রিডিং রুমলেখালেখি

উই আর জাস্ট ফ্রেন্ডস!

সাকিব প্রথম মালিহাকে দেখে বসুন্ধরায়। মেয়েটা ফুডকোর্টে বসে কফি খাচ্ছিলো, সাথে একটা ছেলে। ছেলেটা মেয়েটার হাত ধরে বসে আছে, মাঝে মাঝে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছিয়ে দিচ্ছে। তারমানে সহজেই অনুমেয় যে তারা বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড। তারমানে মেয়েটা সিঙ্গেল না। অথচ সাকিবের বুকের মধ্যে ততক্ষণে কেমন কেমন অনুভূতি শুরু হয়ে গেছে। মস্তিষ্ক বলছে মেয়েটাকে তার চাই, যেকোনো মূল্যে। জীবনে অনেকবার ঐ কোমল হাতটা ধরতে হবে, অসংখ্য মুহুর্ত ঐ কাজল কালো চোখে চোখ রেখে কাটাতে হবে, ঐ পাতলা ঠোঁটে জড়ানো বহু লিপিস্টিকের ফ্লেভার চেক করতে হবে। আর ব্যাপারটা শুধু ‘করতে হবে’ না, ব্যাপারটা হলো ‘করতেই হবে’। তার জন্য প্রথম কাজ হলো মেয়েটাকে কোনোভাবে হারাতে দেয়া যাবে না। তার ঠিকানা, ফোন নাম্বার বা অন্ততপক্ষে ফেসবুক আইডিটা নিয়ে রাখতে হবে এখান থেকে চলে যাওয়ার আগেই।

সুতরাং সাকিব মালিহাদের টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। বসলো একটা চেয়ার টেনে।

– এক্সকিউজ মি স্যার এন্ড ম্যাম, আমি কি একটা কথা বলতে পারি?
– শিওর, বললো বয়ফ্রেন্ড ছেলেটা।
– আসলে আমি এসেছি নতুন একটা রেস্টুরেন্ট ক্যাম্পেইন থেকে। এটা শ্যামলি স্কয়ারে অবস্থিত। আমরা একটা কম্পিটিশনের আয়োজন করেছি, সেটা হলো ফেসবুকে আমাদের পেজে লাইক দিয়ে একটা কমেন্ট করতে হবে। কমেন্ট দাতার মধ্যে থেকে লটারিতে একজন পাবে পুরো একমাস কাপল সহ লাঞ্চ করার সুযোগ একদম ফ্রি।
– ওয়াও, মালিহা ছোটোখাটো চিৎকার দিলো। জোস তো। আমি অংশগ্রহণ করতে চাই।
– আচ্ছা আপনারা আপনাদের ফেসবুক আইডি বলুন আমি পেজের লিংক ইনবক্স করছি।
– হ্যা সার্চ দেন, মালিহা জামান বিন্তি আর আহনাফ আবীর।
– ওহ স্যরি ম্যাম, আমার ফোনের চার্জ শেষ। আই এম রিয়েলি স্যরি। আমি অফিসে গিয়ে আধাঘন্টার মধ্যে আপনাকে লিংক পাঠাচ্ছি। মেসেজ রিকুয়েস্ট চেক করবেন দয়া করে।

আধাঘণ্টা না, সাকিব ইনবক্স করলো একদম রাতের বেলা।

– কি, হিংসে হয়? আমার মত হতে চাও?
– হোয়াট? কে আপনি? আপনাকে ঠিক চিনলাম না তো!
– এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে হবে? সকালে, ফুডকোর্টে, লাঞ্চ অফার!
– ও আচ্ছাহ, আপনি? সেই লিংক কই?
– ধুর, কিসের লিংক। ওসব ফালতু কথা।
– তাহলে যে তখন বললেন।
– ওটাতো ট্রিক্স ছিলো। আপনার এফবি আইডি নেয়ার জন্য।
– ওয়াও, সিরিয়াস! আপনি তো মহা ধুরন্ধর দেখা যাচ্ছে।
– এজন্যই তো বললাম, হিংসে হয়? আমার মতো চালাক হতে চাও?
– ইস, তো আমার আইডি নিয়ে কি হবে?
– কিছুনা, তোমার সব পোস্টে জাস্ট নাউতে ‘সহমত ভাই’ লিখে কমেন্ট করবো।
– মজা নিয়েন না প্লিজ। কি চান বলুন তো!
– কিছুনা, একটু পরিচিত হতে চাই।

পরের সপ্তায় আবারো বসুন্ধরা, আবারো ফুডকোর্ট, আবারো মালিহা-আবীর। সাকিব দূর থেকে দেখছে তারা বার্গার খাচ্ছে। এবার আর মালিহা তার অপরিচিত না। গত একসপ্তায় অনেক কথা হয়েছে। হয়েছে পরিচয়। সুতরাং এবার গিয়ে যখন ওদের পাশের চেয়ারে বসলো তখন কথা শুরু করলো মালিহাই।

– হাই সাকিব। এখানে কি মনে করে?
– এমনিই আসলাম আরকি, কোনো কারন নেই।

মালিহার বয়ফ্রেন্ড আবীরের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে রেগে গেছে, ‘এক্সকিউজ মি, আপনাকে কোথায় দেখেছি বলে মনে হচ্ছে। কে আপনি?’

– সিরিয়াসলি! আমি তো কলিকাতা হারবালের হোম ডেলিভারি বয়! তারমানে! ওহ শিট।
– হোয়াট!
– হাহাহা, আয়াম জোকিং।

হাসলো মালিহাও।

সাকিব জাস্ট মেয়েটাকে দেখতেই এসেছিলো, কিন্তু এই হাসি দেখে আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না। তার কি থেকে কি হয়ে গেলো সে নিজেই জানে না। ঝড় বয়ে গেলো বুকের মধ্যে। সেই ঝড়ে এলোমেলো হয়ে গেলো হৃৎপিন্ডের সবগুলো অলিন্দ।

সাকিব মালিহার দিকে চেয়ে কোমল গলায় বললো, ‘দেখ মালিহা আমাদের জীবনটা খুব ছোট। আর এই ছোট্ট জীবনে আমরা যাকে চাই, বেশিরভাগ সময় আমাদের আর তাকে পাওয়াই হয় না কখনো। তারচেয়ে বেশি সময়, আমাদের হয়তো চাওয়ার কথাটা তাকে বলাই হয় না। হয়তো সে বিবাহিত থাকে, হয়তো তার ভাই মাস্তান থাকে, হয়তো তার বয়ফ্রেন্ড থাকে, কত কত বাধা। কিন্তু আমার মনে হয় হাজার বাধা থাকলেও একবার অন্তত তাকে এই পেতে চাওয়ার কথাটা জানানো উচিত। এই ছোট্ট জীবনে এতো ভয় পেয়ে কি হবে বলো!’

মালিহা অবাক হয়, ‘তুমি ঠিক কি বলতে চাচ্ছ সাকিব?’ সাকিব হঠ্যাৎ করে সামনের চেয়ার সরিয়ে হাটুগেড়ে বসে পড়ে। কাপা কাপা গলায় উচ্চারণ করে, ‘মালিহা, উইল ইউ বি মাই জাস্টফ্রেন্ড, প্লিজ।’

মালিহা একবার আবীরের দিকে একবার সাকিবের দিকে তাকালো। মনে হলো কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তারপর দুই হাত দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিজের মুখ চেপে ধরে উপর নীচ মাথা নাড়লো।

সাকিব চোখ নাচালো,

– ইয়েস অর নো বলো।
– ইয়েস, ইয়েস, ইয়েস। বুদ্ধু!

আবীরের হাত থেকে কফির কাপ ছিটকে পড়ে কয়েক টুকরো হয়ে গেল।

(এক মাস পর)

মালিহা হুটহাট রেগে যায়। এবারো রাগলো। আবীরের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়েই রাগটা ঝাড়ার চেষ্টা করলো। তারপর একটু শান্ত হয়ে বললো, ‘দেখ আবীর, তুমি আমার বয়ফ্রেন্ড ঠিক আছে। আমি তোমাকে বিয়ে করবো কথা দিয়েছি এটাও ঠিক আছে। কিন্তু তোমাকে তো বুঝতে হবে সাকিবের সাথে আমার জাস্টফ্রেন্ডের সম্পর্ক। সো ওর গুরুত্ব আমার লাইফে সবচাইতে বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। তোমার ভালো না লাগলে তুমি ব্রেকাপ করে ফেলতে পারো। কিন্তু জাস্টফ্রেন্ডের মত সুযোগ সুবিধা আমি তোমাকে দিতে পারবো না।’

