রাজধানীর উত্তরায় নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে এক সিরিয়াল কিলার। ইতিমধ্যে চারটি আক্রমনের ঘটনায় তিনজন নিহত এবং একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন, যাদের সকলেই মধ্যবয়সী নারী! সবগুলো হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণখান এলাকায়। উত্তরা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

তিন মাসের ব্যবধানে চারটি আক্রমনের ঘটনার পর এলাকাবাসী বেশ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। প্রথম হত্যার ঘটনা ঘটে ২৪ জুলাই, শাহিদা বেগমের বাসায় একজন মধ্যবয়সী পুরুষ আসেন বাসা ভাড়া নেওয়ার অজুহাতে। কথাবার্তার পর লোকটি অ্যাপার্টমেন্ট ঘুরে দেখাতে বলেন শাহিদা বেগমকে। পরবর্তীতে খালি অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে লাশ পাওয়া যায় ভদ্রমহিলার।

প্রথমে মনে করা হয় ডাকাতি এবং একটি সাধারণ হত্যাকান্ড, যেহেতু খুনী স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গিয়েছিল ভদ্রমহিলার। কিন্তু এরপরে ২১ আগস্ট  ও ৩১ আগস্ট একই কায়দায় দুইটি আক্রমণের ঘটনার পর তা আর সাধারণ হত্যাকান্ড হিসেবে নয়, দেখা হচ্ছে সিরিয়াল কিলিং হিসেবে। অবশ্য ৩১ আগস্টের আক্রমনে জেবুন্নেসা চৌধুরী বেঁচে যান; তিনি মারাত্মক আহত হন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তার চোখ দুইটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সর্বশেষ সন্দেহভাজন সিরিয়াল কিলারের খুন করেন ৭ সেপ্টেম্বর ওয়াহিদা আক্তার নামের মধ্যবয়সী নারীকে। তার মরদেহ পাওয়া যায় ফাকা অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে।

চারটি আক্রমনের মধ্যেই ব্যাপক মিল রয়েছে, সবাই মধ্যবয়সী নারী, ফ্ল্যাটের মালিক, বাসা ভাড়া দেওয়া হবে এমন নোটিশ ছিল তাদের ফ্ল্যাটে, ক্ষত দেখে ধারণা করা হচ্ছে ব্যবহার করা হয়েছে চাপাতি। তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে সন্দেহভাজন একজন ৩০-৩৫ বছরের পুরুষ। প্রতিটি ঘটনার শুরু ভাড়া দেওয়া হবে এমন অ্যাপার্টমেন্ট দেখার মাধ্যমে এবং নিহতে লাশ পাওয়া যায় শেষ পর্যন্ত খালি অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিশ্লেষণের পর পুলিশের ধারণা সবগুলো হত্যা করেছে একজনই এবং সন্দেহভাজন মানসিকভাবে অসুস্থ। কোন কারণে ফ্ল্যাট মালিক নারীদের প্রতি প্রচন্ড বিদ্বেষ রয়েছে লোকটির। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী সন্দেহভাজন সিরিয়াল কিলার বেশ পরিপাটি, স্যুট পরিহিত এবং কাধে অফিস ব্যাগ নিয়ে ফ্ল্যাট দেখতে আসেন। সম্ভবত হত্যার অস্ত্র চাপাতি তার অফিস ব্যাগে থাকে এবং ফাঁকা জায়গায় সুযোগ বুঝে আঘাত হানে।

উত্তরা পুলিশ কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রানজিশনাল ইউনিটের সাথে মিলে তদন্ত করে যাচ্ছে এবং চেষ্টা করছে সন্দেহভাজন খুনীকে ধরতে। একই সাথে কাজ করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও র‍্যাব, প্রশাসন চেষ্টা করছে নতুন কোন হত্যার পূর্বেই এই সিরিয়াল কিলারকে ধরতে। পুলিশ মনে করছে খুনী এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। সিসিটিভির ফুটেজে অবশ্য সন্দেহভাজনের চেহারা পরিষ্কার বোঝা যায়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে তারা চেষ্টা করছে ফুটেজ থেকে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার সাহায্য নিয়ে খুনীর একটি ছবি তৈরি করতে।

উত্তরার দক্ষিণ খান বাসিন্দাদের মনে বিরাজ করছে ‘ল্যান্ড লেডি’-কিলারের তীব্র আতঙ্ক, দরজায় এক একটি ধাক্কাও তাদের মনে প্রচন্ড ভয়ের সৃষ্টি করছে। সতর্কতা হিসেবে অনেকেই মূল দরজায় লোহার গ্রিল লাগিয়েছে। বাড়ির গার্ডদের আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালে ঢাকার উত্তর খান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাবু মন্ডল বা পিচ্চি বাবু নামের একজন সিরিয়াল কিলারকে যার বিরুদ্ধে ৭ জন নারী হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে গ্রেফতার হয় রাসু খা নামের একজন সিরিয়াল কিলার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বছর তাকে মৃত্যদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। রাসু খার বিরুদ্ধে ১১ জন নারী হত্যার অভিযোগ রয়েছে, এসব হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছিল টঙ্গী ও সাভার অঞ্চলে। বাংলাদশে সিরিয়াল কিলার সচরাচর খুব একটা দেখা যায় না, তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আলোচিত সবগুলো সিরিয়াল কিলারের মূল লক্ষ্য ছিল নারীরা।

তথ্যসূত্র- Serial killer on the loose in Uttara? (Dhaka Tribune)

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো