‘আত্ম অহংকার’ নামে রায়হান মুজিব পরিচালিত একটা বাণিজ্যিক ছবিতে মাস্টার অ্যাক্টর হুমায়ুন ফরীদি পর্দা কাঁপিয়ে অভিনয় করেছিলেন। দর্শক ও তখনকার মিডিয়া ছবিতে নায়ক-নায়িকাকে ছাপিয়ে হুমায়ুন ফরীদিকে নায়ক বলেছিল ছবিটির। কিছুদিন আগেও রেদওয়ান রনি-র ‘চোরাবালি’ ছবিতে নায়কের থেকে দাপুটে অভিনয় করে দর্শক-সমালোচকের মন জয় করেছিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম। খলনায়ক নায়ক হয় কখন? খলনায়কের দাপট যখন নায়কের মতো হয়ে যায়।

২০১৭-তে এসে আবার সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে নতুন এক অভিনেতা তাসকিন রহমান নায়কোচিত পারফর্ম করে দর্শক-সমালোচকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেন। 

ছবিতে তাসকিন ছিল আদর্শবাদী খলনায়ক। ভাবছেন খলনায়কের আবার আদর্শ কিসের! থাকে। হিটলার কিন্তু আদর্শবাদী ছিল। হিটলার খারাপ শাসক কিন্তু জাতীয়তাবাদী ছিল এবং সেটা হচ্ছে জার্মান জাতিকে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি হিশাবে দেখতে চেয়েছেন। সেজন্য নিজের আইডিওলজি করে নিয়েছিল-‘war is piece.’ যুদ্ধ কখনো শান্তি হতে পারে কি! পারে না, খারাপ মানুষের কাছেও আদর্শ থাকে। সহায়ক হিশাবে স্মরণ করুন ‘আয়নাবাজি’-র নিজাম সাঈদ চৌধুরীর কথা যার কাছে স্কুল শিক্ষককে হত্যা করাটা ছিল আদর্শ রক্ষার লড়াই অথচ সেটা অন্যায়। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর তাসকিন রহমান-ও সেরকম উগ্র আদর্শবাদী। তার আইডিওলজি ছিল ধ্বংসের ভেতরে নিজের মনের অপূর্ণ সব ক্ষোভের বিজয় দেখা। এটা ভয়ঙ্কর কিন্তু তার কাছে যৌক্তিক।

তাসকিন তার ছোটবেলার কঠিন বাস্তবকে দেখে যে নৃশংসতার পথ বেছে নিয়েছে তার ভেতর নিজের সুখ খুঁজে নিয়েছিল। আপনজনের সাথেই তার সবচেয়ে বড় মানসিক দ্বন্দ্ব ছিল এবং সেটাকে মৃত্যুর খেলায় নিয়ে দ্বন্দ্বটাকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে। নিজের দেশেই তার টার্গেট। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ নামটির কার্যকারণ যদি খুঁজতে যাই তবে তাসকিন-ই প্রধান সূত্র কারণ অ্যাটাকিং যাবতীয় কিছু তারই পরিকল্পনা ও প্রয়োগের ফসল। আপনজন ও আপন দেশ দুটির মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে তাসকিন সেটা করেছে কারণ আপনজনের সাথে দেশের সম্পর্ক আছে। দেশবিরোধী কাজেই তার আনন্দ জিদের মধ্য দিয়ে। এ এক অদ্ভুত self contradictory psychology.

তাসকিন রহমান শুনেছি পরিচালক তানিম রহমান অংশু-র ভাই। যদি তাই হয় তবে একটা জেনেটিক ফর্মের ট্যালেন্ট তিনি। একজন ভালো নির্মাতা আর একজন স্বপ্ন দেখানো উদীয়মান অভিনেতা। তাসকিন ডিজিটাল ছবির নতুন সম্ভাবনা দেখানো ছবি যেমন-‘আদি, মৃত্যুপুরী, অপারেশন অগ্নিপথ’ এগুলোতেও আছেন। তার ছবির সিলেকশন প্রমাণ করে বেছে বেছে কাজ করাটা তার বৈশিষ্ট্য এবং সেসূত্রে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ তার গ্রেট চয়েজ।

তাসকিন রহমান-এর খলনায়ক ইমেজে সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট তার লুক। লুকে হলিউডি ধাঁচ আছে। চোখগুলো বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। তরুণীরা একজন তরুণের প্রতি যে কারণগুলোতে ‘ক্রাশ’ জাতীয় আকর্ষণে ভোগে সেগুলো তাসকিনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে আছে। অভিনয়ে তার সহজাত ন্যাচারালিটি আছে। চরিত্রের ভেতরে ঢুকে ডায়লগ ডেলিভারি ও অদ্ভুত সব বডি ল্যাংগুয়েজ দেখিয়েছে। তার কথা বলতে গিয়ে অনেকে হুমায়ুন ফরীদির প্রসঙ্গ এনেছে সাইকো কিলারের পার্টটির জন্য। স্সরণ করা যেতে পারে ‘বিশ্বপ্রেমিক’-এ ফরীদির দুর্দান্ত সেই সাইকো কিলিং-কে। আজকে ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ সাইকো কিলিং এর ধাঁচ টোটালি আলাদা এবং রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতার মতো বড় বিষয় সেখানে জড়িত। তাসকিন ভয় দেখাতে পেরেছে তার চরিত্রে এটাই তার সাফল্য।

তাসকিন রহমান-এর আবির্ভাব যে রাজকীয়ভাবে হলো সেটাকে ধরে রাখা মোটেই সোজা নয়, তাই পরবর্তী নির্মাতাদের উচিত হবে তাকে স্টাডি করে তার নায়কোচিত খলনায়কের পারফর্ম করে দেখানোর সুযোগ থাকে এমন চরিত্র তাকে দেয়া। স্বপ্ন দেখাটা আমাদের দর্শক কখনো বন্ধ করেনি, আজও করবে না। টাইপড ভিলেন থেকে বৈচিত্র্যময় হবার সুযোগটা তাসিকনকে দেয়া হোক।

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-