আবীর কিছু একটা বলতে গিয়েও বললো না শেষমুহুর্তে। জানে বলে কোনো লাভ হবেনা। মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। কোনো মেয়ের জাস্টফ্রেন্ড হওয়ার মত কোনো যোগ্যতাই ওর মধ্যে নেই। সাকিবের সবকিছু আছে। সাকিব বুয়েটে পড়ে, সাকিবের বাবা বড়লোক, সাকিব দেখতে হ্যান্ডসাম; যেকোনো মেয়েই স্বপ্নে ঠিক যেমন জাস্টফ্রেন্ড দেখে সাকিব তেমনই। আর আবীরের মধ্যে নেই এই একটাও। কোনো মেয়েই ওকে জাস্টফ্রেন্ড হিসাবে গ্রহন করবে না এ জীবনে। বড্ড আফসোস হয় ওর। কিছু ছেলে, মেয়েদের জাস্টফ্রেন্ড হওয়ার কি অদ্ভুত ক্ষমতা নিয়েই না জন্মায়। আবীরের কোয়ালিটির মধ্যে একটাই যা আছে তা হলো চরিত্র। চরিত্র দিয়ে শুধুমাত্র কারো বয়ফ্রেন্ড হওয়া যায়, আবীর তাই ই হয়েছে। বয়ফ্রেন্ড অনেকটা গ্যালারিতে বসা দর্শকের মত। মাঠে যারা খেলে তারা অন্য। তারা জাস্টফ্রেন্ড।

ভাবতে ভাবতেই কল আসলো মালিহার ফোনে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মালিহার রাগান্বিত মুখের সহাস্য পরিবর্তনই বলে দিচ্ছে কলটা আর কারো নয়, সাকিবের।

ফোন রিসিভ করেই মুখ দিয়ে বেড়ালের মত আদুরে একটা শব্দ উচ্চারণ করলো মালিহা,

– উমমমমমমমমম, হুউউউউ, ম্মম্মম্ম…

ওপাশের কিছু শোনা যাচ্ছে না। আবীর শুধু মালিহা যা বলছে তাই’ই শুনছে।

– যাহ দুষ্টু। এখন না। খালি বেশি বেশি। শখ কত, ইশ! দিন দুপুরে আমি তোমাকে ঐসব দেব। আসছে! হুহ, অশ্লীল হয়ে যাচ্ছে দিনদিন ছেলেটা। ডার্টি মাইন্ডেড ফিলো। দুষ্টু ছেলে, দুষ্টু দুষ্টু চিন্তা করে। মাথার মধ্যে দুষ্টু চিন্তা ভরা। খালি উমমমমাহ, আর একটা জিনিস পারে, শুধু ঐটা। উমমম। (হাসি)
– ধ্যাৎ আর যাওয়া যাবে না। তোমার বন্ধুর ফ্লাট অনেক নোংরা থাকে। রুমে রুম স্প্রে থাকে না, বাথরুমে অডোনিল দেয়া না, দূর্গন্ধ। ইয়াক!
– তোমার তো সবসময়ই মুড থাকে এসবের। তোমার মত এই জিনিসের কাঙাল আমি আর দেখিনি। আচ্ছা আমি বলছি যে আর দিব না? ধুর তুমি মজাই বুঝ না।

কথা শুনতে শুনতে আবীরেরই দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলো। গায়ের লোম আরকি! অথচ আজ বয়ফ্রেন্ড বলে হাত ধরার বেশি কিচ্ছু এলাও নেই ওর জন্য। ওর জন্য সেই পুরাতন ডায়ালগ, ‘এখন না বিয়ের পরে।’

বিয়ের আগে তো জাস্টফ্রেন্ড আছে। পরের জন্মে ও কারো জাস্টফ্রেন্ড হবে, বয়ফ্রেন্ড না, ভাবে আবীর।

ফোন রেখে মালিহা আবীরকে বলে, ‘আমাকে একটু বাইরে যেতে হবে। তুমিও বাসায় চলে যাও।’

– না প্লিজ। আমি তোমাকে মিস করবো। এখন থাকতে চাই তোমার সাথে আরেকটু।
– ওলে বাবুতালে, কপট ঢং করে মালিহা। বিয়ের পর তো সারাদিন আমার সাথেই থাকবা। এখন একটু সাকিবকে টাইম দেই, প্লিজ?
– তো তুমি সাকিবকেই বিয়ে করে ফেল না!
– হোয়াট দ্যা এফ। এইটা তুমি একটা কথা বললা আবীর? ও আমার বয়ফ্রেন্ড না, ও আমার জাস্টফ্রেন্ড। তুমি জানোনা জাস্টফ্রেন্ডের সাথে বিয়ে জায়েজ না। তাছাড়া আমি তোমাকে ভালোবাসি, ওকে কেন বিয়ে করবো। আশ্চর্য!

আবীর আর কথা বলে না। মালিহা যাওয়ার আগে বলে, ‘আবীর তুমি রাতে তোমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড টা দিও তো!’

