ফিচারটি যতবার পড়া হয়েছেঃ 224

থেরেসার আনন্দাশ্রু | egiye-cholo.com

Ad

একটি অলিম্পিক পদক। তাও সোনা কিংবা রৌপ্য নয়। ব্রোঞ্জ। আর তাতে এই আনন্দাশ্রু।

পাঠক ভাবতে পারেন, এর আবার এমন মাহাত্ম্য কী! কতজনই তো ব্রোঞ্জ জেতেন! দুনিয়া তো স্রেফ স্বর্ণজয়ীদেরই মনে রাখে!

তবে সিঙ্গাপুরের প্যারালিম্পিয়ান থেরেসা গোহ-এর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পেছনের গল্পটা যে রূপকথার মতোই! শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় দমে যাননি। সব বাধা অতিক্রম করে ছুটে চলেছেন জীবনের অলিগলিতে। ঘরের চৌকাঠে নিজেকে বন্দী না রেখে খেলাধুলায় অংশ নিয়েছেন। নিজ দেশ সিঙ্গাপুরে জাতীয় পর্যায়ে ভালো পারফর্ম করে সুযোগ পান ২০০৪ সালের এথেন্স প্যারালিম্পিকে অংশ নেওয়ার। সেই থেকে শুরু। এরপর থেকে প্রতিটি প্যারালিম্পিকেই অংশ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই ঘরে ফিরেছেন এক রাশ হতাশা নিয়ে।

Theresa Goh
(Theresa Goh)

একবার দুবার নয়, টানা চার বার! শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে যিনি জয় করেছেন, মানসিক বাধার কাছে কী করে পরাজিত হন তিনি! শেষ পর্যন্ত ১২ বছরের চেষ্টার পর ব্রাজিলের রিও প্যারালিম্পিকে গতকাল নিজ ইভেন্ট ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন থেরেসা।

instagramএমন জয়ের পর নিজ দেশের প্যারালম্পিয়ান ইয়িপ পিন জিউ তাঁর ইন্সট্রাগামে থেরেসার সাথে আনন্দঘন উদযাপনের একটি মুহূর্ত শেয়ার করেন। ছবিটিতে দুজন একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। ইয়িপ লিখেছেন, ‘আমাকে ক্রন্দনরত অবস্থার কদর্য চেহারার দিকে তাকানোর দরকার নেই পৃথিবীর…কিন্তু পৃথিবীর জানার দরকার আছে, আমি তোমাকে নিয়ে কতটা গর্বিত!’

ইয়িপকে নিয়েও গর্বিত হতে পারে দেশবাসী। সিঙ্গাপুরের প্রথম প্যারালিম্পিয়ান হিসেবে দুটি স্বর্ণ জিতেছেন এই অ্যাথলেট। এর আগের স্বর্ণ জিতেছিলেন ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে।

মাত্র সাত মাস বয়সেই পৃথিবীর বুকে আসেন থেরেসা। অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে বাবা-মা ভেবেছিলেন সন্তান বুঝি আর বাঁচবে না। তারা বিস্ময়ের সাথে আরও লক্ষ্য করলেন শিশুটির স্পাইনাল কর্ডের গঠন স্বাভাবিক নয়। বয়সের সাথে সাথে জানা গেল, থেরেসা বাঁ কানেও কম শুনেন। ছোটবেলা থেকেই হুইল চেয়ার সঙ্গী। তবু এসব নিয়ে খেদ নেই থেরেসার। এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি মানিয়ে নিয়েছি এই জীবনের সাথে। আজ যদি আমি ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড না হতাম, তাহলে হয়তো সাঁতার কিংবা এ পর্যায়ে আসা হতো না আমার।’

থেরেসা জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অজস্র পদক জিতেছেন। তবু কেন যেন প্যারালিম্পিকের হার্ডলটা কোনোভাবেই ডিঙ্গানো যাচ্ছিল না। বারোটি বছর ধরে রিক্ত হস্তে বারবার ফেরত আসা থেরেসা মনোবল হারাননি। জিতেছেন অধরা পদক। এই ব্রোঞ্জ জয়ের মূল্য কোনো অংশেই স্বর্ণের চেয়ে কম কি?

(বিবিসি অবলম্বনে)

 

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad