প্রায়ই অনেকে জিজ্ঞেস করে ভ্রমণ কীভাবে একজন মানুষকে পরিবর্তন করে তোলে? আমিও ভাবলাম আসলেও তো। এরপর একটু পেছনে ঘুরে দেখলাম। দুই বছর আগের আমি, আর এখন আমি অনেক পরিবর্তন। ভ্রমণ আমাকে আগের থেকে অনেক বেশী ধৈর্যশীল ও সুবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাড়িয়েছে আমার আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং দৃঢ় মনোবল। চরম বিপদে মাথা ঠাণ্ডা রেখে মোকাবেলা করার ধৈর্য ভ্রমণ করেই শিখেছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়া শেখা যায় ভ্রমণ করেই। একদম সহজভাবে বলতে গেলে, আমি এখন অনেক বেশী  স্বাধীন।

আমি মনে করি প্রত্যেকের ভ্রমণ করার অভ্যাস করা উচিৎ। সেটা যেখানেই হোক। প্রতি সপ্তাহে বাড়ির কাছেও যদি ঘোরার জায়গা থাকে ঘুরে আসা উচিৎ। ভ্রমণের শুরুটা যেমনই হোক না কেনো, শেষটা সবসময় ভালোই হয়। আমি এটা বলছি কারন আমি বিশ্বাস করি যে ভ্রমণ কেবল আপনাকে ভালো মানুষই নয় বরং আরও স্পষ্ট দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। আপনি সে মানুষ হবেন যাদের সঙ্গ পেতে অন্যরা পছন্দ করে। কেনো ভ্রমণ আমাদের জন্য উত্তম চলুন জানি।

সামাজিক করে তোলে – হয় আপনি ডুবে যাবেন নাহলে সাঁতার কাটতে শিখবেন। ভ্রমণ আপনাকে নতুন নতুন মানুষের কাছে নিয়ে যায়। আপনাকে আরও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে তৈরি করে। অপরিচিত মানুষকেও আপনার পরিচিত মনে হবে। নতুন মানুষদের সঙ্গে মিশে হয় আপনি বন্ধু তৈরি করবেন। নাহলে আপনি একাই রয়ে যাবেন। আপনার প্রথম ভ্রমণে যেই আপনি অনেক কম কথা বলতেন। সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশতে পারতেন না। সেই আপনি এখন দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় ভ্রমণে সহজেই বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলেন।

বাচনভঙ্গিতে আরও যুক্তিগত হওয়া – শুধু যে অপরিচিতদের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন তা নয়। এক কথা বলতে কিংবা জিজ্ঞেস করতে কার ভালো লাগে? আপনি কোথায় থাকেন?  কোথায় যাবেন? এইসব কথা আর শুনতে আর বলতে ভালো লাগবে না। আপনি আর মজার কথোপকথনে বিশ্বাসী হবেন।

ভ্রমণ, ভ্রমণের উপকারীতা, ভ্রমণের এত গুণ

আত্মবিশ্বাসী করে তোলে – আপনি অচেনা জায়গায়, অচেনা মানুষদের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা বাড়াচ্ছেন। সবচে উঁচু পাহাড়টা পারি দিয়ে আসলেন। হাইকিং, ট্রেকিং, ডাইভিং, প্যারাসেইলিং করেছেন, বিদেশী সুন্দরী মেয়ের সাথে বন্ধুত্বও করে ফেলেছেন। আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে না তা কি হতে পারে? এতো কিছু করার পরও কীভাবে আপনি আপনার ক্ষমতার বিষয়ে নিশ্চিত হবেন না? ভ্রমণ আপনাকে একটি শক্তিশালী মাইন্ড সেট তৈরি করতে সাহায্য করে।

যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা – ফ্লাইট মিস করেছেন, ভুল রাস্তায় চলে এসেছেন, বাস ধীরে চলছে, রাস্তার পাশের খাবার, এইরকম অনেককিছুর সম্মুখীন হওয়ার পর আপনি শিখে যান কীভাবে চরম দুর্ভোগেও পরিবেশ শান্ত রেখে চলতে। পরিস্থিতি পরিবর্তন করতেও শিখে যান। এখন আর আপনি আগের মতো চট করে রেগে যান না। জীবন যখন আপনাকে লেবু ছুড়ে মারছে। তখন আপনি লেবু কচলে শরবত বানিয়ে খেতে শিখে গেছেন।

আরও দুঃসাহসী করে তোলে – যখন নিজের মধ্যে আস্থা তৈরি হয় আপনি যেকোনো কিছুই করতে পারবেন। তখন আপনি নতুন নতুন জিনিস করার চেষ্টা করেন। হয়তো একবার আপনি ভয়ে পানিতে ঝাঁপ দেননি। কিন্তু এখন আপনি পানিতে ঝাঁপ দেন। সবাই যখন রাত ৩ টায় শ্মশানে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তখন আপনি ভয়ে ঘুমিয়ে থাকার আর অভিনয় করবেন না। যদি পানি নতুন কিছু চেষ্টা না করেন তাহলে আপনি একটি নতুন জিনিস শিখলেন না। ভ্রমণ আপনাকে সে শেখার জায়গাটি বানিয়ে দেয়। লুফে নিন!

বুদ্ধিমান বানায় – এতো বছর হয়তো আপনি আপনার ব্রেনটি পড়ালেখা ছাড়া আর কোনো কাজে ব্যবহার করেননি। কিন্তু ভ্রমণ আপনাকে ভাবতে শেখায়। নতুন সংস্কৃতি, রাষ্ট্র, ইতিহাস, মানুষ সবকিছুর ব্যাপারে বুদ্ধি বাড়াবে। আপনি একটি দেশে ভ্রমণে যাবেন।। যাওয়ার আগে আপনি নিশ্চয়ই সে দেশের আবহাওয়া, ভাষা, খাবার, সবকিছুর সম্পর্কে গুগল করবেন। এই ছোট্ট একটি বিষয়ও আপনার বুদ্ধি বাড়ায়। জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে। অনেক বিষয় শুধু মাত্র বইয়ে পড়ে জানা যায় না। অনেককিছু স্বচক্ষে দেখলে ধারণা আরও বৃহৎ হয়।

খুব সহজে বলতে গেলে আপনি আপনার মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক নতুন মানুষকে জন্ম দিবেন একমাত্র ভ্রমণের মাধ্যমেই। আপনি নিজে নিজের ব্যাপারে অনেককিছুই জানতেন না। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ছিল না। যে কাজটি আপনি করতে পারবেন না ভেবে বারবার ছেড়ে দিয়েছেন। ভ্রমণের পর সে কাজটি আপনার কাছে একদম সহজ মনে হবে। সৃষ্টি করুন আপনার নতুন সত্তাকে ভ্রমণের মাধ্যমেই। হ্যাপি ট্রাভেলিং।

Comments
Spread the love