ইমরানা কবির হাসি আর রকিবুল হাসান দম্পতি যাচ্ছিলেন ছুটিতে ঘুরতে। রকিবুল হাসান স্পটডেড, ইমরানা কবির হাসি আছেন আইসিইউ’তে; একটা চ্যানেলের সূত্রমতে তিনিও এখন মৃত। মেহেদি হাসান অমিও আর সোনামনি দম্পতির তৃতীয় হানিমুন ছিলো এটা, সাথের আরো অনেকের মতো তাদেরও খোজ নাই এখন পর্যন্ত। তাহিরা হাসান শশী আর রেজওয়ানুল হক দম্পতির এখন পর্যন্ত কোনো খবর নাই, হানিমুন করতে গিয়েছিলেন উনারাও।

তাহসিন রহমান দীপ্ত আর তানিম শেখ দুইজনই সেইন্ট জোসেফের প্রাক্তন ছাত্র, একসাথে যাচ্ছিলেন নেপালে ঘুরতে; উনাদের খবর নাই। আনি আর প্রিয়ক দম্পতি আমাদের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন, কান্নারত আনিকে দেখা গেছে টিভিতে, সম্ভবত প্রিয়ককে নেয়া হয়েছে হসপিটালে। বিমানের ক্যাপ্টেন আবির সুলতান, পাইলট পৃথুলা রশিদ, কেবিন ক্রু খাজা হুসাইন কেউই আর নাই। নাই নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, উম্মে সালমা, রফিকুল হোসেনরা, পিয়াস রায়রাও। আমি এখনো টাইমলাইনে খুঁজছি রফিক জামান, সানজিদা হক দম্পতি এবং তাদের ছেলে অনিরুদ্ধর আপডেট; 15D, 15E এবং 15F এই তিন সিটে বসেছিলো এই পরিবারটা।

আমি এশিয়ার কোনো দেশে যাইনাই কখনো, এমনকি ইন্ডিয়াতেও না। আমার পুরা প্লেন জার্নির ইতিহাসই ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুল/দোহা/আবুধাবি হয়ে ইউরোপের দেশগুলা আর ইউরোপের ইন্টার্নাল ফ্লাইটগুলা। প্রতিবার প্লেনে উঠার আগে আর নাম্বার পর মেইন কাজ থাকে চেকইন দেয়া যেনো কল দিতে না পারলেও আমার পরিবার-পরিজন জানে যে আমি ঠিকমতো পৌছাইছি।

আমার ধারণা যারা চেকইন দেন তাঁদের একটা বড় অংশের চেকইন দেয়ার কারণ হলো যারা অপেক্ষা করে আছেন তাদের জানানো যে তিনি ঠিকমতো যেতে পারছেন/পৌঁছাইছেন কি না। এই যে আজকে আমরা যে কয়েকজনকে ফেসবুকে আইডেন্টিফাই করতে পারলাম, তার সবচেয়ে বড় সূত্র কিন্তু ঐ ফেসবুক চেকইন/পোষ্টগুলাই।

ছবির মতো দেখতে যে নেপাল সেই নেপাল কেমন আমি জানি না, তাদের ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট কেমন জানি না, জানি না প্লেন কেন দক্ষিণদিক থেকে নাম্বার কথা থাকলেও উত্তরদিক থেকে নামতে গেছিলো। ঠিক তেমনি জানি না বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় তাহসিন আর তানিম কি নিয়ে কথা বলছিলো; খুশি-রকিবুল, অমিও-সোনামনি, শশী-রেজওয়ান দম্পতিরা কি ভাবছিলেন আসন্ন কয়েকদিনের ব্যাপারে। আমি জানি না স্বামীরা তাঁদের স্ত্রীকে কি বলেছিলেন শেষ সময়ে। কারো স্বামী কি পরম মমতায় স্ত্রীকে ‘ভয় পেয়ো না, আমি আছি তো!’ অথবা পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা চোখে নিয়ে ‘একসাথে মরে যাচ্ছি এটাই বা কম কি!’ বলেছিলেন কি না। রফিক-সানজিদা দম্পতি কি বলেছিলেন ভয় পাওয়া অনিরুদ্ধকে?

আমি জানি না কিন্তু জানতে চাই। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ছবি হয়ে যাওয়া মানুষগুলার পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলার একটাতে হৃদয়ের গভীরমত স্থান থেকে আসা ভালোবাসা, ভয়, কামনার কথা আমার শুনতে ইচ্ছা হয়।

আমি কান পেতে রই………….

Comments
Spread the love