খেলা ও ধুলা

এমন বিনোদন আফ্রিদী ছাড়া আর কে দিতে পারে?

শহীদ খান আফ্রিদী মানেই যেন বিনোদনের অফুরন্ত এক ভাণ্ডার। যতোদিন ক্রিকেট খেলেছেন, দুনিয়ার সব অদ্ভুতুড়ে নিয়মে আউট হয়ে বিনোদনের খোরাক যুগিয়েছেন অফুরন্ত। একের পর এক শূন্য রানে আউট হয়ে খেতাব পেয়েছেন ‘ডাকবাবা’ নামে। বলকে সপাটে হাঁকিয়েও বারবার ধরা পড়েছেব ফিল্ডারের হাতে, সজোরে ব্যাট ঘোরানোর পরে দেখা গেছে, পেছনে স্ট্যাম্প উড়ছে আকাশে! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পরেও আফ্রিদীর এই বিনোদনের যোগান দেয়া বন্ধ হয়নি, বরং পরিমাণে আরও বেড়েছে।

কয়েকদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে আত্মজীবনীমূলক বই ‘গেম চেঞ্জার’। সেটা প্রকাশের পরই মূলত ঝড় শুরু হয়েছে। আত্মজীবনীতে ভারতীয় ওপেনার গৌতম গম্ভীর বা নিজের সিনিয়র জাভেদ মিয়াদাদকে যেভাবে তীর্যক ভঙ্গিতে ধুয়ে দিয়েছেন আফ্রিদী, সেটা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গম্ভীর তো তাকে ‘মানসিক রোগী’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন, জবাবে আফ্রিদীও পালটা তোপ দাগিয়েছেন।

গম্ভীর বনাম আফ্রিদীর দ্বৈরথ

মাত্র সতেরো বছর বয়সে ঝোড়ো এক সেঞ্চুরী হাঁকিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিলেন আফ্রিদী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭ বলের সেই সেঞ্চুরী তাকে বানিয়ে দিয়েছিল ওয়ানডেতে সর্বকণিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান, সেইসঙ্গে প্রায় দুই দশক ধরে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরীর রেকর্ডটা নিজের করে রেখেছিলেন এই পাকিস্তানী। তবে আত্মজীবনীতে আফ্রিদী জানিয়েছেন, সেই ইনিংসটা খেলার স্কময় তার বয়স ছিল বিশ বছর। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারাই নাকি তার বয়স কমিয়ে দিয়েছিলেন কাগজে-কলমে!

তবে গেম চেঞ্জারের যে অংশটা পড়ে লোকজন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে, সেটা বেশ অদ্ভুতই। আত্মজীবনীতে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনাও তুলে ধরেছে আফ্রিদী, আর এরমধ্যে একটা এমনই অদ্ভুত যে, বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। তবে ঘটনার নায়ক যেহেতু আফ্রিদী, অবিশ্বাস করারও কিছু নেই। আফ্রিদী লিখেছেন, মেয়ে ভেবে নাকি একটা ছেলের সঙ্গে তিনি প্রায় এক মাস প্রেম করেছিলেন!

সপাটে ব্যাট চালালেন আফ্রিদী, কিন্ত ব্যাটে-বলে হলো না! বোল্ড!

দ্রুততম সেঞ্চুরী হাঁকানোর পরে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন আফ্রিদী, দেখতে সুদর্শন হওয়ায় নারীভক্তের কমতি ছিল না তার। অস্ট্রেলিয়ায় এক পার্টিতে এমনই এক তরুণী নিজেকে আফ্রিদীর ভক্ত দাবী করে তার মোবাইল নম্বর নিয়েছিল। তখন নতুন নতুন মোবাইল ফোন ব্যবহার করা শুরু করেছেন আফ্রিদী। এক রাতে আফ্রিদীর মোবাইলে অপরিচিত একটা নম্বর থেকে কল এলো, একটা নারীকণ্ঠ বললো, এক পার্টিতে আফ্রিদী নিজেই নাকি সেই তরুণীকে ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। কথা এগিয়ে যেতে থাকলো দুজনের।

এই ঘটনার উল্লেখ করে আফ্রিদী নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘বিয়ের আগে একটি মেয়ে আমাকে প্রায়ই ফোন দিত। তার কণ্ঠ ছিল বড্ড সুরেলা ও মিষ্টি। তখন মোবাইল ফোন মাত্র পরিচিতি পেয়েছে এবং খুব খরুচেও ছিল। তবুও ওই মেয়ের কণ্ঠ শোনার জন্য অঢেল টাকা খরচ করেছিলাম।’

শহীদ আফ্রিদীর আত্মজীবনীর মলাট

আফ্রিদী ভেবেই নিয়েছিলেন যে, এই মেয়ে হচ্ছে পার্টিতে তার নম্বর নিয়ে যাওয়া সেই সুন্দরী তরুণী। এভাবে কেটে গেল প্রায় এক মাস। আফ্রিদী ভাবলেন, ফোনের এপাশ থেকে ভালোবাসায় আর পোষাচ্ছে না, এবার দেখা হোক দুজনের। মেয়েটাকে বলতেই সে’ও রাজী হয়ে গেল। ঠিক হলো, আফ্রিদী যে হোটেলে উঠেছেন, সেখানেই হবে দেখা। মেয়েটাকে রুম নম্বর দিলেন তিনি।

কিন্ত এরপর যা ঘটলো, সেটার জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না আফ্রিদী। নির্দিষ্ট দিনে তার হোটেল রুমের বেল বেজে উঠলো। ছুটে গেলেন আফ্রিদী। কিন্ত দরজা খুলেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল তার! আফ্রিদীর ভাষ্যমতে- ‘বেল বাজার পর দরজা খুলে তাকিয়ে দেখি একটি ছেলে গোলাপ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যখন ছেলেটি বলল, ওই মেয়েলী কণ্ঠের অধিকারী সে নিজে, তখন আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। গত একমাস ধরে আমি মেয়ে ভেবে একটা ছেলের সঙ্গে কথা বলেছি, এটা ভেবেই আমি ভীষণ শকে চলে গিয়েছিলাম!’

এরকম বিনোদন আফ্রিদী ছাড়া আর কে’ইবা আমাদের দিতে পারতো বলুন?

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button