সুশান্ত থেকে ধোনি: শেখার আছে অনেক কিছু

Ad

“সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার এক বছর আগে থেকে কড়া ট্রেনিংয়ের মাঝে ছিলাম। আমাকে ট্রেইন করার মূল দায়িত্ব ছিল তিনজনের কাঁধে- কিরণ মোরে, সাইকোথেরাপিস্ট বৈভব দাগা আর ভিডিও অ্যানালিস্ট দেবরাজ। প্রথম চারমাস শুধু ক্রিকেটের শটগুলো পারফেক্ট করার চেষ্টা করেছি। ডিফেন্স, কভার ড্রাইভ, স্কয়ার কাট- সব ধরনের শট নিজের আয়ত্তে আনার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। সাথে উইকেটকিপিংস এর বেসিক তো ছিলই।

কিরণ স্যার খুব কড়া। আমি তাকে বেশ ভয় পাই। প্রতিদিন সকাল পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মাঝে ট্রেনিং শুরু হতো। প্রথম ৪৫ মিনিট ওয়ার্ম আপ ড্রিলস হত। তারপর এক একদিন এক এক শটের উপরে ফোকাস হত। ধরুন একদিন কিরণ স্যার বললেন- আজ শুধু স্কয়ার কাট। মানে সেদিনের ট্রেনিং এ শুধু স্কয়ার কাটই প্র্যাকটিস করব। বোলিং মেশিনের সামনে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে স্কয়ার কাট মেরে যেতাম। হাত ব্যথা হয়ে যেত। কিন্তু আমি চালিয়েই যেতাম। একটু থামলেই কিরণ স্যার এর বকুনি! আড়াই ঘণ্টা পরে স্যারের একটু মায়া হত। আধাঘণ্টা ব্রেক পেতাম। এরপরে আবার দেড় ঘণ্টার জন্য উইকেট কিপিং এর জন্য প্র্যাকটিস। প্রশিক্ষণের প্রথম চারমাসের মাঝেই আমার বেসিক কাজটা হয়ে গিয়েছিল। ক্রিকেটের বেসিক জিনিসটা কিরণ স্যার এর কল্যাণে খুব ভালোভাবে শেখা হয়েছিল আমার।

এরপর ছয় মাস আমি ভিডিও অ্যানালিস্ট দেবরাজের কাছে প্রশিক্ষণ নেই। তার সামনে দুটো মনিটর রাখা থাকতো। একটাতে ধোনি ভাইয়ের শটগুলো চলত, আরেকটাতে আমার মারা শটগুলো। এরপর দেবরাজ আমাকে ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন আমার সাথে ধোনি ভাইয়ের মারা শটগুলোর পার্থক্য কোথায়। আমি ধোনিভাইয়ের প্রায় হাজারের উপরে ফুটেজ বলতে গেলে মুখস্ত করে ফেলেছিলাম। he is so powerful yet so classy! শেষ দুই মাস আমি শুধু জোর দিয়েছিলাম তার ট্রেডমার্ক হেলিকপ্টার শটে।

আর সাইকোথেরাপিস্ট বৈভব আমাকে নিয়ে অনেকগুলো সেশন করেন। কারণ ধোনি ভাই যতটা ভাল খেলোয়াড়, ঠিক ততটাই তার মানসিক কাঠিন্য! যেকোনো পরিস্থিতিতে সে তার মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারে আর সেটা তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে ফুটে উঠে। ট্রেনিং এর সময় আমি একাধিকবার ব্যথা পেয়েছি। মনে হয়েছে, এই ক্যারেক্টার আমার দ্বারা করা সম্ভব না। কিন্তু বৈভব আমাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকতে অনেক বেশি হেল্প করেছে। এছাড়া ধোনি ভাইয়ের কাছ থেকে পার্সোনালি পাওয়া টিপস তো ছিলই!

মাথায় শুধু একটা জিনিস কাজ করতো- আমি যেন ধোনি ভাইয়ের সম্মানটা রাখতে পারি, নিজের দেশের সম্মানটা রাখতে পারি”

– সুশান্ত সিং রাজপুত

*

সিনেমা যখন একজন বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়ে হয় অর্থাৎ বায়োপিক সিনেমা, আর সেই বায়োপিক সিনেমা যখন একজন ন্যাশনাল আইকন, একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে হয়- তখন এক্সট্রা ডেডিকেশন ক্যারেক্টারের প্রয়োজনেই চলে আসে। এই ক্যারেক্টারের প্রয়োজনটা কতজন অভিনেতা মেটাতে পারেন, সেটাই দিনশেষে ম্যাটার করে। আর এই ডেডিকেশনের ক্ষেত্রে সুশান্ত সিং রাজপুত নিজের সেরাটাই দিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এ কারণেই তার চেহারা ধোনির মতো না হলেও শুধুমাত্র ডেডিকেশনের কারণে বারবার মনে হচ্ছিল পর্দায় সেই আসল ধোনিকেই দেখা যাচ্ছে। এই ডেডিকেশনের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে, অনেক কিছু!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (2 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

Ad