মনের অন্দরমহলরিডিং রুম

লোকে বলে, ও বলে রে…

ভদ্রলোক ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করছেন! আর আমরা নিজেদের মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে বসে, দাঁড়িয়ে কিংবা হেঁটে-হেঁটে সেই দৃশ্য দেখছি! শেষমেশ অবশ্য এই যাত্রায় রক্ষা হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেননি!

দিন তিনেক আগের ঘটনা এটি। তার নাম, পরিচয় কিংবা তিনি ঠিক কোন কারনে আত্মহত্যা করতে চাইছিলেন- এই নিয়ে লেখার প্রয়োজনবোধ করছি না। গভীর রাতে তিনি কোন কারণে আত্মহত্যা করতে গেলেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

বছর তিন কি চার আগেও এমন একটা ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। জেলা শহরের এক স্থানীয় সাংবাদিক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলেন (তখনও বোধকরি লাইভ চালু হয়নি!) বাংলাদেশে তখন গভীর রাত। বেশিরভাগ সবাই ঘুমিয়ে’ই থাকবে। আমি বুঝতে পারছিলাম- দেশে হয়ত কেউ তার আত্মহত্যার স্ট্যাটাস পড়বে না।

সকালে উঠে যতক্ষণে লোকজন তার পোস্ট পড়বে, সে হয়ত এর মাঝেই আত্মহত্যা করে ফেলেছে! আমার এখানে তখনও খুব বেশি রাত হয়নি। আমি তার আত্মহত্যার স্ট্যাটাস দেখে, সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ফোন দিলাম। এমনভাবে কথা বলছি- যাতে সে বুঝতে না পারে- আমি তার স্ট্যাটাস পড়েছি। এর মাঝে অবশ্য দেশে তার এলাকার কয়েকজনকে ফোনে ব্যাপারটা জানানো হয়ে গিয়েছে।

আমি এটা ওটা কথা বলেই যাচ্ছি। অনেক দিন আপনার সঙ্গে কথা হয় না, আপনার করা শেষ রিপোর্টটা তো সেই রকম হয়েছে। অন্যান্য খবরাখবর কি!

ভদ্রলোক তার জীবনের শেষ মুহূর্তেও (যেহেতু তিনি আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন, সেই হিসেবে) বেশ ভদ্রতা সহকারে আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এক ফাঁকে তিনি বলে বসলেন,

– ভাই, আপনার মত মানুষ আমাকে ফোন করেছেন, মনে রেখেছে; আমি তো ধন্য!

এরপর তিনি বললেন,

– এই বয়েসেও ভাই আপনাকে কতো তরুণের মতো দেখায়! আমার তো খুব হিংসে হয় আপনাকে দেখে!

আমি তার কথা শুনে ভাবলাম- মৃত্যুপথযাত্রী মানুষজনও তাহলে হিংসে করে! শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যা করতে পারেননি। টেলিফোনে কথা শেষ হতে হতে তার বাসায় মানুষজন গিয়ে হাজির হয়েছে! ভদ্রলোক বেঁচে আছেন এবং জীবনকে তিনি তার মতো করেই উপভোগ করছেন। 

আত্মহত্যা, মানসিক অবসাদ, হতাশা, বিদ্রুপ, ভ্রমণ, ডিপ্রেশান

আত্মহত্যা করার চিন্তা বা এই জীবন থাকা আর না থাকার মাঝে পার্থক্য’টাই বা কী; এমন প্রশ্ন আমাদের সবার মাথাতেই হয়ত জীবনের কোন না কোন স্টেজে এসছে বা আসতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু তাই বলে আত্মহত্যা করে বসতে হবে?

