ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

এই অমানুষগুলোকে এভাবেই শিক্ষা দিতে হয়!

নাম তার সাইদুর রহমান, পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন তিনি। প্রত্যেক পেশাতেই তো কিছু মানুষ থাকেন, যারা সেই পেশার গায়ে কলঙ্কের তিলক লাগানোর কাজটা করে যান স্বাচ্ছন্দ্যে। সাইদুর রহমানও তেমনই একজন। শিক্ষকতার মতো মহান একটা পেশায় নিয়োজিত থেকে তিনি যে নোংরা মানসিকতা মনের ভেতরে পুষে রেখেছিলেন, কিংবা মাঝেমধ্যেই নিজের ছাত্রীদের সঙ্গে তিনি যে ভাষায় কথা বলতেন, যেসব আচরণ করতেন, সেগুলো এক কথায় অকল্পনীয়। একজন শিক্ষক কি করে তার ছাত্রীকে বলতে পারেন, ‘তুমি যদি আমারে একদিনের সুখ দাও, তোমার আর এসএসসির চিন্তা করতে হবে না!’

গতকাল সাইদুর রহমানকে একদিনের নয়, সারাজীবনের মতো সুখ দিয়ে দিয়েছে বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকেরা। যৌন হয়রানির অভিযোগে গতকাল স্কুল প্রাঙ্গনেই এই লম্পট শিক্ষককে মারধর করেছেন তারা। পরে স্কুলেই ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে সাইদুরকে এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

সাইদুরের বিরুদ্ধে ছাত্রী এবং অভিভাবকদের অভিযোগের লিস্টটা বেশ লম্বা। ইংরেজীর এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীদের যৌন হয়রানীমূলক মন্তব্য এবং অশালীন কথাবার্তা বলে আসছিলেন। কারণে-অকারণে নানা ছুতোয় তিনি ছাত্রীদের গায়ে হাত দিতেন। গতকাল রোববারও এক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি অশালীন আচরণ করেন বলে জানিয়েছে ছাত্রীরা। 

টাঙ্গাইল, বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়, যৌন হয়রানি, শিক্ষককে পেটানো

এই বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেছিল ছাত্রীরা। কিন্ত প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদার অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অভিযোগকারী ছাত্রীদের স্কুল থেকে টিসি দেয়ার হুমকি দেন। এমনকি সাইদুরের বিপক্ষে কোন অভিযোগ নেই, এই মর্মে স্বাক্ষরও আদায় করেন তিনি ছাত্রীদের চাপ দিয়ে।

গতকাল বিষয়টি জানাজানি হলে অচিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অনেকেই স্কুলে ছুটে যান। অভিভাবকদের পাশে পেয়ে মেয়েরাও ক্লাস থেকে বেরিয়ে স্কুলের মাঠে বিক্ষোভ করতে শুরু করে। সেখান থেকে ‘সাইদুরের চামড়া তুলে নেব আমরা’ বা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ শ্লোগান দেয়া হয়।

অভিযুক্ত সেই শিক্ষক সাইদুর তখন টিচার্স রুমে ছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে এলে কয়েকজন অভিভাবক তাকে মারধর করেন। এসময় তার সহকর্মীদের কেউ কেউ সাইদুরকে বাঁচাতে এলেও, অভিভাবকদের জোরের কাছে তারা কুলিয়ে উঠতে পারেনি। পুলিশ এসে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাইদুরের বাজে ব্যবহারের শিকার এক ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিল-

‘সে (সাঈদুর রহমান) ক্লাসের মধ্যে মাইকে বলে যে বাসায় গিয়া ইয়াং টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়ো। তোমাদের ভাইয়া টিচাররা তোমাদের আড়াই ঘণ্টা-তিন ঘণ্টা কইরা পড়ায়। এতে গার্জিয়ানরা খুশি হয়। এক হাজার টাকা কইরা নেয়। তারা তোমাদের দেখায়, কিভাবে বাজে বাজে ওয়েব সাইটে ঢুকতে হয়, কিভাবে সানি লিওনের পর্ন দেখতে হয়। সেগুলো সে শেখায়। আমরা শেখাই না দেইখা তোমরা তাদের কাছে পড়তে যাও।’

টাঙ্গাইল, বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়, যৌন হয়রানি, শিক্ষককে পেটানো

‘তার কাছে প্রাইভেট পড়তে গেলে সে যা নয় তা বলে। আমাদের কিছু কিছু ফ্রেন্ড আছে, ইনফ্যাক্ট আমাকেও সে বলছে, আমাকে নাকি দেখলে তার ক্লাসে নাইনে যাইতে ইচ্ছা করে। আমার জন্য সে ইয়াং হওয়ার ট্যাবলেট খাবে। তার এগুলা ইচ্ছা হয়। আমার এক ফ্রেন্ড আছে। ওরে বলছে, তোমারে নিয়া আমি রাঙামাটি চইলা যাব। তোমার জন্য রাঙামাটি পোস্টিং নিব। তুমি যদি আমারে একদিনের সুখ দাও, তোমার আর এসএসসির চিন্তা করতে হবে না। তোমাকে আমি সব জায়গায় পাস করায়ে দিব।’

আরেক ছাত্রী বলেছে- “এই লোক আমাদের বডি পার্টস নিয়ে কমেন্টস করে। সে একটা টিচার! একটা টিচার হইয়া আমাদের বাবা না, আমাদের দাদার বয়সী। সে কিভাবে বলে আমরা তার পিছনে ঘুরি। তার মতো বুইড়ার পিছনে আমাদের জুতাও ঘুরে না। সে বলছে, মেয়েদের ভার্জিনিটি টেস্ট হবে। কোন মেয়ে কোন ছেলের সাথে কী করছে সে সব টেস্ট হবে।”

টাঙ্গাইল, বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়, যৌন হয়রানি, শিক্ষককে পেটানো

বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অভিনন্দন! আরেকটা পরিমলের জন্ম তারা হতে দেয়নি, আরেকজন পান্না মাষ্টারের উত্থান তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে বীরদর্পে। ছাত্রী আর অভিভাবকেরা মিলে প্রমাণ করেছে, মাইরের ওপরে আর কোন ওষুধ নাই। একজন শিক্ষক হয়ে যে লোক ছাত্রীদের সাথে এমন নোংরা ভাষায় কথা বলতে পারে, কুপ্রস্তাব দিতে পারে, নিজের মেয়ের বয়েসী ছাত্রীর কাছে যে লোক এক রাতের সুখ কামনা করতে পারে, সে আর যাই হোক, শিক্ষক হতে পারে না।

বেচারা সাইদুর, ইয়াং হবার ট্যাবলেট আর খাওয়া হলো না তার, খেতে হলো গণপিটুনী! সাইদুরকে পিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করাটাই উচিত হয়েছে। যে প্রধান শিক্ষক ‘স্কুলের সুনামের কথা’ ভেবে সাইদুরকে রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন, উল্টো ছাত্রীদের হুমকি দিয়েছিলেন, সেই লোকটাকেও এভাবে লজ্জা দিয়ে আইনের আওতায় আনাটা জরুরী। এই অমানুষগুলোকে এভাবেই শিক্ষা দিতে হয়। এরা সমাজের জন্যে বিষফোঁড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close