জিততে হলে শুধু বাউন্ডারি নয়, সিঙ্গেল-ডাবলসও নিতে হয়!

Ad

৩৪২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য। তাও বিরুদ্ধ কন্ডিশনে। প্রতিপক্ষ দলে সাউদি-বোল্ট তো আছেই, নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করা নবাগত ফার্গুসনও আছেন। কঠিনতম লড়াই, কোনো সন্দেহ নেই। তাহলে এই রানের চূড়ায় পৌঁছার প্রেসক্রিপশন কি?

ম্যাচশেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা যথার্থই বলেছিলেন, ‘ইনিংসের শুরুতে আউট হওয়া যাবে না। দেখে শুনে ক্রিজে সময় কাটাতে হবে। উইকেট হাতে থাকলে শেষে রানের গতি বাড়ানোর মতো ব্যাটসম্যান দলে আছে।’ ম্যাচ জেতার জন্য আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ এবং কার্যকরী সমাধান। তো বাংলাদেশ দলের শুরুটা কেমন হয়েছিল?

খোলা চোখে দেখলে ৭.২ ওভারে ৩৪ রানের ওপেনিং জুটি। মন্দ না নিশ্চয়ই! কিন্তু যখন জানবেন প্রথম ৭ ওভারেই ডট বল হয়েছে ৩৩টি, তখন কী বলবেন? এই শ্লথগতি অব্যাহত ছিল ইনিংসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। দলের ইনিংসের প্রথম ১২ ওভারে ব্যাট থেকে ‘সিঙ্গেল’ এসেছে কেবল ৩টি! স্রেফ অবিশ্বাস্য! এরকম ডট হলে আর যাই হোক, জয়ের আশা করা বাতুলতা। 

স্ট্রাইক রোটেট করাটা একটা মনস্তাত্ত্বিক এবং টেকনিক্যাল ব্যাপার। ওভারে ৪/৫টা সিঙ্গেল-ডাবলস নেওয়া মানে স্কোরবোর্ডে ক্রমাগত রান সংগ্রহ হতে থাকা, তাতে বোলার চাপে পড়বেন, প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হয়, বারবার ফিল্ডিং সেটাপে পরিবর্তন করতে হয়। তা না করে পাঁচ বল ডট দিয়ে ছয় নং বলে একটি চার মারলে কোনোভাবেই কি ব্যাটসম্যান সেট হন? দল কি চাপমুক্ত হয়? 

সাম্প্রতিক সময়ে একটি ব্যাপার চোখে পড়ার মতো, তামিম ইকবাল ধীরে-সুস্থে খেলছেন। রানের গতি বাড়ানোর দায়িত্বটা নিচ্ছেন ইমরুল কায়েসই। নিঃসন্দেহে তামিমের অভিজ্ঞতা-ম্যাচিউরিটি, সব মিলিয়ে তামিম বেশীক্ষণ সময় ক্রিজে থাকলে তা আদতে দলেরই লাভ। কিন্তু তা করতে গিয়ে নিজেকে খোলসবন্দী করা কেন! প্রতিটা বল কেবল ব্লক না করে সিঙ্গেলসের চেষ্টা সে অর্থে চোখে পড়েনি। বরং বল-রানের ব্যবধানটা একসময় বেড়ে যাওয়ায় তামিমকে সেই তেড়েফুঁড়ে ডাউন দ্য উইকেটে এসেই শট খেলতে হচ্ছে!

এদিকে ইমরুল কায়েস বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি পেলেও একবারের জন্যও সপ্রতিভ মনে হয়নি, বরং আউট হতে গিয়েও বেঁচে গিয়েছেন একবার। সৌম্য তো অনেক দিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন। ব্যর্থ হয়েছেন মাহমুদউল্লাহও। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা সব ম্যাচেই যে জ্বলে উঠবেন তা যেমন সত্যি নয়, ঠিক তেমনি প্রতিপক্ষের ভালো বোলিংয়ের সময় সিঙ্গেলস খুঁজে বের করে রানের গতি সচল রাখা যে অবশ্যই করণীয় ব্যাপার- তা দলের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের অবশ্যই মাথায় রাখা উচিৎ!

জিততে হলে শুধু বাউন্ডারি নয়, সিঙ্গেল-ডাবলসও নিতে হয়!

 আরও পড়ুন-

> ছয় মারার পরের বলটিতেই আবার ছয় হাঁকাতে যাওয়া কেন?

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad