‘যুদ্ধদিনের নেতা, আপনার কাছে ক্ষমা চাইবো না’

তাজউদ্দীন আহমদ
Ad

স্বাধীনতার যুদ্ধ চলছে। এদেশের প্রাণের নেতা, স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কারাগারে বন্দী। ওইরকম পরিস্থিতিতে যে মানুষটা বাংলার স্বাধীনতা অর্জনে রেখেছেন অগ্রণী ভুমিকা, যার সুদক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া আমাদের স্বাধীনতার কথা চিন্তাও করা যেত না, সেই বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদকে  ‘এগিয়ে চলো’ জানায় স্যালুট ও একরাশ শ্রদ্ধা। যতদিন পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম লেখা থাকবে, ততদিন তাজউদ্দিন আহমদের নাম ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে…

লিখেছেন- ফাহমিদা ফারজানা ঐষী

ফাহমিদা ফারজানা ঐষী

ইমোশনাল এপ্রোচে মুজিবকে কাবু করা যায়। কিন্তু তার পেছনে ফাইল বগলে চুপচাপ যে নটোরিয়াস লোকটি বসে থাকে তাকে কাবু করা শক্ত। “দিস তাজউদ্দীন, আই টেল ইউ, উইল বি ইউর মেইন প্রবলেম”- সহকর্মীদের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে জুলফিকার আলী ভুট্টো (উত্তেজিত কন্ঠে)…

তাজউদ্দীন আহমেদ- একজন আগাগোড়া বাঙালী, যিনি চেয়েছিলেন ইতিহাস থেকে লুকিয়ে নিভৃতে দেশের জন্য বিলীন হয়ে যেতে…!

হ্যাঁ, তিনি সার্থক। 

ইতিহাস তাঁকে মর্যাদা দিতে পারে নি যথার্থ। বজ্রকন্ঠী সেই লোকটা যার বজ্রনিনাদ জাগিয়ে তুলতো বাঙালীর ভেতরের বাঙালীটাকে, সেই মানুষটা নীরবে, নিশ্চুপে সরে গেছেন নেতার নির্দেশে। তাঁর ত্যাগ, অবদান সীমায়িত রয়ে গেছে শুধু সাধারণ জ্ঞানের একটা প্রশ্নের উত্তরে!

অথচ ইতিহাসের কি সাধ্যি তেজস্বী এই সূর্যকে এক পঙ্কতিতে আটকে রাখার?
তবে প্রজন্ম ঠিকই তাঁর যুদ্ধদিনের প্রধানমন্ত্রীকে খুঁজে নিয়েছে…

পরিবার, স্ত্রী, শিশুসন্তান- সর্বস্বের মায়া ত্যাগ করে যে মানুষটা নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন তাঁর দেশ, দেশের মানুষ আর নেতার জন্যে, যে মানুষটা যুদ্ধের পর পোড়া ভিটায় বাড়ি তোলেন নি দেশের মানুষকে ঘর ফিরিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত, যে অতিমানবটা রাতে ঘুমাতে পারতেন না শরণার্থী শিবিরের মানুষগুলোর চিন্তায় চিন্তায়-

তিনি বিনিময়ে পেয়েছেন তাঁর পরম-উপাস্য নেতার অবিশ্বাস, পদচ্যুতি, নিঃসঙ্গতা আর যার অদূর(এবং সুদূর)প্রসারী ভয়ানক বিধ্বংসী ফল ভোগ করেছে বাঙালী জাতি।

জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড়ঘোরানো ভুল..!

শেখ সাবকে হত্যার পর যখন তাঁর অন্যতম ঘাতক বজলুল হুদা তাঁকে সুবর্ণ প্রস্তাবনা দিলেন প্রধানমন্ত্রীত্ব নেওয়ার, তাজউদ্দীন দৃপ্তকণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, “নেতার রক্তের উপর দিয়ে হেঁটে আমি প্রধানমন্ত্রী/প্রেসিডেন্ট হতে চাই না”।

ঘাতক মীরজাফররা বুঝে নিয়েছিলো যা বোঝার!
তাজউদ্দীনকে বাঁচিয়ে রাখা মানে আরেক বঙ্গবন্ধুকে রেখে যাওয়া।
সুতরাং ৩রা নভেম্বরের অভ্যুত্থান অনিবার্য!
আর তারপরই…
কিছু লাল রঙ…
অসংখ্য কালোর জন্ম…!

যুদ্ধদিনের নেতা,
আপনার কাছে ক্ষমা চাইবো না। কখনোই না।
ভুল করলে ক্ষমা চাইতে হয়, আমরা ভুল করি নি।
বারবার একই কাজ করলে তা আর ভুল থাকে না।
তা অপরাধ হয়ে যায়!
নিজেদের ভাগ্যদেবীকে নিজ হাতে পিষে ফেলেছি আমরা।
এই অপরাধের ক্ষতিপূরণ হয়তো কখনোই করতে পারবো না, শুধু যে স্বপ্ন আপনি দেখেছিলেন আপনার লাল-সবুজের জন্য, সেই লাল-সবুজটাকে আরো গাঢ় করার প্রচেষ্টা করব, করেই যাবো…
দেহে শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
Ad

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

Ad