সময়টা ১৯৭১ সাল। একদিকে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের উপর চলছিল বর্বর নৃশংস আক্রমণ, অন্যদিকে ইয়াহিয়া মদ আর নারীর নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন করাচি, লাহোর, এলাহাবাদ কিংবা রাওয়ালপিণ্ডিতে হেরেমখানায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একের পর এক পরাজয়ের খবর তাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, বিষাদ আর হতাশ করে তুলছিলো। আর এ ‘দুঃসহ’ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি জেনারেল ইয়াহিয়া নারী আর মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন। এরপর যুদ্ধে পরাজিত হয় পাকিস্তান বাহিনী।

সাংবাদিক লেখক দেওয়ান বারিন্দ্রনাথের লেখা বই ‘প্রাইভেট লাইফ অব ইয়াহিয়া খান’, অনুবাদ করেছেন রাফিক হারিরি। এ বইয়ে উঠে এসেছে ইয়াহিয়ার যৌন দানব হবার গল্প। জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের কারণ উদঘাটনে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো হামুদুর রহমান কমিশন গঠন করেন। কমিশনের তৈরি করা বিস্তারিত প্রতিবেদনে ৭১ এর যুদ্ধ চলাকালে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়। এর অংশ বিশেষ বাংলায় তরজমা করলে যা দাঁড়ায় তা হলো, “আমাদের মহামান্য সাবেক রাষ্ট্র প্রধান যে কেবল প্রকাশ্যে নারীদের সঙ্গে মেলামেশা করেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাতেন তাই নয়, প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেই মদ্যপ অবস্থায় বুঁদ হয়ে থাকতেন দিনের বেশির ভাগ সময়।”

প্রেসিডেন্টের বান্ধবী যারা ১৯৭১ সালের বিভিন্ন সময় তার কাছে যাওয়া আসা করতেন তাদের একটি দীর্ঘ তালিকা (প্রায় ৫০০ জনের অধিক) হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন পাকিস্তানের আইজিপি পত্নী বেগম শামীম, এ এন হোসেন, বেগম জুনাগাদ, নূরজাহান বেগম, আকলিমা আক্তার রাণী, করাচির ব্যবসায়ী মনসুর হিরজির স্ত্রী, নাজলি বেগম, ঢাকার শিল্পপতি লিলিখান, ঢাকার আরেক সুন্দরী ধনকুবের লায়লা মুজামিমল, অভিনেত্রী শবনম, অভিনেত্রী সাগুফতা, নাগিমা, তারানা এবং আরো অন্যান্যরা। উচ্চ পর্যায়ের বেশ কিছু সেনা কর্মকর্তারা তাদের সুন্দরী বান্ধবী বা স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট বাসভবন কিংবা রংমহলে আসতেন। মদ্যপান করতেন আর স্ত্রী কিংবা বান্ধবীকে উপটোকন হিসেবে রেখে যেতেন ইয়াহিয়ার জন্য। আর ডিনারের পরবতী অধ্যায়ের জন্য ইয়াহিয়া বেছে নিতেন তার পছন্দের কোনো এক সৌভাগ্যবতীকে। এর বিনিময়ে তাদের স্বামীরা পেতেন প্রোমোশন কিংবা বিশেষ সুবিধা।

ইয়াহিয়া খান মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান আর লাগামহীন বিকৃত যৌন রুচিতে আসক্ত এক রীতিমতো বদ্ধ উন্মাদ ছিলেন। চারদিক থেকে যতো বেশী পরাজয়ের সংবাদ আসে, ততোই দিনদিন বেড়ে যেতে থাকে তার বিকৃতি। ইয়াহিয়ার কার্যক্রমের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বিবরণ দিয়েছেন পুলিশ বিভাগের রাওয়ালপিন্ডির বিশেষ শাখার সুপার সিএইচ সরদার। তিনি লিখেছেন:

“প্রেসিডেন্ট ভবন ছিল তখন বেশ একটা জায়গা। নানা মানুষজন আসছে। প্রেসিডেন্ট নিজে মাতাল আর রমণীমোহন। দেহপসারিনী আর তাদের দালালেরা তো বটেই, সমাজে মর্যাদাবান অনেকেই দেদারসে আনাগোনা করছে সেখানে। আকলিম আখতার, মিসেস কে এন হোসেন ও লায়লা মোজাফ্ফর ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। বহু নিন্দিত কিন্তু আকর্ষণীয় নারীও আসতো; তারা প্রেসিডেন্ট হাউস জুড়ে নাচতো, গাইতো, পান করতো। প্রেসিডেন্ট হাউসকে ওখানকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী বলতো কঞ্জরখানা, আর সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর বলতো ডাঙ্গরখানা। একবার ইরানের শাহ পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফরে এলে গভর্নর হাউসে ওঠেন। প্রেসিডেন্টও তখন সেখানে। শাহের বাইরে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট তখনো শয়নকক্ষ থেকে বেরোচ্ছেন না। প্রটোকল নিয়ে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিলো। কিন্তু কারও সেখানে যাওয়ার উপায় নেই। প্রেসিডেন্টের এম এস জেনারেল ইসহাক আকলিম আখতারকে বললেন তিনি যেন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে আসেন। আকলিম জেনারেলের মক্ষীরানী হিসেবে পরিচিতি ছিলেন— প্রেসিডেন্টের রানী, আদতে বেশ্যার দালাল। ঘরে গিয়ে দেশের সবচেয়ে খ্যাতিমান গায়িকার সঙ্গে প্রেসিডেন্টকে তিনি যে অবস্থায় দেখেন, তাতে তারই আক্কেল গুড়ুম। প্রেসিডেন্টকে তিনি নিজে কাপড় পরিয়ে নিচে নিয়ে আসেন। ফুর্তি করার জন্য ইয়াহিয়ার বহু বান্ধবী ছিল। এক সন্ধ্যায় তিনি চলে গেলেন মিসেস কে এন হোসেনের বাড়িতে, যাকে সবাই ‘কালো সুন্দরী’ বলে জানত…সবার অগোচরে প্রেসিডেন্ট সেখানে তিন দিন তিন রাত কাটিয়ে দেন। চতুর্থ দিন মিসেস হোসেনকে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় নিয়ে তিনি তাকে অভ্যন্তরীণ সজ্জাকরের স্থায়ী চাকরি দিয়ে দেন। তার স্বামীকে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত করা হয়। প্রেসিডেন্ট কেন তিন দিন তার বাড়িতে ছিলেন, এ নিয়ে পরে প্রশ্ন করা হলে মিসেস হোসেন বলেন, প্রেসিডেন্টকে তিনি বাংলা গান শিখিয়েছেন।”

উপরে উল্লেখিত মিসেস শামীম কে হুসেন হলেন সেই আলোচিত ব্ল্যাক বিউটি, তিনি আমাদের বাংলার মেয়ে। ইয়াহিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী বান্ধবী ছিলেন এই  ব্ল্যাক বিউটি, ইয়াহিয়ার হাই ক্লাস বান্ধবীদের মাঝে মনে হয় ইনিই ছিলেন সবচেয়ে উচ্চ মেধার এবং বিপদজনক। করাচী থেকে প্রকাশিত “আল ফতেহ” পত্রিকার জানুয়ারী ৫, ৭২ সংখ্যায় এনার সম্পর্কে বিস্তারিত খবর বের হয়। এই  ব্ল্যাক বিউটির স্বামী ছিলেন পুলিশের এসপি। ইয়াহিয়া ক্ষমতা নেবার পর ৬৯ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকায় গিয়ে এই মহিলার সাক্ষাত পান। পাঁচ সন্তানের জননী এই মহিলার রূপে মুগ্ধ হয়ে তিনি তার পুলিশ অফিসার স্বামীকে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দিতে পশ্চীম পাকিস্তানে নিয়ে আসেন। ইয়াহিয়ার সাথে মোলাকাতের আগেই ঢাকায় ইনি হাই ক্লাস সোসাইটি গার্ল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইনি একবার মার্কিন দূতাবাসের এক বন্ধুর আমন্ত্রনে মার্কিন মুলূকও সফর করে আসেন। ফলে ইয়াহিয়ার নেক নজরে পড়েন তিনি।

