ইউফোরিয়া | কবিতা

দেশলাই ডুবে গেছে দূর্বাঘাসে নক্ষত্র মুছে গেছে নীল আকাশে বাতাস হারিয়ে গেছে দীর্ঘশ্বাসে রক্তাক্ত কিশোর ভাসে ও তিতাসে সর্বনাশ দ্যাখা দিচ্ছে চৈত্রমাসে হিম ঘর ভরে উঠছে কাটালাশে বাঁশির বিষণ্ণধ্বনি ঠোঁটে হাসে বুক ভেঙে যাচ্ছে লাল অবিশ্বাসে নিজের ছায়াও নেই আশেপাশে আক্রান্ত শহর বৃষ্টি ও সন্ত্রাসে এমন সময়ও যদি কল আসে সংক্ষেপে জানিয়ে দিও পূর্বাভাসেঃ “তারপরও আঙুরলতা নন্দকে ভালবাসে…” (ছবি- কি জানি দেশের না জানি কে)

"ইউফোরিয়া | কবিতা"

মুনাজাত

কখনো, কখনো, ক্ষমা কোরো না ঈশ্বর তারাও একদিন যেনো কোনো নদী তীরে এভাবেই পড়ে থাকে কাদার ভিতর মরামুখে হাসি নিয়ে রক্তাক্ত শরীরে তাদের সমস্ত সঙ্ঘে আর রাষ্ট্রে যেনো দাউ দাউ করে জ্বলে অগ্নি নরকের ওরা তো পশুরও করুণাযোগ্য নয় কলঙ্ক হয়ে আছে মানব জন্মের নামহীন গোত্রহীন এই শিশু, তাকে বুকে ধরে রাখতে কষ্ট হবে কবরেরও ওকে তুমি ঠাঁই দিও স্বর্গের উদ্যানে ফোয়ারার পানি হয়ে উপচে পড়তে দিও নিষ্পাপ মৃত্যুর স্মৃতি বুকে বয়ে নিয়ে আমরা বেরোব…

"মুনাজাত"

মরছে মরুক, ‘ছোটলোক সব’…

আমরা খাবো ‘ক্যায়লাস’ খের, আমরা খাবো ফোক, আমরা সবাই আছি বুঁদে, ভুলে বাংলার শোক। আমরা সবাই ‘ক্রিকেট’ খাবো, খাবো ক্লাসিকাল ফেস্ট, শ্রমিক কৃষক বাঁশ খাবে যে, যার যেরকম টেস্ট! আমরা সবাই ‘প্যাকেজ’ খাবো, আনলিমিটেড ‘নেট’, পেয়ে গেছি আমরা সবাই, ‘উন্নয়ন’ টিকেট! আমরা কাবু সব আফিমেই, সব হয়ে যাই টাল, মরছে মরুক, ‘ছোটলোক সব’, কি আসে যায়, বাল! – কাজী তাহমিনা, শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি

"মরছে মরুক, ‘ছোটলোক সব’…"

অথচ!

          অথচ তোমাকে দেখার আগেও নাকি সূর্য উঠত! অথচ তখনও নাকি অদ্ভুত আঁধার ভেদ করে, সূচের মত আলোর দলবল চোখেদের বিদ্ধ করত! তখনও না’কি সূর্য ছিল, আলো ছিল; সুরময় অন্ধকার ছিল! কী অদ্ভুত!   তোমাকে দেখার আগেও না’কি দুপুর হত, বিকেল হত! অথচ তখনও না’কি সন্ধ্যা গড়িয়ে সাদাটে আকাশ নিজের বুকে সূর্যকে বিদ্ধ করে আত্মহনন করত! অথচ আগেও না’কি লালচে রক্তে ছেয়ে যেত সন্ধ্যার আকাশ! কী অদ্ভুত! আর অস্বাভাবিক!   অথচ…

"অথচ!"

হুমকি দিচ্ছি

          হুমকি দিচ্ছি, একদিন তোমার ঠোঁট থেকে সবটুকু কোমলতা খসে পড়বে। শীতের রুক্ষতায় ছেয়ে যাবে অধর।   হুমকি দিচ্ছি, কোন একদিন তোমার হাসিতে টোল পড়বে না গালে। যে হাসিতে মুগ্ধ হয়েছিলাম, তা আর কেউ দেখবেনা।   হুমকি দিচ্ছি, কোন এক বিকেলে গলা দিয়ে বেরোবে না আর কোন ধ্বনি। বিকেলের পাতার সাথে আর গাইবে না রবীন্দ্র সংগীত।   হুমকি দিচ্ছি, একদিন তোমার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে বিষাদ টলমল করবে আকাঙ্খার সরোবর।   হুমকি…

"হুমকি দিচ্ছি"

আমি ভুল সময়ে জন্মেছিলাম

লিখেছেন- নাহিদ ধ্রুব আমি পাখি হয়ে জন্মাতে চেয়েছিলাম- কিন্তু দোনলা বন্দুক আবিষ্কার হওয়ায় আমি আর সে সাহস করলাম না। জন্মালাম মানুষ হয়ে- সময়ের বোঝা – অভিশপ্ত ঠিকানা – মৃত্যুঞ্জয়ী ভাবনা সঙ্গী করে। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম দুর্বিপাকের গোলকধাঁধায় মুখ ডুবিয়ে- সময়ের আগে যারা জন্মেছিল তাদের নিয়ে। হোল না- সংশয়ে ডুবে যেতে আমার সময় লাগে নি। পৃথিবীর চাহিদা পুরনে আমি হয়েছি জ্ঞানপাপী। জেনেছি- গ্যালিলিও মিথ্যেবাদী ছিল – সক্রেটিস ছিল সময়ের প্রয়োজন। আর আজকের সাম্যবাদে যারা রুশো কে…

"আমি ভুল সময়ে জন্মেছিলাম"