খেলা ও ধুলা

৮১, ৮২, ৮৪, ৮৫…

আবু হায়দার ও নাজমুল হোসাইন শান্তসহ ওয়ানডেতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ১২৭ জন ক্রিকেটার। তালিকার ৮১ নাম্বারে ছিলেন মুশফিক, ৮২ নাম্বারে সাকিব, ৮৩ নাম্বারে মেহরাব জুনিয়র, ৮৪ ও ৮৫ তে যথাক্রমে তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মেহরাব হারিয়ে গেছেন। একই সিরিয়ালে থাকা বাকি চারজন এখনো টিকে আছেন। তারপর কত চন্দ্রভুক অমাবস্যা এলো আর গেলো, কেউ টিকল না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে পঞ্চপাণ্ডবের চারজন ব্যাটসম্যান হয়ে রয়ে গেলেন এরাই।

কেন এদেরকে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়? বাকিরা কোথা হতে আসে, নৌকা কোথায় চলে যায়? কেন যায়? আসুন একটু হালচাল দেখে নিই।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের উত্থান মূলত ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে। বিশ্বকাপের বছর বাদ দিলে পার হয়ে গেছে আরো প্রায় তিন বছর। এই তিন বছরে ১-৭ পর্যন্ত ভাইটাল ব্যাটিং রুলে খেলেছেন ১৫ ক্রিকেটার। চার পাণ্ডবকে ধ্রুবক রেখে বাকিরা ছিলেন আসা যাওয়ার মধ্যে। কী করেছেন তারা ৩ বছরে? ওপেনিংয়ে তামিমকে সঙ্গ দিতে আসা এনামুলের গড় ৭ ম্যাচে ১২.৫৭, লিটন দাস ৯ ম্যাচে ৮.০০, সৌম্য সরকার ১৬ ম্যাচে ১৯.৬৪। অবিশ্বাস্যভাবে ইমরুল কায়েস এখানে বেশ এগিয়ে। ১২ ম্যাচে তার গড় ৩৭.৫০! এই চারজন ওপেনিং এর পাশাপাশি ওয়ানডাউনেও গোঁতাগুঁতি করেছেন। কাজের কাজ হয়নি।

মিডল অর্ডারে বেসিক্যালি একটা মাত্র জায়গা খালি থাকে। বোলিং অলরাউন্ডার বাদ দিয়ে ব্যাটিং অলরাউন্ডার খেলালে মাঝে মাঝে দুইটা পোস্ট খালি হয়। একন সেখানে যারা খেলেছেন তাদের আমলনামা দেখি। মোহাম্মদ মিথুন ৪ ম্যাচে গড় ২৪.৭৫, সাইফুদ্দিন ৩ ম্যাচে গড় ১৫.০০, মোশাররফ রুবেল ২ ম্যাচে ১১ রান, নুরুল হক ২ ম্যাচে ৬৮ রান, নাসির ৯ ম্যাচে গড় ৮.৩৩, সাব্বির ৩১ ম্যাচে গড় ২০.৪২। এই তালিকায় বর্তমানে খেলা মোসাদ্দেকের গড় সবচেয়ে ভালো। গড় ৩০ হলেও ২৩ ম্যাচ খেলে মাত্র একটা ফিফটি করা মোসাদ্দেককে নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়।

৭-৮ টা পজিশনের মধ্যে তিনটা জায়গার এই অবস্থা, এর মধ্যে দুইটা আবার ২, ৩ পজিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বাংলাদেশ তো তারপরও জিতে। তবে কীভাবে জিতে ম্যাচগুলো? এখানেই চলে আসে চার পাণ্ডবের মহাত্ম।

গত তিন বছরে ৩৩ ম্যাচে সাকিব ৩৬ গড়ে করেছেন হাজারের উপর রান। মাহমুদুল্লাহর গড় ৩২ ম্যাচে ৩৮। রান হাজারের কাছাকাছি। মুশফিক ৩০ ম্যাচে ৪৬ গড়ে করেছেন ১২০০ রান। আর তামিমের ৩০ ম্যাচে ৬৪ গড়ে রান ১৬০০! সাকিবের গড় ক্যারিয়ার শুরু থেকেই ৩৫-৩৬ এ উঠানামা করে। বাকি তিনজনের তিন বছর আগেও গড় ২৭-২৮ এর মতো ছিল। তিন বছরের ব্যবধানে এদের গড় ৪-৫ এর মতো বেড়ে গেছে। এরা যদি উন্নতি করতে পারে বাকিরা পারে না কেন?

কোনো ট্যাকনিক্যাল এনালাইসিসে যাচ্ছি না। কার কত সামর্থ্য সেদিকেও যাব না। কেবল ডেডিকেশনটুকু মনে করলেই হবে। এই চারজনের কেউ হাত ভাঙ্গা নিয়ে মাঠে নামে, কেউ আঙুল ভাঙা নিয়ে খেলে, কেউ পাজর ভাঙা নিয়ে সেঞ্চুরি মারে। এই চারজনের কারো বিরুদ্ধে কোনো স্ক্যান্ডাল নাই।

মুশফিক সেঞ্চুরি, মুশফিক এশিয়া কাপ, মুশফিক লড়াই

কিছু তো একটা ম্যাটার করে তাই না? ৮১-৮৫ এই সিরিয়ালে চারটা প্লেয়ার দলে না আসলে এখনকার টিম কি এমনই থাকত?

মনে হয় না। আমরা সম্ভবত এখন নরওয়ে, আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, স্পেনের সাথে ক্রিকেট খেলতাম। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতো। তবে এই সম্ভাবনা এখনো রয়েই যাচ্ছে। এরা দল বেঁধে যেভাবে টিমে এসেছে সেভাবে দল বেঁধে অবসরে যাবে। আমরা তখন পাপুয়া নিউগিনি, উগান্ডা, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়ার সাথে তুমুল জমজমাট ম্যাচ খেলব।

মজা হবে না?

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close