ব্ল্যাক বিউটি তথা বেগম শামীম ইয়াহিয়ার হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করেছিলেন। নভেম্বরে প্রেসিডেন্টের গেস্ট হাউস সরানোর আগ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রায়ই যাতায়াত করতেন। গেটে সংরক্ষিত সময়সূচি অনুযায়ী তিনি সন্ধ্যায় আসতেন এবং খুব ভোরে চলে যেতেন। মাঝেমধ্যে প্রেসিডেন্ট বেগম শামীমকে নিয়ে নৈশভোজের জন্য প্রেসিডেন্ট হাউস ত্যাগ করতেন এবং শেষ রাতে ফিরতেন। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জেনারেল ইয়াহিয়া খান তাকে নিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় বের হন এবং পরদিন বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ ফিরে আসেননি। ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট হাউসে তার দীর্ঘ সময়ের অনুপস্থিতি ছিল নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

মজার ব্যাপার হলো, সব সমালোচনা পাশ কাটিয়ে মিসেস শামীম কে এন হোসেন ও তার স্বামী কে এন হোসেন দুজনই প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রদূতের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। শামীমের বাবা বিচারপতি আমিন আহমদ ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি। তাকেও ইয়াহিয়া খান জাতীয় শিপিং করপোরেশনের চেয়ারম্যান করেন; যদিও তখন তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালানোর কোনো অভিজ্ঞতাও ছিল না।

ব্ল্যাক বিউটি আসলে সব অর্থেই ইয়াহিয়ার অন্য বান্ধবীদের তূলনায় স্বতন্ত্র। অন্যদের মত শুধু কিছু ব্যবসায়ীকে সুবিধে পাইয়ে দেবার বিনিময়ে টাকা বানানোই নয়, উনি ইয়াহিয়ার বান্ধবী হিসেবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরে প্রবেশ করতে সমর্থ হন। এমনকি তিনি বিশ্বব্যাপী পাকিস্তান ডিপ্লোম্যাটিক সার্ভিসের অফিসারদের বদলী ও প্রমোশন নিয়ন্ত্রন করতে শুরু করেন। ইয়াহিয়ার কাছে দিনে রাতে যখন খুশী ছিল তার অবাধ গমন। বলাই বাহুল্য যে এই কাজে তিনি হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমান অর্থ। তার ইংরেজী উচ্চারন ছিল নিখুঁত, শেক্সপীয়ার বায়রন নিয়ে আলাপ চালিয়ে যেতে পারতেন।

অনেক  বান্ধবী থাকলেও একমাত্র ব্ল্যাক বিউটির সাথেই ইয়াহিয়ার পারিবারিক পর্যায়ে যাওয়া আসা ছিল। ইয়াহিয়ার ২৫ বছর বয়ষ্ক বড় ছেলের সাথে ব্ল্যাক বিউটির ছেলেমেয়েদের ভাব জমে ওঠে। সে সময় অমানবিক আচরনের জন্য সব বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাবার পর পাকিস্তান ছিল চরমভাবে অর্থনৈতিক সংকটে, আমদানী কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বহুলাংশে। এর মাঝেও ব্ল্যাক বিউটির তরুনী মেয়ের জন্মদিনের উপহারের আবদার রক্ষা করতে ইয়াহিয়া প্রেসিডেন্টের ফান্ড ভেঙ্গে পশ্চিম জার্মানি থেকে ১ লাখ রূপী মূল্যের পিয়ানো আনিয়ে দিলেন। দু পরিবার এ সময় পিন্ডির হোটেল ইন্টারকনে ঘন ঘন গান নাচের পার্টিতে অংশ নিত।