আমাদের মাঝেই কেউ হয়ত চাকরী করতে গিয়ে বেতন না পেয়ে হতাশ হই, কেউ হয়ত চাকরী না পেয়ে হতাশ হই, কেউ আবার পরীক্ষায় ফেল করে হতাশ আর প্রেম-ভালোবাসা কিংবা সম্পর্কের কারনেও আমরা অনেক সময় ভেঙে পড়ি।

নিজের জীবনের পুরো গল্পটা হয়ত লেখা যাবে না। তবে যারা এভাবে আত্মহত্যা করতে যায়, তাদের দেখলে আমরা খুব করুণা হয়। সেই ছোটবেলা থেকেই মানুষজন নানান কারণে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। আমার স্কুলের ক্লাস মেটরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। খেলতে গেলে সেখানেও ছেলেপেলেরা হাসাহাসি করত! একসময় তো স্কুলে যাওয়াই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো। যেহেতু কোন কিছুই মানিয়ে নিতে পারি না! তাই স্কুলে যাবার প্রয়োজন নেই!

সামান্য একটু জোরে কথা বললেই ঘাবড়ে যাই, ক্লাসে কোন পড়াই বুঝতে পারি না! ডাক্তাররা বললেন এটা ওর জন্মগত। স্কুলে না পাঠিয়ে বাসাতেই পড়ানো ভালো! আমার মা দমে না গিয়ে লেগে থাকলেন। 

সেই আমি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে, পৃথিবীর ছয়টা দেশের ছয় ছয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি। জগতবিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়েছি। এখন পড়াচ্ছিও। তাই বলে কি লোকজনের হাসাহাসি বন্ধ হয়ে আছে? জন্মগত সমস্যা কি এতো সহজে যায়!

এইতো সেদিন বিদেশে এখানকার দেশি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছি , গান-বাজনা হচ্ছে; এমন সময় ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই বলে বসলো,

-স্যার, আপনি গাড়ি কেনেন না কেন? আপনার তো একটা গাড়ি থাকা উচিত।

সাধারণত আমি যে কোন ধরনের ব্যক্তিগত প্রশ্ন এড়িয়ে যাই। কেন জানি না, সেদিন উত্তরে বলে দিলাম

-আমি তো আসলে গাড়ি চালতে পারব না।

আমি দেখলাম পুরো আসরে সবাই চুপ করে গেল। আমি জানি, এই উত্তর যদি আমি ছাড়া অন্য আর কেউ দিত, ওরা এটা নিয়ে হাসাহাসি করত। যেহেতু আমি তাদের শিক্ষক, তাই তারা চুপ হয়ে গিয়েছে!

এখানে নিজে ড্রাইভ না করতে পারলে, ড্রাইভার রেখে গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব! যদিও আমি দেখলাম আমার ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে এই উপদেশও দিয়েছে!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এই জন্য কি আমার খারাপ লেগেছে?

মোটেই না!

আত্মহত্যা, মানসিক অবসাদ, হতাশা, বিদ্রুপ, ভ্রমণ, ডিপ্রেশান

এই যে আমি এস্তোনিয়া নামক একটা দেশে থাকি, যেই দেশটার নামই হয়ত কেউ শুনেনি; কেন আমি এই দেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি?

জীবিকার প্রয়োজনে আমার চাকরী করার আসলে সেই অর্থে দরকার নেই। বেঁচে বর্তে থাকার মতো আর্থিক সচ্ছল পরিবারেই আমার জন্ম। জীবিকার জন্য আলাদা কোন পেশা বেছে না নিলেও আমি কোন কিছু না করে এক জীবন পার করে দিতে পারব বলেই আমার ধারণা।

সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ে আমি কেন দিন শেষে এস্তোনিয়াতে থাকছি, এই নিয়েও প্রশ্ন শুনতে হয়!

আসলে উত্তরটা খুব সোজা। এই দেশটি জগতে যতগুলো দেশ আছে, তার মাঝে ঠিক এক নাম্বারে! কোন বিষয়ে? এরা এদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং পেশাগত জীবনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনকে গুলিয়ে ফেলে না। তিন বছর ধরে চাকরী করছি। আমার কোন সহকর্মী এক মুহূর্তের জন্য আমাকে জিজ্ঞেস করেনি, তোমার বাবা-মা কি করেন? তুমি কি বিয়ে করেছ? তোমার কি ছেলে-মেয়ে আছে? বিয়ে করছ না কেন?

