২০৩৮ সাল। উগান্ডার এক সাবেক মন্ত্রীকে তার নাতনি জিজ্ঞেস করল, ‘দাদু, তুমি তো এককালে খুব প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলে। রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছও কুড়ি বছর হলো। তুমি মন্ত্রী থাকাকালে তোমার সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য কী ছিল বলে তুমি মনে করো?’ থুত্থুড়ে ফোকলা মন্ত্রী চশমার কাচ মুছতে-মুছতে ক্ষীণ গলায় জবাব দিলেন, ‘আমাদের আমলে খুব প্রশ্নফাঁস হতো। এমন কোনো পাবলিক পরীক্ষা নেই, যার প্রশ্ন আমাদের আমলে ফাঁস হতো না। সড়কদুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে আমাদের আমলে সপ্তাহব্যাপী আন্দোলন হতো, পুলিশকে বসিয়ে রেখে স্কুলছাত্ররা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করত, লাইসেন্স দেখাতে না পারলে বাচ্চারা মন্ত্রী-মিনিস্টারদের গাড়িও আটকে দিত, উলটোপথে আসা আমলাদের গাড়িও ঘুরিয়ে দিত। তখন প্রতিটা ঘটনায় আমরা একবার করে ফেসবুক বন্ধ করে দিতাম। ফেসবুক বন্ধ করতে পারাটাই ছিল আমাদের সরকারের বৃহত্তম সাফল্য। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পারি আর না-পারি, স্কুলছাত্রদের আন্দোলন সামলাতে পারি আর না-পারি; আমরা ঠিকই ফেসবুক বন্ধ করতে পেরেছিলাম।’

বলতে-বলতে ইউটিভি (উগান্ডা টেলিভিশন) চালু করলেন অশীতিপর গতায়ু মন্ত্রী। কাম্পালার একটি গ্রামে বাতাবি লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে, বাগদা চিংড়ির ব্যাপক প্রজনন ঘটেছে— এর ওপর প্রতিবেদন দেখাচ্ছে ইউটিভিতে। মন্ত্রী যখন প্রতিবেদন দেখায় বুঁদ, তখন নাতনি মিনমিন করে মুখ খুলল—

একটা চুটকি বলি, দাদু? একবার হন্ডুরাসের এক ট্রেনে পড়ল ডাকাত। যাত্রীদের কাছে মূল্যবান কোনো জিনিশপত্র না পেয়ে ডাকাতদল যখন হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিল, তখন ডাকাতসর্দার ইন্টার্ন ডাকাতদেরকে নির্দেশ দিলো প্রত্যেক যাত্রীর নিম্নদেশের পোশাক খুলে একটি করে যৌনকেশ ছিঁড়ে আনতে। নির্দেশপালন শেষে যৌনকেশের বান্ডেল জমা দিতে-দিতে সর্দারকে উদ্দেশ করে এক কচি ইন্টার্ন ডাকাত কাচুমাচু করে জিজ্ঞেস করল, ‘ওস্তাদ, কী দরকার ছিল এগুলো ছিঁড়ে আনার? কী করবেন এইসব দিয়ে?’ নির্বিকার সর্দার নির্লিপ্ত কণ্ঠে জবাব দিলো, ‘একটা করে ছিঁড়ে না রাখলে এই যাত্রীরা বুড়ো হয়ে নাতি-নাতনিদের কাছে গল্প করবে— ‘একবার ট্রেনে পড়ল ডাকাত। আমি ছিলাম সেই ট্রেনে, আমি একাই ডাকাতদেরকে পিটিয়ে করলাম সাইজ। জানিস, দাদু? ডাকাতরা আমাদের বালটাও ছিঁড়তে পারেনি!’ যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু ডাকাতি করতে পারি আর না-পারি, তাই প্রত্যেকের অন্তত একটি করে বাল ছিঁড়ে এনেছি।

Comments
Spread the love