ডিসকভারিং বাংলাদেশতারুণ্য

ভালোবাসা তাই অন্য কোথাও চায়ের কাপে!

আমি প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ কাপ চা খাই। চা নিয়ে আমার মাত্রাতিরিক্ত পাগলামিতে আমার আশেপাশের মানুষ বিরক্ত। চা ছাড়া আমার একদিনও চলে না টাইপ অবস্থা। আমার নেশা বলতে এই একটা জিনিসেই। চা খেতে খেতেই একদিন আমার মাথায় আইডিয়া আসলো আমি যেখানে যেখানে যাবো সেখানে সেখানে চা নিয়ে দারুণ কিছু ছবি তুলবো। তুললামও বেশ কিছু ছবি। কিন্তু সমস্যা হলো যেসব জায়গায় চা নিয়ে ছবি তোলার ইচ্ছা জাগে, সেসব জায়গায় চা পাওয়াই যায় না। এক কাপ চায়ের জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়।

এইতো কিছুদিন আগেই গেলাম সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপ। সেখানে প্রবালে বসে যখন সমুদ্রের ঢেউ দেখছিলাম তখন মনে হলো যদি হাতে এক কাপ চা থাকতো। আহ! চিন্তা করে দেখলাম হেডফোনে গান ছেড়ে চা খেতে খেতে একা সমুদ্রের গর্জন শুনতে পারলে অদ্ভুত এক মাদকতা কাজ করবে। যেমন চিন্তা তেমন কাজ। যদিওবা কাজটা করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এরপর সেই চা খেতে খেতেই মনে পড়ে গেলো আমার সেই চায়ের ট্রেডমার্ক ছবির কথা। তুলে ফেললাম বেশ কিছু ছবি।

আসলে মূলত আমার মাথায় চায়ের ছবির আইডিয়াটা আসছিলো হামহাম জলপ্রাপাতে গিয়ে। হামহাম জলপ্রপাতের কাছেই দুইটা চায়ের দোকান ছিলো। আমরা ঝরনার পানিতে দাপাদাপি করে উঠেই দেখি সেই চায়ের দোকান। সেখান থেকে চা নিয়ে বসে বসে যখন ঝরনার প্রবাহ দেখছিলাম তখন কি মনে করে আমি চায়ের একটা ছবি তুললাম। ছবিটা তুলেই আমার মন ভরে গেলো। কি দারুণ! তখনি ঠিক করেছিলাম আমি এরকম বেশ কিছু ছবি তুলবো। আমি তো অনেক ঘুরাঘুরি করি। এরপর থেকে যেখানে যেখানে যাবো এরকম দারুণ দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ডে চা নিয়ে ছবি তুলবো।

এরই ধারাবাহিকতায় আমি সাজেকের কংলাক পাড়ার চূড়ায় উঠেও এক কাপ চা সহ ছবি তুলেছিলাম। চারপাশে মেঘ আর মেঘ। সবে সূর্যদয় হয়েছে। আমরা মেঘের ভেসে বেড়ানো দেখছিলাম। এই সময়েই সেখানে উপস্থিত হলেন এক চাওয়ালা। খাওয়ার জন্যই নিয়েছিলাম চা। আশেপাশের প্রকৃতি দেখছিলাম আর চা খাচ্ছিলাম।

যে মেঘ আমরা মাথা উঁচু করে দেখি সাধারণত সেই মেঘ আমরা মাথা নিচু করে দেখছিলাম। হাতে এক কাপ গরম চা আর সূর্যোদয়ের হালকা আভায় দূরের পাহাড়ের উপর মেঘের ভেসে বেড়ানো! আহা! প্রতিটা চুমুকেই মনে হচ্ছিলো সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। এভাবে পাহাড়ের উপর, ঝরনার ধারে, সমুদ্রের পাড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আরো বিভিন্ন জায়গায় আমি চা নিয়ে ছবি তুলেছিলাম। ইচ্ছা আছে সামনে আরো দারুণ দারুণ জায়গায় গিয়ে চা নিয়ে ছবি তুলবো।

যাই হোক, চা নিয়ে ছবি তোলার ইচ্ছা যেহেতু হয়েছে বাস্তবায়নও হবে ইনশাল্লাহ। আশা করি কয়েক বছর পর আমি দারুণ দারুণ কিছু ছবি তুলতে পারবো শুধুই চা নিয়ে। 

বেলাশেষে, মিরপুর ডিওএইচএস।

রবীন্দ্রসরোবর, ধানমন্ডি।

আনসার ক্যাম্প, মিরপুর।

ছেঁড়া দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন।

ছেঁড়া দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন।

ছেঁড়া দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন।

হামহাম জলপ্রপাত, সিলেট।

সারুলিয়া, ডেমরা।

কংলাক পাহাড়, সাজেক ভ্যালি।

সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ।

বিছানাকান্দি, সিলেট।

ওয়াক আপ কলোনি, আনসার ক্যাম্প।

টাইগারপাস, চট্টগ্রাম।

সেন্ট মার্টিন

ধানমন্ডি, ঢাকা।

পানির ট্যাঙ্কি, মিরপুর।

 

 

Comments

Tags

Related Articles