এইসব প্রশ্ন তো দূরে ঠাক, একদম সাধারণ ব্যক্তিগত কোন প্রশ্নই এরা আমাকে জিজ্ঞেস করেনি; আমিও এদের জিজ্ঞস করতে যাইনি। এর মানে কি এই- এরা এদের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে কেউ কারো সঙ্গে কথা বলে না কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে কখনোই এই প্রসঙ্গে কথা হয় না?

অবশ্যই হয়। যদি আপনি নিজে থেকে বলেন, তাহলে তারা শুনবে; কথা বলবে, তারাও হয়ত তখন তাদের ব্যাপার আপনার সঙ্গে ভাগাভাগি করবে। অর্থাৎ এটা নির্ভর করছে- আপনি নিজে, নিজের ব্যাপার অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন কিনা।

এইতো মাস দেড়েক আগে এখানকার এক বাংলাদেশি ভদ্রলোক হাসতে হাসতে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই এই যে আপনি এত বড় বড় লেখা লিখেন, এত সময় আপনি পান কই থেকে? তিনি হেসে হেসে এমন ভাবে জিজ্ঞেস করছিলেন- আমার মনে হচ্ছিলো, তিনি হয়ত বলতে চাইছিলেন, আপনার কি খেয়ে দেয়ে আর কাজ নেই!

আমি তাকে উত্তরে খুব সহজভাবেই বলেছিলাম, লেখালেখিটা আমার তিন বেলা ভাত খাবার মতো। না লিখলে মনে হয় কিছু একটা করা হয়নি আমার! তার কাছে হয়ত ব্যাপারটা হাস্যকর মনে হতে পারে; সেটা তার ব্যাপার; তাই বলে কি আমি এই নিয়ে মন খারাপ করবো? মোটেই না!

জীবনটা তো আমার। আমি কিভাবে আমার জীবন যাপন করবো সেটা একদমই আমার নিজের সিদ্ধান্ত।

পৃথিবীর ৭৮’টার বেশি দেশ আমি ভ্রমণ করে ফেলেছি, হাজারো রকম মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। ১০০ টা দেশ ভ্রমণ করে ফেলা আমার খুব কাছের বান্ধবী সোহাগী আপার (নাজমুন নাহার) কথা মনে হচ্ছে এখন।

তিনি এখন দেশে ভ্রমণ কন্যা হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। নানান টেলিভিশনে তিনি তরুণদের মোটিভেশন দেন। পত্র-পত্রিকা গুলো তাকে নিয়ে ফিচার স্টোরি ছাপায়! জীবনকে কিভাবে উপভোগ করা যেতে পারে, এই বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন।

পৃথিবী ঘুরে, তিনিও হয়ত বুঝতে পেরেছেন- জীবন একটাই এবং এই জীবনে কত কিছুই না করার আছে। তিনি একা একজন বাংলাদেশি মেয়ে হয়ে পৃথিবীর একশোটার বেশি দেশ ঘুরে ফেলেছেন। এর মাঝে কয়েকটা দেশ অতি অবশ্যই আমরা একসঙ্গে ঘুরেছি।

তিনি সুইডেনে আমার ক্লাসমেট ছিলেন। আমরা সুইডেনে একসঙ্গে পড়াশুনা করেছি। আমার ইচ্ছে আছে দেশে গেলে কোন এক পত্রিকায় কিংবা টেলিভিশনে আমাদের দুজনের অভিজ্ঞতাগুলো এক সঙ্গে তুলে ধরা।

গল্পটা এত সহজ ছিল না। এখন হয়ত মনে হবে একশোটা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি কিংবা আমিও দেশ বিদেশে পড়াচ্ছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি, লেখালেখি করছি; আহা কতই না আনন্দ জীবনে! 

