জেনেশুনে নেশার বিষ বিক্রেতাদের মতোই ক্ষতিকর আরেকটি শ্রেণী আছে যারা অগোচরে খাদ্যে বিষ মিশানোকেই পেশা বানিয়ে ফেলছে। এই পেশাজীবিরা এখন স্বস্তিতে নেই, প্রতিদিনই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং সফলভাবে উঠে আসছে তাদের মুখোশের আড়ালের গল্প।

ভেজালবিরোধী অভিযান হয়ত এতোটা আলোচিত হচ্ছে না কিন্তু গত কয়েকদিনের অভিযানের ফলাফল খেয়াল করলে আঁতকে উঠতেই হবে। কাদেরকে হাতে নাতে প্রমাণ সহ ধরা হচ্ছে? কাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছে? ঢাকায় ভেজালবিরোধী অভিযানে সবচেয়ে বেশি জরিমানা দিচ্ছে নামি দামি রেস্টুরেন্টগুলো! যেসব রেস্টুরেন্টে যেয়ে চেকইন দেয়াটাকে ইদানিংকালে মানুষ বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় মনে করে ওই রেস্টুরেন্টগুলোর অন্ধকার অন্দরমহলের খবর এখন বের হচ্ছে।

বেকারির উচ্ছিষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট দিয়ে কাবাব ও হালিম তৈরি করায় রাজধানীর বেইলি রোডের বিখ্যাত ফখরুদ্দিন বিরিয়ানিকে এই রমজানে গুনতে হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। ভেজাল আর পঁচা খাদ্য বিক্রির দায়ে আরেক বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট দিল্লি দরবারকে দিতে হয়েছে ২ লাখ টাকা জরিমানা। ধানমন্ডির কেএফসি পোড়া তেলে তাদের খাবার বানায়, জীবাণুযুক্ত পানি ব্যবহার করে খাবারে এই অপরাধে তাদের জরিমানা হয়েছে এক লাখ টাকা। এছাড়া তাদের ইনভয়েসে দেখা যায়, যে চিকেন ৩১ টাকায় কেনা সেটা বিক্রি করছে ১৩৯ টাকায়!

চকবাজারে “বড় বাপের পোলায় খায়” বিক্রেতা দিয়েছেন ২০ হাজার টাকা, নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করা, দূর্গন্ধময় খাবার বিক্রি করা ইত্যাদি অভিযোগে জরিমানা করা হয়। মিষ্টি খেতে যাবেন? সেখানে আস্থার ব্র‍্যান্ডগুলো আস্থা হারিয়ে ফেলছে। মাত্র কয়েকদিন আগে রস মিষ্টিকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে! কারণ? মিস্টির মধ্যে তেলাপোকা ও মাছি সাতার কাটছে। কিছু মিষ্টিতে ফাঙ্গাসও উপস্থিত। মিস্টিসহ অন্যান্য খাদ্য পণ্য তৈরিতে অপরিশোধিত পানি মিশানো হচ্ছে খেয়াল খুশি মতো, আর কারখানার চিত্র! সেটা না দেখাই ভালো।

ভাবছেন গ্লোরিয়া জিনসে চেক-ইন দিবেন আর কফি খাবেন? এখানেও সমস্যা। এই বিখ্যাত শপটি শুধু কফি বানায় না, লোগোও বানায়। বিএসটিআই এর নকল লোগো লাগিয়ে সয়া সস, ভিনেগার, ব্রাউন সুগার সহ কিছু পণ্যে তারা ব্যবহার করে। আবার কিছু পণ্যে বোনাস হিসেবে পাওয়া যায় ছত্রাক। তাদের জরিমানা হয়েছে টোটাল তিন লাখ টাকা!

