“নিদাহাস কাপে বোর্ড ঠিক করবে (দায়িত্বে কে থাকবে)। কারণ বোর্ডই আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। কাজ করব না, এই কথা আমি কখনোই বলতে চাই না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাঙালি কেউ কাজ করলেই সবচেয়ে বড় সমস্যা। দল হেরে যাওয়ার পরও যে আমি এই দেশে আছি, এটা বড় কথা। চন্দিকা যখন প্রথম এলো, আরও বড় বড় কোচ এসেছে, তখনও শুরুতে ফল খারপ হয়েছে। কিন্তু এরকম হয়নি।”

“খারাপ ফলের দায় আমি নিতেই পারি। আমাদের পরিকল্পনায় ভুল থাকতে পারে, আরও কিছু থাকতে পারে। কিন্তু আরও অনেক ঘটনা তো আসে (মিডিয়ায়)। আমার ওপরও অনেক দায় আসে। এটা আমি বোর্ডকে বলব। তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমি একটুও আগ্রহী নই। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গেই আমার কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। নোংরা লাগছে জায়গাটা।”

“এত বছর ধরে আমি কাজ করছি, সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কাজ করেছি। আমার কেনো স্বার্থ নেই। ক্রিকেট বোর্ডে থাকাটাও আমার কোনো স্বার্থের ব্যাপার নয়। আমি সত্যি বলতে আগ্রহী নই।”

“অন্য কিছু নয়। বলার কিছু নেই। আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। নোংরা বলতে গেলে, মিডিয়ায় যেভাবে বলা হয়… আমাদের ক্রিকেটের একটা বড় অন্তরায় মিডিয়াও। আমরা এত ‘ফিশি’ হয়ে যাচ্ছি আস্তে আস্তে, মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকে আছে কিনা, সেটাও একটা প্রশ্ন এখন আমার কাছে।”

“মিডিয়ায় এত বেশি আলোচনা হচ্ছে… আমার এটা মনে হচ্ছে, এত বছর ধরে ক্রিকেটে আছি, এত গসিপিং, এত কিছু… এসব হবেই, ভালো-খারাপ আসবেই। সবকিছুই আসবে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে আমাদের ক্রিকেটের জন্য।”

“আমার সিদ্ধান্ত নয়। আমি তো গড নই। আমি একটা খালেদ মাহমুদ সুজন, সামান্য একজন মানুষ। আমার সামর্থ্যও অনেক কম। আমি এখানে দাঁড়িয়ে কাজ করছি, মানুষ সেটা স্বীকার করুক বা না। আমি যখন থেকে ক্যারিয়ার শুরু করি ১২-১৩ বছর বয়স থেকে.. আমার মেধা খারাপ হতে পারে,টেকনিক্যালি খারাপ হতে পারি, হয়ত জানি না অনেক কিছু, কিন্তু অন্য বিষয়ে যখন কথা হয়, তখন আমাকে তা অনেক কষ্ট দেয়।”

“যখন বলা হয় আমি আবাহনীর প্রধান কোচ, মোসাদ্দেককে খেলাইনি আবাহনীতে খেলানোর জন্য… যখন জাতীয় স্বার্থের কথা বলে কেউ এই ধরণের কথা বলে, তখন সত্যিই কষ্ট পাই। কারণ, আমি মনে করি না বাংলাদেশ দলের চেয়ে বেশি আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে স্পর্শ করতে পারে। পারবেও না। এসব কথা যখন বলা হয়,তখন সত্যিই খারাপ লাগে। মনে হয় যে এত বছর ক্রিকেটে থেকে কী লাভ হলো! মোসাদ্দেক ও আবাহনী যদি বাংলাদেশ দলের ম্যাচ হারার কারণ হয়ে যায়,তখন তা আসলেই কঠিন।”

“৫৩ বলে ৮ রান করেছে, আমি দেখেছি, আমারও ক্রিকেট জ্ঞান আছে। ১৯৮৩ সালে শুরু করেছি খেলা। কে পারে বা কে পারে না, কাকে কখন দরকার, এটা আমরাও বুঝি। আপনারা মিডিয়া হয়ত ভালো বোঝেন আমাদের থেকে, তবে আমরাও বুঝি।”

“আমি বলতে চাচ্ছি, আপনারা কিছু প্রতিষ্ঠা করতে চান। চন্দিকা চলে গেল কেন? অনেক কিছু প্রতিষ্ঠা করানো হয়েছিল। অনেক কিছু করানো হয়। আমার পেছনে যদি লেগে থাকে এভাবে, তাহলে আমি ভালো করলেও কখনও ভালো হবে না।”

“আমি সুজন এত বছর যা করেছি,কখনও শুনিনি ভালো কিছু করেছি। শুধু শুনি খারাপই করেছি। সোশ্যাল মিডিয়া বলেন বা মিডিয়া, আজকে এমনও শুনি যে রাস্তায় গেলে নাকি মারও খেতে হতে পারে। ক্রিকেট খেলার জন্য রাস্তায় মার খেতে হলে তো খুব বিব্রতকর ব্যাপার।”

“আমি হয়ত বালাদেশের জন্য ভালো কিছু করছি না। যদি ভালো কিছু না করি, তাহলে এখানে থাকার দরকার কী! আমি এখানে কোনো স্বার্থের জন্য আসিনি। কিছু দরকার নেই আমার। আমি খুব ভালো আছি। খুব সুখী আছি। যা চাকরি করি, যতটুক পাই, খুব ভালো আছি।”

—খালেদ মাহমুদ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল 

আরিফুল ইসলাম রনির ফেসবুক ওয়াল থেকে।
সিনিয়র ক্রিকেট করেসপন্ডেন্ট, বিডিনিউজ২৪.কম। 

Comments
Spread the love