– কেন?
– কেন মানে কি? আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড না? দেখবো কয়টা মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করো। সব ছবিতে ভাবনা নামের যে মেয়েটা লাভ দেয় ও কে, হুম?
– বোন হয় তো।
– বোন না? তোমার বোনগিরি আমি আজ রাতেই ছুটাবো। এখন যাচ্ছি, টাটা। সিএনজি ভাড়া দাও।

মালিহার চলে যাওয়া দেখে এবার শব্দ করেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবীর। সব প্যারা বয়ফ্রেন্ডের, সব খরচ বয়ফ্রেন্ডের, আর বাকি সব সুযোগ সুবিধা জাস্টফ্রেন্ডের। জাস্টফ্রেন্ড প্রজাতিটার জন্য হিংসে হয় ওর। অনেক হিংসে হয়।

(এক বছর পর)

আবীর একুশটা ঘুমের ঔষধ সামনে নিয়ে বসে আছে। কিন্তু খাওয়ার সাহস হচ্ছে না। তবে খেতে ওকে হবেই। মৃত্যু ছাড়া এই তীব্র কষ্ট সহ্য করা সম্ভব না ওর পক্ষে। কষ্টের কারণ আজ মালিহার বিয়ে। আবীরের সাথে না অবশ্যই। মালিহার বাবাকে পটানোর মত যথেষ্ট কোয়ালিফিকেশন ছিলো না ওর। তাই মালিহার বাবা একটা ভালো বিসিএস ক্যাডার জোগাড় করে এনেছে। বিয়ের পর কত স্বপ্ন ছিলো ওর, তার কিচ্ছু হলো না। জীবনটা বড্ড নিষ্টুর। এতোটুকু একটা জীবনে ভালোবাসার মানুষটার পাশেই থাকা হয় না আমাদের। এই জীবন রেখে আর লাভ কি তাইলে। পানি দিয়ে ঘুমের ঔষধগুলো একটা একটা করে গিলে ফেলতে শুরু করে আবীর।

সাকিব আরেক প্লেট কাচ্চি নেয়। খাবারটা বেশ হয়েছে। কোন বাবুর্চি রেঁধেছে কে জানে! খুব আনন্দ হচ্ছে ওর। জাস্টফ্রেন্ডের বিয়ে বলে কথা। অবশ্য আবীরের জন্য একটু কষ্টও হচ্ছে। বেচারা! কি করছে কে জানে! সুইসাইড না করলেই হয়। এজন্যই ও কারো বয়ফ্রেন্ড হতে চায় না। জাস্টফ্রেন্ডই ভালো। জাস্টফ্রেন্ডে নো ছ্যাকা, নো ব্রেকাপ, নো কষ্ট। অনলি খাওয়া খাওয়ি ইজ রিয়েল। মানে বিরিয়ানি আরকি! আরেক টুকরো মাংস মুখে দেয় ও। আসলেই বেস্ট হয়েছে খেতে।

হাড় চিবুতে চিবুতে পাশের টেবিলে চোখ যায়। সেইরকম একটা সুন্দরী মেয়ে বসে আছে। নীলের মধ্যে কালো পাথর বসানো চুড়িদারে অপূর্ব সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে। সাকিব জাস্ট চোখ ফেরাতে পারছে না। মনে হচ্ছে এই মেয়েকে না পেলে জীবন বৃথা। এই মেয়েকে পেতেই হবে, যেকোনো মূল্যে। জীবনে অসংখ্যবার ঐ কালো চুলে নাক ডুবিয়ে ঘ্রান নিতে হবে, অনেকটা পথ ঐ ফর্সা পায়ে পা মিলিয়ে হাটতে হবে, ঐ বুকে মাথা রেখে বহু ক্লান্ত দুপুরে ভাতঘুম দিতে হবে। আর ব্যাপারটা শুধু ‘দিতে হবে’ না, ব্যাপারটা হলো ‘দিতেই হবে’।

খাওয়া শেষ করে সাকিব মেয়েটার সামনে গিয়ে বললো, ‘একটা কথা বলি?’

– হ্যা শিওর।
– দেখ আমাদের জীবনটা খুব ছোট। এই ছোট্ট জীবনে আমরা যাকে খেতে স্যরি পেতে চাই তাকে আমাদের কখনোই খাওয়া, ইয়ে মানে আই মিন, পাওয়া হয় না। বেশিরভাগ সময়..!

হাত উচু করে সাকিবকে থামিয়ে দিলো মেয়েটা। মুচকি হাসলো। বললো, ‘স্যরি। অলরেডি আই হ্যাভ এ জাস্টফ্রেন্ড।’

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close