সভিন্দে নামের এই জার্মান তরুণী বাংলাদেশে এসেছিলেন এই দেশটাকে ভালোবেসেই। সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন ক্যামেরা। সুন্দর বাংলাদেশের ছবি তুলে নিয়ে যাবেন। দেখাবেন নিজের দেশে। গত ৫ মাস ধরে সকালে থেকে রাত খেটেছেন। তীব্র গরম, নানা প্রতিকূলতা, কিছুই দমাতে পারেনি।

রাশি রাশি ছবি তুলছিলেন, আর সেগুলো জমা হচ্ছিল বাংলাদেশে তাঁর বন্ধুদের কম্পিউটারে।

বন্ধুদের কাছে জমিয়ে রাখা ছবিগুলো নিজের দুটি হার্ডড্রাইভে ভরে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় ফিরছিলেন বাসায়। তখন ধানমন্ডিতে ছিনতাইয়ের শিকার হন। ল্যাপটপের ব্যাগটি টান মেরে নিয়ে যায় সাদা রঙের গাড়িতে থাকা ছিনতাইকারী চক্র। 

না, ল্যাপটপ বা ডলার হারিয়ে যাওয়া নিয়ে কোনো শোক নেই তাঁর। কষ্ট গত ৫ মাসের পরিশ্রম করে তোলা ছবিগুলো যে হারিয়ে ফেললেন! নিজের সন্তানকে হারিয়ে ফেলার চেয়ে এই শোক হয়তো কম নয়। আমার ল্যাপটপ চুরি গিয়েছিল, হারিয়ে গিয়েছিল আমার কত কত লেখা; কিছুটা হলেও সেই কষ্ট অনুভব করছি।

পাহাড়-পর্বত কিংবা মরুপথে সাইকেল চালিয়ে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। প্রায় অর্ধেক পৃথিবী চষে বেড়িয়েছেন। সহজে ভেঙে পড়ার মানুষ তিনি নন। সেই সভিন্দে দুই দিন ধরে শুধুই কেঁদেছেন। কিছুই খাননি। এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন, শেষে বন্ধুরা তাকে তুলে দিয়েছেন দেশের বিমানে।

যাওয়ার আগে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, প্রতিটা বোবা অক্ষরে আমি আর্তকান্নার স্বর শুনেছি: ‘আমি এখন দেশে ফিরে গিয়ে আমার বন্ধু আমার পরিবারের মানুষদের কী করে দেখাব, এই দেশটা কত সুন্দর! এই দেশের মানুষ কত দ্রুত সবাইকে আপন করে নেয়! কত সহজে এই দেশে ঘোরা যায়! কী করে বলব?’

নানা কারণে অনেক বিদেশির কাছে আমাদের দেশটা একটা ভয়ংকর জায়গা। তবু সভিন্দের মতো কিছু মানুষ এই দেশটাকে আমাদের অনেকের চেয়ে বেশি করে ভালোবেসে ফেলেন। এর প্রতিদান এমন হতে পারে না কিছুতেই।

আমরা কি কিছু করতে পারি? কী করতে পারি সেটা বুঝছি না বলে আরও অসহায় লাগছে। ল্যাপটপটা নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও বিক্রি হবে? কোথায় বিক্রি হয় চোরাই ল্যাপটপ? কোনোভাবে কি শুধু ছবিগুলো আমরা ফেরত আনতে পারি? গুগল ড্রাইভে আপলোড করে লিংক পাঠিয়ে দিতে পারি সভিন্দের কাছে?

সভিন্দের জন্য মনটা কেমন জানি করছে!

Comments
Spread the love