ব্ল্যাক বিউটি যে আসলেই মেধাবী ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। “নয়া-ই-ওয়াক্ত” এমন খবরও বের করে যে ব্ল্যাক বিউটির প্রভাব ইয়াহিয়ার শেষের দিনগুলিতে এতই প্রবল ছিল যে, কিছু বিদেশী কূটনীতিক পররাষ্ট্র বিষয়ক আলাপ করার জন্য ফরেন সেক্রেটারী ও মন্ত্রী জেনারেল পীরজাদার পরিবর্তে ব্ল্যাক বিউটিকেই পছন্দ করত। ইয়াহিয়ার শেষ দিন পর্যন্তই এই মহিলা বিপুল বিক্রমে তার রাজত্ব চালিয়ে যান। ইয়াহিয়া অতীতের সব রেকর্ড ভংগ করে প্রথমবারের মত এই মহিলার স্বামীকে প্রেসিডেন্ট হাউজ়ের সিভিলিয়ান চীফ সিকিউরিটি অফিসার বানিয়ে দেন। এরপর তাদের প্রেমলীলার সুবিধার্থে ভদ্রলোককে অষ্ট্রিয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বানিয়ে পাঠিয়ে দেন। ভদ্রমহিলাকে ইয়াহিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অফিসার অন ষ্পেশাল ডিউটি পদ দেন। ইয়াহিয়ার সব প্রেমিকাদের মাঝে একমাত্র ইনিই ইংরেজীতে দক্ষ ছিলেন। ইয়াহিয়া রাতের বেলায় যেসব টপ সিক্রেট ফাইল দেখতে বাড়িতে নিয়ে আসতেন সেগুলি ব্ল্যাক বিউটিই যাচাই বাছাই করতেন। যুদ্ধের শেষ দিকে ইয়াহিয়া এমনকি তাকে সুইটজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ততদিনে তার নিজেরই রাজত্ব শেষ হয়ে যায়। সুইস সরকারও কেলেংকারীর কথা জেনে এই মহিলাকে রাষ্ট্রদূত পদে গ্রহনে অস্বীকৃতি জানায়।

ব্ল্যাক বিউটিকে কেন্দ্র করে ইয়াহিয়ার পারিবারিক অশান্তি হয় বলে লাহোরের “নয়া-ই-ওয়াক্ত” পত্রিকার মার্চ ৭২ সংখ্যায় খবর বের হয়। এই সংবাদ অনুযায়ী ইয়াহিয়ার বড় ছেলে ২৫ বছর বয়ষ্ক আলী ইয়াহিয়াও তার মায়ের বয়সী এই মহিলার প্রেমে পড়ে। সেও ঘন ঘন এই হোটেল ইন্টারকনের লাক্সারি সুইটে মহিলার আবাস স্থলে গমন করে নুতন কেলেংকারীর জন্ম দেয়। ব্ল্যাক বিউটির সন্তানেরা অবশ্য অন্য আরেকটি বাড়িতে থাকত। ডিসেম্বরের কোন এক শীতের ভোর রাতে বাবা এবং ছেলের সম্পূর্ন অপ্রত্যাশিতভাবে একই সাথে মহিলার দরজায় সাক্ষাত হয়ে যায়। ক্ষিপ্ত ইয়াহিয়া অগ্নিমূর্তি হয়ে তক্ষনাত ছেলেকে সেই স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন। ছেলে যেতে অস্বীকার করে তর্কাতর্কি শুরু করে। প্রত্যাক্ষদর্শীদের স্বাক্ষ্যানুযায়ী ইয়াহিয়া এক পর্যায়ে তার রিভলবার বের করে ছেলের দিকে তাক করেন। এই অবস্থায় ব্ল্যাক বিউটি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন, ছেলেকে চলে যেতে হয়।

দেশের একজন প্রেসিডেন্টের এভাবে কোন হোটেলে হানা দেওয়া বেশ অস্বাভাবিক ঠেকলেও ইয়াহিয়ার এই অভ্যাস ছিল সর্বজনবিদিত। এমনও ঘটনা আছে যে যুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ন মিটিং থেকে আচমকা তিনি এমন গোপন অভিসারে বেরিয়ে গেছেন।  ইয়াহিয়ার পতনের পরেও ব্ল্যাক বিউটি নতুন শাসক জোটের সাথে হাত মিলিয়ে বেশ কদিন দাপটের সাথেই রাজত্ব করে গেছেন, যদিও তার স্বামীকে অষ্ট্রিয়া থেকে দেশে ডেকে পাঠানো হয়। এ সময় তাকে পাকিস্তানের ক্লিওপেট্রা হিসেবে ডাকা হত। ১৯৭২ সালের আগষ্ট মাসে তিনি সপরিবারে পশ্চীম ইউরোপের কোন দেশে স্থায়ীভাবে চলে যান। তারা কখনো বাংলাদেশী কোন দূতাবাসে নাগরিকত্ব বা পাসপোর্টের আবেদন করেন বলে জানা যায়নি। একজন কালো সুন্দরীর প্রভাবে একজন জেনারেল ও প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন হাতের পুতুল; ভাবা যায়?

ছবি ও তথ্যসূত্র- dawn.com, amarblog, Wikipedia

Comments
Spread the love