শুধু মেয়েদের বেলাতেই কেন এরকম?

Ad

upoma

প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে মেয়েদের মুখে এসিড মারা হয়। খুন করা হয়। ধর্ষণ তো আছেই! এবার কোপানো হয়েছে। নতুন পদ্ধতি! তা বেশ!

আচ্ছা, প্রায়ই তো শুনি প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার কারনে মেয়েকে এই করা হয়েছে, সেই করা হয়েছে। কিন্তু কোন ছেলে যদি ফিরিয়ে দেয় তখন কেন এই-সেই করা হয় না? মেয়ে সম্পর্ক রাখতে না চাইলে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ছেড়ে দিবে বলে ভয় দেখানো হয়, কিন্তু কোন মেয়ে কেন কোন ছেলেকে এই হুমকি দেয় না?

আর মেয়ে যদি চলেই যায়, তাহলে তো ভিডিও ফাঁস, মেয়ের কেলেঙ্কারি- কখনো কখনো আত্মহত্যা! আচ্ছা ভিডিওর ওই মেয়েটার পাশে তো ছেলেটার নগ্নতাও দেখা যায়, তাহলে মানসম্মান শুধু মেয়েটার যায় কেন? কোনো মেয়ে কেন এই একই কাজ ছেলেগুলোর সাথে করে না? রিলেশন ভেঙ্গে গেলে ভিডিও ফাঁস করে দেয় না?

যৌতুক না পেলে মেয়েগুলোই মার খেয়ে যায়, ছেলেগুলো কেন তবু দাপট নিয়ে চলে? কোন সাহসে চলে? যৌতুকই বা চাওয়ার সাহস পায় কীভাবে! আজ পর্যন্ত মেয়েরাই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে এসিড খেয়েছে, ছেড়ে গেলে খুন হয়েছে। পর্ণ শুধু মেয়েগুলোরই বের হয়েছে, একটিও ছেলে ভিক্টিম কেন নেই? জানার বড় ইচ্ছা!

উত্তরটা আমি জানি? কিংবা আপনি? নাকি জেনেও আমরা না জানার ভান ধরে এড়িয়ে যাচ্ছি?

উত্তরটা কি এটাই নয় যে তুমি “ছেলে”, আমি “মেয়ে”? আমাকে বড় করা হয়েছে এসব বলে- এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না, ছেলেদের মতো চলা যাবে না! আমাকে বলা হয়েছে- তুমি মেয়ে মানুষ।কখনো কি মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে? আমাকে বাঁধা হয়েছে অদৃশ্য শেকল দিয়ে, ছেলেদের সাথে তর্ক করা যাবে না, তাদের মতো সাহস করা যাবে না। আমাকে শেখানো হয়েছে “লজ্জা নারীর ভূষণ’’, যেখানে একটা ছেলে বলা হয়  “সোনার চামচ বাঁকা হলেও সেটা সোনা!”

মানে সে যেমনই হোক সে ছেলে, তার তুলনা সোনার সাথে! আমার রূপ দেখা হয়, রঙ দেখা হয়, মুখের দাগ দেখা হয়, ছোট একটা তিলও ধরা হয়। আর ছেলে? তার কি কোন দোষ ধরা হয়? মেয়ের জন্য চরিত্র সবার উপরে। আর ছেলের জন্য? টাকা! যে মেয়ে লাখ টাকা কামাই করে তারও চরিত্র থাকতে হবে। আর ছেলেদের?

অনেকে তো বলেই বসে, “ছেলেদের একটু-আকটু দোষ ত্রুটি থাকেই। ওই সব দেখো না!” আমার সমাজে মেয়ে দাসী, আমার সমাজে বউ দাসী, আমার সমাজে মা দাসী, আমার সমাজে আমি দাসী! আর পুরুষ? ওরা কর্তাবাবু, অন্নদাতা, দেবতা মানে দেবতা! যে সমাজ আমাকে ছোট থেকে বড়ই করছে এত নিয়মশৃঙ্খলায়, সেই সমাজে আমি সাহস কোথায় পাব?

আমার শুধু একটু সাহস আর একটু মতবাদ ভিন্নের দরকার ছিল। সমাজ যদি আমার সাথে সাথে তাকেও বলতো “লজ্জা মানুষের ভূষন”, তাহলে আজ তাদেরও পর্ণ বের হতো। একটা মেয়ের নগ্নতার সাথে তার নগ্নতারও প্রশ্ন উঠতো। আজ যদি আমাকে সাহস দেয়া হতো, আমিও কাপুরুষগুলোকে জবাব দিতে পারতাম।যদি আজ নারীর রুপের দাম না থাকতো, ছেলেগুলো নারীদের টাকা দিয়ে কিনতে পারতো না। আমি মানুষ হতাম- মেয়ে মানুষ না, আমি অর্ধাঙ্গিনী হতাম- দাসী না!

আমাকে মেয়ে মানুষ থেকে মানুষ হতে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়। তোমরা বদলাও সমাজ, তোমরা নিজেদের বদলাও- আমাদের বদলাতে সাহায্য করো। সমান অধিকার কোনো সম্পত্তিতে চাইনি আমরা, সমঅধিকার মানসিকতায় চেয়েছি। সমধিকার দাও, বিচার করো, মানুষকে মানুষ বলো, ছেলে-মেয়ে বলো না। দেখবে এই নোংরামি কমবে, পশুত্ব কমবে। সাহস কমবে কিছু করার আগে, অন্তত দুইবার ভাববে। আর এই ভাবনাই হয়তো কমাবে অনেক অন্যায়। সময় বহু চলে গেছে, আর যেতে দিও না! একজন মেয়ে বলছি, একবার ভেবে দেখো!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
Ad

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

Ad