অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

এই দশটি ফোবিয়াতে আপনিও আক্রান্ত নন তো?

কত ধরণের ভয়-ভীতি যে মানুষের মনে ভর করে! বিভিন্ন মানুষের রয়েছে বিভিন্ন রকমের ভীতি। মানুষের মনে ভয়-ভীতি থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন কারো ক্ষেত্রে, কোন ব্যাপারে এ ভয়ভীতির পরিমাণ চরম মাত্রায় পৌঁছে যায়, তখন তাকে আর স্বাভাবিক বলা যায় না। সেরকম অস্বাভাবিক মাত্রার ভীতিকে বলা হয় ফোবিয়া। ফোবিয়া অনেক ধরণের হতে পারে। আমরা অনেক ধরণের ফোবিয়ার কথা শুনি এবং জানি। কিন্তু, কিছু ফোবিয়া আছে যার ধরণ খুবই অদ্ভূত, কারণও। আমাদের আশেপাশের অনেকেই হয়তো এ ধরণের ফোবিয়ায় আক্রান্ত। তবু আমরা খুব কম মানুষই এসব ফোবিয়ার নাম জানি। নাম না জানা এমন খুবই কমন কিছু ফোবিয়ার কথা জানব আজ আমরা-

পেনটোফোবিয়া (Pantophobia)

পেনটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা নানা কারণে সবসময় ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে। কেন যে ভয় বা কিসের জন্য ভয় তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন্। সময় ও পরিস্থিতিভেদে ভয়ের কারণ বিভিন্ন হয়ে থাকে। সবকিছুতেই, সবসময়ই ভয় যেন তারা করে ফেরে এ ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষদের।

পেনটোফোবিয়া রোগটি পেনোফোবিয়া, পেনফোবিয়া বা অমনিফোবিয়া নামেও পরিচিত। ডাক্তারি পরিভাষায় এ ফোবিয়াকে ফোবিয়ার কোন নির্দিষ্ট প্রকারেরই অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। পেনটোফোবিয়ার প্রথম অংশ গ্রীক “পেনটো” শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ “প্রত্যেক”। ফ্রেঞ্চ সাইক্রিয়াটিস্ট থিওডুলে-আরম্যান্ড রিবো এ ফোবিয়া প্রথম আবিষ্কার করেন।

সোমনিফোবিয়া (Somniphobia)

সুস্থ থাকার জন্য ঘুম অপরিহার্য। অথচ এমন কিছু মানুষ আছে যারা ঘুমকে প্রচন্ড ভয় পায়। অস্বাভাবিক আর অযৌক্তিক রকমের এ ভয়কে বলা হয় ‍সোমনিফোবিয়া। ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখা বা ঘুমোলে সময় নষ্ট হতে পারে এমন অযৌক্তিক চিন্তা থেকে এ ফোবিয়ার উৎপত্তি ঘটে। আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক এবং শারীরিক অবস্থার উপর সোমনি ফোবিয়ার মারাত্বক প্রভাব পড়ে। সোমনিফোবিয়া হিপনোফোবিয়া বা ক্লিনোফোবিয়া নামেও পরিচিত। এ ফোবিয়া শুধু রাতের ঘুমের ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়ায়, দিনের ঘুমকে বাধাগ্রস্থ করে না।

ইউফোবিয়া (Euphobia)

ভালো খবর শোনার ভয়কে ইউফোবিয়া বলে। যখনই কোন নতুন খবর আসে, আমরা অনেকেই খারাপ খবেরের আশঙ্কায় ভীত হয়ে থাকি। ইউফোবিক মানুষদের জন্য ব্যাপারটা পুরো উল্টো। তারা সবসময় ভালো খবর শোনার ভয়ে ভীত থাকে।

অতীতে কোন ভালো সংবাদ শোনার পরেও যদি কেউ আশাহত হয়, তবে তা থেকে ইউফোবিয়ার উৎপত্তি হতে পারে। এ ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা জীবনের বিশৃঙ্খলতা আর খারাপ দিক নিয়েই চিন্তা করতে, কথা বলতে এবং অন্যদের কাছে শুনতে ভালোবাসে। তারা সবসময় উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এবং সেই সব ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকতে পছন্দ করে যারা সবকিছুর নেগেটিভ দিক নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে।

আবলুটোফোবিয়া (Ablutophobia)

আবলুটোফোবিয়া হলো পরিচ্ছন্নতা ভীতি, বিশেষত গোসল ভীতি। হাতমুখধোয়া, পরিষ্কার হওয়া বা গোসল করার প্রতি একধরনের অযৌক্তিক ভীতিই আবলুটোফোবিয়া। অস্বাভাবিক, নাছোড়বান্দা আর উদ্ভট এ ফোবিয়ার জন্ম হয় অতীত স্মৃতি থেকে। অতীত কষ্টদায়ক স্মৃতি, মানসিক প্রেসার, যন্ত্রনাদায়ক কোন অভিজ্ঞতা- এ সবই আবলুটোফোবিয়ার কারণ হতে পারে। মজার ব্যাপার হলো, যদিও পুরুষ মানুষরাই সাধারণত অপরিচ্ছন্ন প্রকৃতির হয়, তবু আবলুটোফোবিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। শিশুদের মধ্যেও এ ফোবিয়া দেখা যায়।