আত্মহত্যা, মানসিক অবসাদ, হতাশা, বিদ্রুপ, ভ্রমণ, ডিপ্রেশান

অথচ সুইডেনে যেই শহরে পড়তে গিয়েছিলাম, সেই শহরেই অন্য অনেক বাংলাদেশি আমাকে নিয়ে কতভাবেই না হাসাহাসি করেছে! আমি মাঝে মাঝে ভাবতাম- আমি তো এভাবেই জন্মেছি। এতে আমার অন্যায়টা কোথায়! তাদের হাসাহাসির জন্য কি আমি থেমে গিয়েছি?

না, আমি আমার মতো করেই এগিয়েছি! এদের অনেকেই হয়ত পড়াশুনা শেষ করতে পারেনি, কেউ হয়ত দিনমজুরের কাজ করছে, কেউ হয়ত অন্য কিছু করছে! কাউকে হয়ত বিফল হয়ে দেশে ফেরত যেতে হয়েছে! অন্য মানুষজনের কথা শুনে, তারা আপনাকে কি বলল; সেটা ধরে যদি আপনি নিজেকে মূল্যায়ন করতে থাকেন; তাহলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন! অন্যরা আপনাকে কিভাবে মূল্যায়ন করছে, সেটার চাইতে অনেক বেশি জরুরী আপনি আপনার নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন। জীবনটা তো আপনার, অন্য কারো না!

মানুষের ঘৃণা, হাসাহাসির পাত্র হওয়ার পরও আমি কিন্তু মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছি। কারণ আমার মা আমাকে সব সময় বলতেন- জীবনটাকে খুব সহজভাবে দেখবে। তাহলে দেখবে সব কিছু সোজা হয়ে যাবে। এক মেয়ে ফেসবুকে আমার লেখা পড়ে আমাকে ভালবেসেছে। এরপর আমাকে জানিয়েছেও।

আমি তাকে বলেছি- দূর থেকে লেখা পড়ে ভালোবেসে ফেলা! এইসব ফেসবুকীয় ভালোবাসায় আমি বিশ্বাসী নই। সেই সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে বলেছি- আমার পক্ষে হয়ত তোমাকে ভালোবাসা সম্ভব না।

এই মেয়ে এরপর হঠাৎই আমার এই শহরে হাজির হয়েছে। তার সঙ্গে এই শহরের রাস্তায় হেঁটে-বেড়িয়েছি; মেয়েটা আমার বাসায় এসে এমনকি শুঁটকী মাছও রান্না করেছে! এরপর আবার চলে গিয়েছে। যাওয়ার সময় আমি বললাম- আমরা হয়ত ভালো বন্ধু হতে পারি।

মেয়েটা দেশে গেল এর মাঝে। আমাকে টেক্সট করে জানিয়েছে, সে আমাদের বাসায় যেতে চায়, আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চায়, দেখা করতে চায়। আমি মা’কে জানালাম। আমার বৃদ্ধ মা বললেন, এটা তো খুব ছোট খাটো ইচ্ছে, তোমার উচিত মেয়েটার এই ইচ্ছে পূরণ করতে দেয়া।

যদিও আমি নিজে বিদেশে। মেয়েটা আমার বাসায় গিয়েছে। আমার মা-বোনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার বিদেশে ফেরত এসছে।

সাধারণ চোখে যদি দেখি- বাংলাদেশে যে কোন পরিবারের জন্য এটা একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার! একটা মেয়ে আমাকে পছন্দ করে, সে আমার বাসায় স্রেফ যেতে চাইছে আমার মা’র সঙ্গে দেখা করতে; যেখানে আমি থাকি বিদেশে, মেয়ে নিজেও থাকে বিদেশে!

