে। দুজনে বাজী ধরলেন, মেলা সিনেমাটা হিট হলে অক্ষয় আর টুইঙ্কেলকে বিরক্ত করবেন না, আর যদি সিনেমাটা সত্যিই ফ্লপ হয়, টুইঙ্কেল রাজী হবেন অক্ষয়কে বিয়ে করতে। বিধাতার লিখন না যায় খন্ডণ, মেলা ঠিকই ফ্লপ হলো। দুজনের পারিবারিক সম্মতিতেই পরে তাঁদের বিয়ে হয়!

অক্ষয় কুমার, অক্ষয় কুমারের অজানা কাহিনী

#৪- বলিউডে তাঁর আরেক নাম খিলাড়ি এটা সবাই জানে। খিলাড়ি নামের মোট আটটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন অক্ষয়। প্রতিবছর গড়ে তিন-চারটে সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি, কোন সিনেমাতেই চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ দিনের বেশী শুটিং টাইম রাখেন না। শুধু নিজের সিনেমা করেই ক্ষান্ত থাকেন না, অনুরোধে ঢেঁকি গিলে অতিথি চরিত্র সেজে হাজির হয়ে যান অন্যদের সিনেমাতেও! দ্যা কপিল শর্মা শো তে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন তিনি আশুতোষ গোয়াড়িকর বা সঞ্জয় লীলা বানশালীর মতো পরিচালকের সঙ্গে সিনেমা করেন না। উল্লেক্ষ্য, এদের দুজনেই নীরিক্ষাধর্মী কাজ করেন বেশী, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নানা দিক উঠে আসে তাঁদের সিনেমায়। দুজনেই একেকটা সিনেমা বানাতে আট-বারোমাস পর্যন্তও সময় নেন! প্রশ্নটার জবাবে হাসতে হাসতে অক্ষয় সোজাসুজিই বলে দিয়েছিলেন, “উনারা যদি কখনও পঞ্চাশ দিনের মধ্যে শুটিং শেষ করার কথা ভাবেন, তাহলে নিশ্চয়ই কাজ করবো!”

#৫- বেশী সিনেমায় অভিনয় করার কারণে অনেকে তাঁর সমালোচনা করেন, বলেন এত পরিমাণে কাজ করার ফলে স্ক্রিপ্ট বাছাইতে ভুল হবার সুযোগ বেশী থাকে, অভিনয়ের মানও ঠিক থাকছে না। এই অভিযোগগুলো আজ থেকে আট-দশ বছর আগে সত্যি ছিল। কিন্ত নিজের মেধা আর পরিশ্রমে অক্ষয় এখন সত্যিই অন্যরকম উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছেন। বছরে হয়তো তিনি চারটা সিনেমায় নায়ক হয়ে পর্দায় আসছেন, সবগুলো আলাদা আলাদা চরিত্রে, আলাদা গল্পে। আর গল্পগুলোও কি দুর্দান্ত! সমাজের গল্প, পরিচিত গণ্ডির ভেতরের গল্প, যে গল্পের সঙ্গে মানুষ নিজেকে সংযুক্ত করতে পারবে। গত দুই বছরের অক্ষয়কেই দেখুন, ২০১৬ শুরু করেছিলেন সত্যি ঘটনার ওপরে নির্মিত ‘এয়ারলিফট’ দিয়ে, দারুণ অভিনয় করেছেন সেখানে। আবার দুই মাস পরেই ‘হাউজফুল থ্রি’ এর মতো সম্পূর্ণ মাসালাধর্মী সিনেমা নিয়ে এসেছেন, দুই সিনেমার ধরণে আকাশ পাতাল তফাৎ! ‘ঢিশুমে’ সমকামী চরিত্রে অতিথি অভিনেতা হিসেবে হাজির হবার পরে বছরশেষে ‘রুস্তম’ নিয়ে জাদু দেখিয়েছেন। ‘রুস্তম’ অক্ষয়ের জীবনে অন্যরকম মাইলফলক, এই সিনেমার জন্যেই সেরা অভিনেতা হিসেবে অধরা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার ঘরে তুলেছেন তিনি। ২০১৭ তে আসি, জলি এলএলবি-২ দিয়ে শুরু করেছেন, আরশাদ ওয়ারসী অভিনীত ‘জলি এলএলবি’র সিকুয়্যাল ছিল এটি। আরশাদ থাকলে কি হতো না হতো বলা মুশকিল, তবে অক্ষয় হতাশ করেননি একদমই। এরপরে ‘বেবী’র প্রিক্যুয়াল ‘নাম শাবানা’য় অভিনয় করেছেন, এখানে তাঁর চরিত্রকে ক্যামিও বলা যাবে না মোটেও। ‘টয়লেট এক প্রেম কাথা’- বাহুবলী-২ বাদ দিলে এবছর বক্স অফিসে সুপারহিট তকমা পাওয়া একমাত্র সিনেমা এটি। বলিউডের এই মন্দার বাজারে সালমান শাহরুখদের ফ্যান-টিউবলাইট সব যখন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, অক্ষয় তখন এগিয়ে চলেছেন দুর্দান্ত গতিতে। দর্শকের ভালোবাসা আর প্রযোজকের মুখের হাসি, অক্ষয় আদায় করে নিচ্ছেন দুটোই।

অক্ষয় কুমার, অক্ষয় কুমারের অজানা কাহিনী

#৬- বছরপ্রতি তিন-চারটা সিনেমায় অভিনয় করা নিয়ে সুন্দর যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়- “একটা সময় ছিল যখন আমি টাকার জন্যে সিনেমা করতাম। সংসারে স্বচ্ছ্বলতা আনার জন্যে সেটা আমি করেছি, তখন আমার স্ক্রিপ্ট বাছাইয়ের সুযোগও ছিল না, যে যা বলেছে করে ফেলেছি। অনেকের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল, হয়তো তাদের কেউ স্ক্রিপ্ট নিয়ে এসেছে, আমি না পড়েই বলে দিয়েছি করবো। একটা সময়ে আমার আর্থিক প্রয়োজন মিটে গেল, কিন্ত এখনও কেন আমি তিন-চারটে সিনেমায় অভিনয় করি? বছরে দুইটা সিনেমা আমি করি অর্থের জন্যে, সেগুলো দিয়েই আমার পরিবারের ভরনপোষণ হয়। এর বাইরে একটা বা দুটো সিনেমার জন্যে আমি অপেক্ষা করি, দারুণ কোন গল্প, ভালো পরিচালক- এমন মিল পেলে আমি সেটায় হ্যাঁ বলে দেই। সিনেমাটা ব্যবসা করবে কিনা, আমি পারিশ্রমিক পাবো কিনা সেসব নিয়ে ভাবি না। এই একটা বা দুইটা কাজ আমি করি নিজের জন্যে, নিজের খুশীর জন্যে। যতোক্ষণ আমার শরীর আর মন আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছে, এটা আমি করে যাবো।”

#৭- অক্ষয় নিজের সুপারস্টার তকমা ঝেড়ে ফেলে অভিনেতা হবার দিকে মন দিয়েছেন বেশ কিছুদিন হলো। নিজের অভিনয়প্রতিভা নিয়ে করছেন নানারকমের পরীক্ষা নীরিক্ষা, চরিত্র আর গল্প নিয়েও গবেষণা করছেন, সেটা গল্প বাছাইতেই বোঝা যায়। রজনীকান্তের বিপরীতে ভিলেন হিসেবে হাজির হচ্ছেন দক্ষিনী ২.০ সিনেমায়, ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা হতে যাচ্ছে এটি। ক্যারিয়ারের সাফল্যের সূর্য গনগন করছে মাথার ওপরে, এমন সময়ে নায়কের আসন ছেড়ে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করার দুঃসাহস। আর কেউ দেখাবে না, তিনি অক্ষয় কুমার বলেই পেরেছেন এটা।

#৮- তায়কোয়ান্দোতে অক্ষয় ‘ব্ল্যাকবেল্ট’ এটা অনেকেই জানেন। মার্শাল আর্ট তাঁর কৈশরের স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নপূরণে থাইল্যান্ড পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। রঙিন পর্দায় শুরুটাও তাঁর এই মার্শাল আর্ট দিয়েই হয়েছিল, তখনও তাঁকে নায়ক বানানোর কথা কেউ ভাবেওনি। মহেশ ভাটের ‘আজ’ সিনেমায় মার্শাল আর্ট ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে ছোট্ট একটা চরিত্র দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। নিজের সিনেমায় স্ট্যান্টম্যান ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না অক্ষয়, বেশীরভাগ স্ট্যান্ট তাঁর নিজেরই করা। আর এসব করতে গিয়ে আহতও হয়েছেন বহুবার। ‘খিলাড়িও কা খিলাড়ি’ সিনেমায় রেসলিং সুপারস্টার আন্ডারটেকারকে খালিহাতে শূন্যে তুলতে গিয়ে প্রায় গলা ভাঙতে বসেছিলেন তিনি। এছাড়া হাত পা তো অজস্রবার ভেঙেছেন। নারীদের সেলফ ডিফেন্স শেখানোর চেষ্টা করছেন নিজের উদ্যোগে। এছাড়া বিরল একটা রেকর্ডের মালিক তিনি, অক্ষয় অভিনীত ‘চাঁদনী চক টু চায়না’ একমাত্র ভারতীয় সিনেমা, যেটির শুটিং হয়েছে চীনের প্রাচীরের ওপরে। এর আগে-পরে কোন ভারতীয় সিনেমা এখানে শুটিঙের অনুমতি আদায় করতে পারেনি।

অক্ষয় কুমার, অক্ষয় কুমারের অজানা কাহিনী

#৯- মানুষটা কথাবার্তা কম বলেন, তবে শুটিং চলাকালে সেটের সবাইকে মাতিয়ে রাখেন অবশ্য। যে কারো বিপদে আপদে ছুটে যান সবার আগে। সেটে লাঞ্চের সময় খোঁজ নেন সবার খাওয়া ঠিকঠাক হয়েছে কিনা। পর্দায় তিনি দারুন অভিনেতা, লাখো মানুষের কাছে বিশাল সুপারস্টার। তবে তাঁর আরেকটা পরিচয় অনেকের অজানা, তিনি সহকর্মীদের জন্যে দারুণ একজন মেন্টরও। ক্যাটরিনা কাইফ আর জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে হিন্দী ভাষা শিখতে সাহায্য করেছিলেন তিনি, ‘রুস্তমে’ অভিনয় করা ২৯ বছর বয়েসী অভিনেত্রী ফারিনা ওয়াজের তো অক্ষয়ের একেবারে গুণমুগ্ধ ভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন শুটিঙের অল্প ক’দিনেই! তাঁর ভাষায়- অক্ষয়ই প্রথম আমাকে বলেছে আমার মধ্যে প্রতিভা আছে এবং ভাষা আর নাচে আমার আরো ভালো করা উচিত। এমনকি উনি আমাকে হিন্দি ভাষা শেখার জন্যে সেটে কয়েকজনের সঙ্গে আলাদা বসিয়ে দিতেন।”

#১০- অক্ষয় শুধু নায়ক নন, ঘটক হিসেবেও দারুণ সুনাম অর্জন করতে পারতেন। কেন এ কথা বলছি? অভিনেত্রী অসিনের বিয়েতে প্রথম আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন অক্ষয় কুমার। কেন? মাইক্রোম্যাক্স মোবাইল কোম্পানীর সহ প্রতিষ্ঠাতা রাহুল শর্মার পরিচয় ঘটেছিল অক্ষয়ের মাধ্যমে, তিনিই রাহুলকে সাহস যুগিয়েছিলেন অসিনকে নিজের ভালোবাসার কথা বলে দেয়ার ব্যপারে। অক্ষয়কে নিজেদের বিয়েতে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেয়া বিয়ের কার্ডের ছবি তুলে ইনস্টাগ্রামেও আপলোড করেছিলেন অসিন। বাইরে যাওয়া আসায় অক্ষয় ব্যবহার করেন হোন্ডা সিআরভি’র একটি কার, তাঁর মতে ভারতের রাস্তায় চালানোর মতো উপযুক্ত গাড়ি হোন্ডাই তৈরী করে। অথচ চাইলেই তিনি বিএমডাব্লিউর লাইন লাগিয়ে দিতে পারেন বাড়ীর গ্যারেজে, বিশ্বের সর্বাধিক পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকায় তাঁর অবস্থান এখন দশে! অথচ খাবার খরচ বাদ দিয়ে মাসে দশ হাজার টাকা হাতখরচা করতেও তাঁর আপত্তি। ছেলে আরাভ স্কুলে যায় ছোট্ট একটা সেডানে চড়ে, অক্ষয়ের মতে- “ও বড় হয়ে নিজে কিছু করতে পারলে অবশ্যই এরচেয়ে ভালো গাড়ি কিনতে পারবে। ওদের জন্যে আমার যতোটুকু করা দরকার আমি করছি, ও এই বয়সে আমার চাইতে অনেক ভালো অবস্থায় আছে।”

#১১- সিনেমায় সৈনিকের চরিত্রে আগেও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে ২০১৪ সালে হলিডে সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে খুব কাছে থেকে দেখলেন সৈনিক জীবনের কষ্টকর দিকগুলো। বিশেষ করে যারা সীমান্ত পাহারার কাজে নিয়োজিত, সেইসব জওয়ানদের কষ্ট অক্ষয়কে স্পর্শ করেছিল খুব। সারাবছর ছুটি নেই, পরিবার ফেলে সীমান্তে পড়ে থাকা, খাওয়াদাওয়ার অব্যবস্থাপনা, মৃত্যুর ঝুঁকি তো সারাক্ষণই, মরে গেলে বা আহত হলে কিছু টাকা দিয়েই দায়িত্ব সেরে ফেলে সরকার। এসব দেখে খুব প্রভাবিত হলেন তিনি, আহত-নিহত সৈনিকদের জন্যে কিছু করার চেষ্টা করলেন নিজের সামর্থ্যের মধ্যে। পরিচিতজনেরা এগিয়ে এলো, এরপরে অ্যাপ তৈরি করে সাহায্যের জন্যে হাত বাড়ানো হলো জনসাধারণের কাছেও। সাড়াও মিললো দারুণ। জুম্মু-কাশ্মির, নক্সাল অধ্যুষ্যিত এলাকা এবং কিছুদিন আগে সীমান্তে জঙ্গী হামলায় আহত-নিহত সৈনিকদের পরিবারের কাছে এরমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছেন সাহায্যের টাকা, দশ-পনেরো লক্ষ রূপী করে পেয়েছে প্রতিটি পরিবার। সিনেমা বা রূপালী জগতের গণ্ডি ছাড়িয়ে অক্ষয় যেন মানবতার এক মহাকাণ্ডারী রূপেই হাজির হয়েছেন এই মানুষগুলোর কাছে।

সিনেমা জগত তাঁকে খ্যাতি দিয়েছে, অর্থ দিয়েছে, অচেনা এক তরুণ রাজীব ভাটিয়া থেকে সুপারস্টার অক্ষয় কুমার বানিয়েছে, এই জগতটার কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই তাঁর। ঢাকায় পূর্বাণী হোটেলে শেফের চাকুরী থেকে আজকের এই আলো ঝলমলে জগতে দারুণ অবস্থান- অক্ষয়ের যাত্রাটা মোটেও সহজ কিছু ছিল না। কিন্ত অসম্ভবকে তিনি সম্ভবে পরিণত করেছেন মেধা, পরিশ্রম আর ধৈর্য্য দিয়ে। কাজকে  ভালোবেসেছেন, সেটার ফলে সাফল্যও ধরা দিয়েছে হাতে। আজ ৫১ বছরে পা দিলেন এই নানামুখী প্রতিভার অধিকারী এই অভিনেতা। বয়স তো একটা সংখ্যামাত্র, পঞ্চাশেও তিনি একেবারে তরুণ, ছুটছেন তেজী ঘোড়ার মতো। তাঁর এই দৌড় না থামুক, এমনটাই চাওয়া ভক্তদের।

আরও পড়ুন-

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button