সুপারশপে যাবেন চিন্তা করছেন? সেদিকেও রক্ষা নাই। প্রতারণার জাল ফেলে বসে আছে চকচক করা সুপারশপ গুলো। আগোরা, মীনা বাজার, স্বপ্ন কেউই বাদ নেই। পঁচা মাছ, পঁচা মাংস বিক্রি, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিজেদের মর্জিমাফিক মেয়াদের লেবেল বসানো, রেটের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি, বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়াই তাদের লোগো ব্যবহার করা- এমন সব অভিযোগে এই সুপারশপ গুলো জরিমানা গুনছে প্রায়ই। কাকে বিশ্বাস করবেন তাহলে?

এই হাউজগুলোতে আমরাই যাই, আমাদের পরিবারের মানুষগুলো যায়, পাশের ঘরের মানুষগুলোই যায়। আমরা তাদের বিশ্বাস করেছি। খানিকটা দাম বেশি নিচ্ছে এটা বুঝতে পেরেও আমরা এইসব জায়গায় কেনো যাই? কারণ, একটা আস্থা তাদের প্রতি। আর কোথাও না হোক এরা আমাদের পরিচ্ছন্ন খাবার উপহার দেবে, আর কেউ না হোক এরা অন্তত টাটকা মাছ মাংস বিক্রি করবে। এই যদি তাদের অবস্থা হয় তাহলে লোকে বিশ্বাস করবে কাকে?

তাই বলে কি আমরা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিবো? এইসব নামিদামি ব্র‍্যান্ডগুলোকে এড়িয়ে চলবো? সেটা খুব ভালো সমাধান নয়।

এইসব ব্র‍্যান্ডগুলো আমাদের বিশ্বাস অর্জন করেই যেহেতু ব্র‍্যান্ডভ্যালু তৈরি করেছে, তাই বিশ্বাস যেনো তারা ভাঙতে না পারে এজন্যে আমাদেরও কিছু করণীয় আছে। খাবারের সর্বোচ্চ মান ঠিক আছে কি না সেটা খেয়াল রাখতে হবে। মেয়াদ আছে কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নির্ধারিত মূল্যের বেশি রাখছে কি না দেখতে হবে। যদি এ ধরণের ভেজাল কিছু নজরে পড়ে সেক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ জানানো আপনার কর্তব্য।

অনেকেই ভাবতে পারেন অভিযোগ জানিয়ে কি হবে, কে সমাধান করবে। তাদের জন্য বলি, ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি হয় এবং আপনার অভিযোগ সত্য হলে তার ভিত্তিতে যে জরিমানা করা হবে তার ২৫ ভাগ অর্থ আপনাকে দেয়া হবে।

অভিযোগ জানানোও সহজ। অনলাইন, এপসের মাধ্যমে এখন অভিযোগ জানানো পাঁচ মিনিটের কাজ।

কিভাবে জানাবেন অভিযোগ?

  • অনলাইনে অভিযোগ

অনলাইনে অভিযোগের ফর্ম পূরণের লিংক (লিংকে ঢুকতে ক্লিক করুন)

  • এপসের মাধ্যমে অভিযোগ

প্লে-স্টোরে ভোক্তা অধিকার টাইপ করলে বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে ৪ এমবি ফাইল সাইজের অ্যাপটি। যেখানে অভিযোগের অপশনে গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ফরম পূরণ করা যাচ্ছে। মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে পণ্যের ভাউচারের ছবি যোগ করে দেওয়া যায় এতে। এরপর অভিযোগকারীর তথ্য পূরণ করেই তা পাঠিয়ে দেওয়া যাচ্ছে। সবমিলিয়ে এভাবে অভিযোগ দিতে সময় লাগে ৫ মিনিটের মতো। এন্ড্রোয়েড এপসটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

দেশের প্রতি আমাদের অভিযোগের শেষ নেই, কিন্তু শুধু বড় বড় দীর্ঘশ্বাস না ফেলে সঠিক জায়গায় অভিযোগ দিয়েই দেখুন না! পরিবর্তন আসবেই।

*

এগিয়ে চলোর এই ১০০% কটন, ১৬০ জিএসএমের প্রোডাক্ট পেতে কল করুন এই নাম্বারে- 01670493495 অথবা অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করে ফেসেবুকে ম্যাসেজ করুন।

Comments
Spread the love