কিন্তু আমি পুরো ব্যাপারটা সহজভাবেই নিয়েছি, তার চাইতেও বড় ব্যাপার আমার মাও ব্যাপারটা তার চাইতেও সহজভাবে নিয়েছে।

দেশ বিদেশ ঘুরতে থাকা মেয়েটা এইতো দুই দিন আগেই আমাকে টেক্সট করে লিখেছে, তোমাকে দেখলে আমার মনে হয়, কিভাবে জীবনে বেঁচে থাকতে হয়। আমার যখনই মন খারাপ হবে; আমি তোমার কাছে চলে আসব।

আমি তাকে উত্তরে লিখেছি, ইউ আর অলয়েজ ওয়েলকাম।

ব্যাপারটা তুলে ধরলাম এই কারণে- কাউকে ভালো না বাসতে পারলে তাকে এড়িয়ে চলতে হবে; এমন তো না। সব কিছুকে সহজ করে দেখলেই তো হয়ে গেল।

ঠিক একই ব্যাপার কেউকে ভালোবেসে ফেলার যদি প্রত্যাখ্যাত হই, তো হলাম! তাই বলে ভালোবাসা পেলাম না বলে- এই জীবন আর রাখবো না ভাবার তো কোন মানে হয় না! কিংবা তার সঙ্গে কথা-দেখা সব বন্ধ করে দেবারও তো দরকার নেই। সহজ করে দেখলেই তো হয়! ঠিক একই ব্যাপার চাকরী না পেয়ে হতাশ হবার ক্ষেত্রেও কিংবা বেতন না পেয়ে অথবা পরীক্ষায় কম মার্ক্স কিংবা ফেল করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এসব কিছুকেই সহজ ভাবে দেখতে হবে। জীবনে কোন কিছুই স্থির না। কখনোই না।

চলতি পথে যা আসবে, সব কিছুকে সহজভাবে নিয়েই চলতে হবে। থেমে যাবার কোন সুযোগ নেই। আমাকে কত মানুষ জিজ্ঞেস করেছে, আপনার জীবনের মানে কি? আমি নিজেও নিজেকে এমন প্রশ্ন করি। এরপর নিজেই আবার উত্তর পেয়ে যাই। 

আত্মহত্যা, মানসিক অবসাদ, হতাশা, বিদ্রুপ, ভ্রমণ, ডিপ্রেশান

ঢাকার রাস্তায় যেই ছেলেটা ঝালমুড়ি বিক্রি করছিল, তার সঙ্গে পরিচয় হওয়া; এরপর তার বাবা-মা’কে বলে তার পড়াশুনার খরচ চালিয়ে যাবার খরচ দেয়া। সেই ছেলে এখন বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে বিসিএস ক্যাডার!

অথচ তার পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে ঢাকার রাস্তায় ঝালমুড়ি বিক্রি করছিল ঠিক তার বাবার মতোই! আমি ঝালমুড়ি খেতে পছন্দ করি বলেই হয়ত সেদিন গিয়েছিলাম ঝালমুড়ি কিনতে! তার সঙ্গে পরিচয় না হলে হয়ত সে আজও এই কাজই করত! এই ছেলে যদি হাল ছেড়ে দিত কিংবা আত্মহত্যা করতে যেত; তাহলে তো তার জীবনে আমি এসে আর হাজির হতে পারতাম না!

এমন আরও কত ছোটখাট ঘটনা আছে।

কে কি বলছে, সেটা ধরে বসে থাকার মোটেই দরকার নেই। জীবন তো আপনার, তাদের না! আপনি যখন একটা অবস্থায় গিয়ে পৌছবেন, তখন যারা আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছে, এরাই দেখবেন ক্রমাগত আপনার প্রশংসা করে বেড়াচ্ছে!

হাল ছেড়ে না দিয়ে স্রেফ জীবনকে তার মতো করে চালিয়ে নিতে হবে। কবে আমার-আপনার জীবনে এমন কোন কোন ঘটনা এসে উপস্থিত হবে, সে হয়ত আমাদের জানা নেই! কারো জীবনে হয়ত ২৫-এ এসে ধরা দেয়, কারো জীবনে ৫৫’তে!

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close