সিনেমা হলের গলি

জিরো ট্রেইলার বিশ্লেষণ: যা হতে পারে সিনেমাতে!

কাল মুক্তি পেয়ে গেল শাহরুখের পরবর্তী সিনেমা ‘জিরো’র বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেইলার। ৩ ফুটের বাওয়া সিং-এর জাদু ইতিমধ্যে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক প্রশংসার জোয়ার। অনেকের মতে এটা কিং খানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের সিনেমা। তাহলে চলুন ট্রেইলারের একটু গভীরে গিয়ে জেনে আসি কী আছে সিনেমাতে। ট্রেইলার, টিজারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস থেকে শুরু করে অনলাইনে জিরো রিলেটেড সব কিছু রিসার্চ করে জিরোর গল্প এবং ট্রেইলার নিয়ে বিশ্লেষণ করতে যাচ্ছি।

জিরো ট্রেইলার বিশ্লেষণ:

বাওয়া সিং (শাহরুখ খান) ৩৮ বছর বয়সী ব্যাচেলর। সে বামন, তাই পাত্রী খুঁজে পায় না। ম্যারিজ কোম্পানির সূত্র ধরে আনুশকার খোঁজ পায়। কিন্তু দেখা করতে গিয়ে দেখে আনুশকা ফিজিকালি ডিজেবল। তবে ফিজিকালি ডিজেবল হলেও আনুশকা ভারতের বড় একজন বিজ্ঞানী, বলতে পারেন স্টিফেন হকিংয়ের ভারতীয় আপডেটেড মেয়ে ভার্শন! ধীরে ধীরে বাওয়া সিং তার প্রেমে পড়ে যায়। আনুশকাও একসময় তাকে ভালোবেসে ফেলে। তাদের বিয়ে ঠিক হয়। এরপর কাহিনীতে টুইস্ট নিয়ে আসেন ক্যাটরিনা, যিনি ফিল্মে ববিতা নামক এক বড় নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করছেন। বাওয়া অনেক আগে থেকেই ক্যাটরিনার বিরাট বড় ভক্ত, যাকে ক্রাশ বলা চলে আর কি! আনুশকার সাথে বিয়ের আগে তার ক্যাটরিনার সাথে দেখা হয়। বাওয়া সিংয়ের মজার মজার কথাবার্তা আর কিউট ব্যবহার ক্যাটরিনার ভালো লেগে যায়। ক্যাটরিনা তাকে তার সাথে নিউইয়র্ক আসতে বলে এবং ঠিক সেদিন তার বিয়ের তারিখও ছিলো।

একদিকে সারাজীবনের ক্রাশ তাকে নিউইয়র্ক আসতে বলছে, আর অন্য দিকে স্বল্প দিনের ভালোবাসা তার জন্য বিয়ের মণ্ডপে অপেক্ষা করছে, বাওয়া তখন ক্রাশকে বেছে নেয় এবং ক্যাটের সাথে নিউইয়র্ক চলে যায়। এর কিছুদিন পর আনুশকা নাসার কোনো কাজে নিউইয়র্ক আসে এবং এসে বাওয়া সিং-কে ক্যাটের সাথে দেখে। এরপর তাদের মুখোমুখি দেখা হয় এবং ক্যাটরিনা তাদের বিষয়ে সব কিছু জানতে পারে। তখন ক্যাট বাওয়া সিং-কে ধোঁকাবাজ বলে বের করে দেয় এবং বাওয়া সিংও বুঝতে পারে আনুশকা সাথে সে অনেক বড় অন্যায় করেছে। সে আনুশকার কাছে মাফ চাইতে গেলে আনুশকা রাগের মাথায় বলে আমার জন্য আকাশ থেকে তারা নিয়ে আসো, তবেই মাফ করবো।

বাওয়া সিং আনুশকার পেছনে কয়েকদিন ঘোরাঘুরি করার সময় জানতে পেরেছিলো যে নাসা থেকে মহাশূন্যে রকেট পাঠানো হচ্ছে। নাসার লোকজন ৩ ফিটের কোনো জীবকে মহাশুন্যে পাঠাচ্ছিলো, তখন বাওয়া সিং যেকোনোভাবে তাদের মানিয়ে নেয়। তার ছোট হাইটের কারণে সে রকেটে ভালোভাবে ফিট হচ্ছিলো। নাসার লোকেরা তার কাছ থেকে লুকাচ্ছিলো যে এটা সুইসাইড মিশন, কারণ কোনো মানুষ গেলে বেশি তথ্য পাঠাতে পারবে আর অন্যদিকে শাহরুখের মহাশূন্য নিয়ে কোনো আইডিয়া ছিলো না। এবং সেও তাদের কাছ থেকে লুকাচ্ছিলো যে আসলে সে আনুশকার কথা রাখার জন্য যাচ্ছে। এইসব ঘটনা আনুশকার অগোচরে হচ্ছিলো, বাওয়া সিং স্পেসে যাওয়ার পর আনুশকা জানতে পারে। এবার ছবি দেখলেই বোঝা যাবে আনুশকা কি বাওয়া সিং-কে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল? নাকি সে স্পেসেই আটকে গিয়েছিল!

ফার্স্ট হাফ ৭০% সিন আনুশকার সাথে আর সেকেন্ড হাফ ৭০% সিন ক্যাটরিনার সাথে। ট্রেইলারে ক্যাটের ক্যারেক্টার কিছুটা কম হাইলাইটেড হলেও ফিল্মে ক্যাটের ক্যারেক্টার অনেক গুরুত্বপূর্ন। ইন ফ্যাক্ট সবার আগে এই ফিল্মে ক্যাটরিনাকেই কাস্ট করা হয়েছিল। তাই তার ছোট ক্যারেক্টার হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

এই স্টোরিটা কেবলই আমার প্রেডিকশন। ট্রেইলার দেখে আর কিছু রিসার্চ করে আমার এমনটা মনে হয়েছে। ফিল্মে এর চেয়ে ভিন্নও হতে পারে। আর আমি অনেক ছোট করে বললাম, ফিল্মে প্লটের মধ্যে অনেক সাবপ্লট থাকে, কাস্টিংয়ে আরো অনেকে আছেন, সব কিছু ডিটেইলে দেওয়া থাকবে।

আরও পড়ুন- 

Comments

Tags

Related Articles