ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

নিখিলবঙ্গ বালিশ ব্যাখ্যা সমিতির বক্তব্য প্রসঙ্গে

আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের বালিশ ব্যাখ্যা সমিতি বাজারে চলে এসেছে। তারা এখন বুঝাচ্ছে যে এই দেশের শিক্ষিত লোকজন কিছু বুঝে না, তাই সরকারি কেনাকাটার নিয়মটা তারা আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এটা ভালো।

উনারা বলছেন যে মোট ব্যয় সমান থাকে, ঠিকাদার শুধু গড়ে একটা খরচ প্রত্যেকটা আইটেমে বসিয়ে দেয়। ধরা যাক, সব মিলিয়ে একটা ঘরের ডেকোরেশন খরচ ১ লাখ টাকা। সেখানে একসেট সোফা আছে, একটা এসি আছে, একটা টেবিল আছে এবং দুটো কাপ পিরিচ আছে। এখন মোট আইটেম হচ্ছে ( সোফা+এসি+টেবিল+কাপ-পিরিচ ২সেট)= ৮টি।
ঠিকাদার ১ লাখ টাকাকে ৮ দিয়ে ভাগ করে রেট বসিয়ে দিয়েছে, সুতরাং এখানে কাপ-পিরিচের প্রতি সেটের দামও সাড়ে ১২ হাজার টাকা, আবার এসির দামও সাড়ে ১২ হাজার টাকা। আপাত দৃষ্টিতে কাপ-পিরিচের দাম অনেক বেশি মনে হলেও আসলে যোগফলে সব সমান।
আচ্ছা, এখানে থামুন। এখন আমি মূর্খ মানুষ আপনাকে এই টেন্ডারের গোপন খেলাটা শেখাই।

এই সব টেন্ডার শুরুতে এভাবেই শুরু হয়। তখন ধরেন আপনি সৎ কন্ট্রাক্টর, ১ লাখ টাকায় এতো কিছু দিতে পারবেন না, সুতরাং আপনি অংশ নিবেন না। কিন্তু আরেকজন নিবে। তারপর টেন্ডার পাওয়ার পর মাঝপথে প্রকল্প সংশোধিত হবে। কারন যেহেতু ৫ সিটের সোফা, তাহলে ৫ জন লোক চা খাবে। সুতরাং কাপ-পিরিচ লাগবে ৫ সেট। এটা হচ্ছে সংশোধিত প্রকল্প।

তো, কাপ-পিরিচের রেট জানি কতো করে ধরা ছিল আগের টেন্ডারে? ঠিক জানেন, সাড়ে ১২ হাজার টাকা। সুতরাং এই সংশোধিত প্রকল্পে এখন অতিরিক্ত ৩ সেট কাপ-পিরিচের জন্য সাড়ে ১২ হাজার করে বিল ধরে দেয়া হবে। কিন্তু শুরুতেই যদি এটা করা হতো, তাহলে কিন্তু ১লাখ টাকায়ই সব হতো।

এই হচ্ছে ‘এভারেজ কোটেশন’ এর গেম, যেটা আমাকে আপনাকে মূর্খ ডেকে নিখিলবঙ্গ বালিশ ক্রয় সমিতি জানিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উচিত প্রশ্ন তোলা,

১. দেশের মোট কত ভাগ প্রকল্প পরে সংশোধিত হয়, এবং কেন হয়? কেন শুরুতেই এগুলো ঠিকঠাক করে টেন্ডার ডাকা হয় না?

২. মানলাম যে গড় বসাতে গিয়ে বালিশের দাম বেশি দেখিয়েছে। তাহলে নিশ্চয়ই আরো কিছু জিনিসের দাম অস্বাভাবিক কম দেখাতে হয়েছে? সেই আইটেমগুলোর নাম আর মূল্যের তালিকাটা আপনারা আমাদেরকে দেখান না কেন?

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button