অর্টোগ্রাফোবিয়া (Ortographobi)

বানান ভুল হবার ভীতি। অর্টোগ্রাফোবিয়া শব্দটি ইংরেজি অর্থোগ্রাফি শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ, কোন ভাষার প্রচলিত বানান রীতি। সাধারণত লেখালেখিতে অদক্ষ ব্যক্তিরাই এ ফোবিয়ার শিকার হয়ে থাকে। লেখার ভুলে পরীক্ষায় খারাপ করা থেকে এ রোগের উৎপত্তি হতে পারে। অর্টোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বানান ভুলের ভয় এত বেশি যে, এর ফলে তাদের মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয় এবং সৃজনশীলতাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ফোবিয়া থাকলে লেখায় ভুলের পরিমান আরও বাড়তে থাকে। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে লেখায় বানান ভুল নিয়ে এই ফোবিয়া দূর করা যেতে পারে।

ডিয়োপনোফোবিয়া (Deipnophobia)

ডিয়োপনোফোবিয়া হলো সবাই একসঙ্গে বসে রাতের খাবার খাওয়া এবং রাতের খাবারের সময় কথাবার্তা বলা নিয়ে অহেতুক ভয়। লাজুক আর অন্তর্মূখী মানুষদেরই যে শুধু এ সমস্যায় আক্রান্ত হবার ভয় থাকে তা নয়। যে কোন ব্যক্তিই এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। রাতের খাবার খেতে গিয়ে অনেকের সামনে কখনও কোন লজ্জাজনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়লে, তার পর থেকে অন্যেদের সাথে রাতের খাবার খাওয়ার ব্যাপারে এ অযৌক্তিক ভীতির জন্ম হয়।

ভেনাসট্রোফোবিয়া (Venustraphobia/Caligynephobia)

সু্ন্দর মেয়েদের মুখোমুখি হবার ভয়কে ভেনাসট্রোফোবিয়া বলে। সুন্দরী মেয়েদের সামনে গেলে যদি কারো  হাত-পায়ের তালু অস্বাভাবিক ঘামতে থাকে, গলা শুকিয়ে যায়, বুক ধড়ফড় করতে থাকে এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের সামনে থেকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছা করে তাকে ভেনাসট্রোফোবিক বলা যেতে পারে। অনেক পুরুষরাই অযৌক্তিক আর বাড়াবাড়ি রকমের এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। কাছের মানুষদের সাপোর্ট এবং সময়মতো থেরাপি নিলে এ রোগ থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব।

এরগোফোবিয়া (Ergophobia)

এরগোফোবিয়া দুনিয়ার সব মানুষেরই কম-বেশি আছে বলা যায়। শুধু নামটাই হয়তো বেশিরভাগ মানুষের জানা নেই। দুনিয়াতে এমন কোন মানুষ নেই যে সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে যেতে পছন্দ করে। চাকরি খুঁজে বের করা এবং অফিসে যাওয়া নিয়ে অস্বাভাবিক রকমের ভয়ে অস্থির হয়ে থাকে এ ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা। যদিও আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই বোঝে কতটা অযৌক্তিক এ ফোবিয়া তবু তা থেকে সহজে বের হতে পারে না তারা।

নোমোফোবিয়া (Nomophobia)

নোমোফোবিয়া খুবই আধুনিক এক ধরণের ফোবিয়া। মানে, অতি সাম্প্রতিককালে, ২০১০সালে এ ফোবিয়াটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে। এটাকে নো মোবাইল ফোন ফোবিয়াও বলা যেতে পারে। কিছু মানুষ মোবাইল ফোন নিয়ে সবসময়ই অতিরিক্ত উদ্বেগের মধ্যে থাকে। মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলা, কোথায় ফেলে আসা, ব্যাটারিতে চার্চ শেষ হয়ে যাওয়া, নেটওয়ার্ক কাভারেজ না পাওয়া বিভিন্ন ধরণের ভয়ে ভীত থাকে নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা। মোবাইল ফোন নিযে এ ভয় বা উদ্বেগের পেছনে অনেক ধরণের কারণ থাকতে পারে। অনেকে গুরুত্বপূর্ণ কোন কল মিস করা, বিপদে পড়ার আশঙ্কা, হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকে।

ফোবোফোবিয়া (Phobophobia )

ফোবোফোবিয়ার ধরণটাই সব ফোবিয়ার মধ্যে বুঝি বেশি কিম্ভূত। এই যে এত সময় ধরে এত ধরণের ফোবিয়ার কথা বললাম, এসব ফোবিয়াকে অতিরিক্ত ভয় পাওয়াও একধরণের ফোবিয়া হিসেবে পরিচিত। একেই বলে ফোবোফোবিয়া। অর্থ্যাৎ ফোবিয়া অব ফোবিয়াস, ভয়কে ভয় পাওয়া।

তথ্যসূত্র- ওয়ান্ডার্সলিস্ট ডটকম

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button