টাইটানিক সিনেমার কল্যাণে এর ডুবে যাওয়ার ঘটনা কে না জানে! কিন্তু জ্যাক আর রোজের বদৌলতে এটা আমাদের কাছে এক রোম্যান্টিক সিনেমা হিসেবে রয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে এখানে রোম্যান্টিসিজম ছিল না, ছিল কিছু ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আজকের এই লেখা বড় বড় ঘটনার আড়ালে চাপা পরে যাওয়া ছোট অথচ ইন্টারেস্টিং কিছু তথ্য নিয়ে টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে নতুন করে দেখার চেষ্টা।

  • টাইটানিকের পূর্ণ নাম “R.M.S. Titanic”;  এই R.M.S. মানে রয়াল মেইল শিপ যা কিনা ব্রিটিশ রাজ দ্বারা সুরক্ষিত। এর উপর হামলা ব্রিটেনের উপর হামলা হিসেবে ধরা হয়।
  • টাইটানিক একমাত্র যাত্রীবাহী জাহাজ যেটা কিনা বরফখন্ডে ধাক্কা লেগে ডুবেছে। এর আগে-পরে এমন ঘটনা আর কখনো শোনা যায়নি!
  • টাইটানিক ডোবার ১৮ বছর আগে মর্গান রবার্টসন নামের এক লেখক লেখেন একটি বই, নাম Futility: The wreck of Titan  যেখানে দেখা যায় একটি জাহাজের নাম টাইটান এবং সেটি বরফখন্ডে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। কী অদ্ভুত কাকতলীয় মিল!
  • টাইটানিক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাহাজ ছিল, দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছু এখানে পাওয়া যেত। এমনকি টাইটানিকের নিজস্ব সংবাদপত্রও ছিল যাতে নানা খবরাখবর এর সাথে জাহাজের ডেইলি খাবার মেন্যু ছাপা হতো।
  • জাহাজে থাকা ৩০ জনের ইঞ্জিনিয়ারের একজনও বাঁচতে পারেননি। তারা আসলে কেউ সেই চেষ্টাই করেননি। তারা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন পাওয়ার অন রাখতে, যাতে অন্যরা বাঁচতে পারে। পেশাদারিত্বের কী অসাধারণ উদাহরণ! এরকম উদাহরণ আমরা আরো দেখেছি কয়েক বছর আগে যখন জাপানে সুনামি হয়ে পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হলো, তখনো সেখানকার অনেক ইঞ্জিনিয়ার সাইট ত্যাগ করেননি যাতে দূষণ বেড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে না যায়। উন্নত দেশ উন্নত হয় অর্থ দিয়ে নয়, উন্নত মানুষ দিয়ে।
  • এক থিওরী অনুযায়ী, টাইটানিক ডোবার আগের পুর্ণিমার কারণে সাগরে যে ম্যাসিভ ঢেউয়ের তৈরি হয় সেটা বিশাল বরফখন্ডকে জাহাজের গতিপথের সামনে এনে ফেলে।
  • টাইটানিক ডোবার পর যারা নৌকায় উঠতে পারেননি কিন্তু লাইফ জ্যাকেট পরে ভেসেছিলেন, তাদের সবাই ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই মারা যান হার্ট এটাক আর শীতে জমে।
  • লাইফবোটে উদ্ধার পাওয়া যাত্রীদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল টেলিগ্রাম করার- প্রতি শব্দ ১ ডলার করে। এক ব্যাক্তির কাছে ছিল মাত্র ১ ডলারই, তিনি তার তার মায়ের কাছে টেলিগ্রাম করেন মাত্র একটি শব্দ “safe”
  • টাইটানিক ডোবার পর এর ডিজাইনার টমাস এন্ড্রুজ আফসোস করেন যে কেন তিনি অল্প কিছু টাকা বাঁচানর জন্য বরফখন্ড প্রতিরোধক স্টিল ব্যবহার না করে সাধারণ স্টিল ব্যবহার করেছেন। খনা তো আর শুধু শুধু বলেননি-“সস্তায় পস্তায়”!

কোন কোন সময় মানুষের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েও দূর্ঘটনা ঘটে। নইলে টাইটানিক ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে উন্নত জাহাজ, এর চালক-ইঞ্জিনিয়াররা ছিল সেই সেক্টরের পৃথিবীসেরা, তারপরেও বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি। বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সাবধান হওয়াই একমাত্র কাজ, যা মানুষের পক্ষে করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: factsd.com

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো