২০১৫ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই ৮৮ আর ৯০ রানের ইনিংস দুটির পর গত দেড় বছর ঘরোয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জঘন্য আকারের রানখড়া কাটিয়েছেন সৌম্য সরকার। এদিকে গত পাঁচ-ছয় ম্যাচ ধরে সাব্বিরকেও যেন অজানা এক ভুতে পেয়ে বসেছিল। শুরু করছেন চমৎকারভাবে, কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারছেন না! হয় নিজের ভুলে, নয়তো অন্যের ভুলে হঠাৎই থেমে যাচ্ছে ইনিংস! সৌম্যকে নিয়ে তো দুশ্চিন্তা ছিলোই, সাব্বির কে নিয়েও কানাঘুষা শুরু হচ্ছিল বলে!

এই গোটা সিরিজে বাংলাদেশের যে দুর্দশা, সিনিয়রদের পাশাপাশি এই দুইজনও কি কিছুটা দায় অনুভব করছিলেন না দলকে কিছু দেওয়ার? নিজেদের প্রমাণ করার?

তাই বাংলাদেশ না ফিরলেও, অবশেষে আজকের ম্যাচে একই সাথে জ্বলে উঠলেন সৌম্য সাব্বির দুইজনই! তাদের দুইটি চমৎকার এবং সময়োপযোগী ইনিংসের কল্যানে বোলিং ইনিংসের সেই দুঃস্বপ্নের শেষেও টানেলের শেষপ্রান্তে খানিকটা আশার আলো দেখেছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেও ধুসরের মাঝে কিছুটা রংয়ের ছিটে হয়ে থাকল সৌম্যর ২৬ বলে ৩৯ এবং সাব্বিরের ৩২ বলে ৪৮ রানের ইনিংস দুটির কল্যানে!

সাব্বির শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে যে ছক্কাটা মেরেছেন, তা ছিল পৃথিবীর নিখুঁততম স্কুপ শটগুলির একটা! বাতাসের সাহায্যে আরও বেশ বড় দুটি হিট করেছেন। কিন্তু আউট হয়েছেন একেবারেই অ্যাক্রস দ্য লাইন বাজে একটা শট খেলতে গিয়ে। অপরদিকে নিজেকে নতুন করে চেনানোর ম্যাচে সৌম্য ছিলেন সমান বিধ্বংসী। লং অনের উপর দিয়ে মারা প্রতিটা ছক্কা মনে করিয়ে দিচ্ছিল হারিয়ে যাওয়া ২০১৫-এর সেই সৌম্য কে! 

এঁরা দুইজন বা দুইজনের মাঝে একজনও শেষ পর্যন্ত অন্তত টিকে গেলে হয়তো ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতো, অথবা আরেকটু সম্মানজনক হতেই পারতো! কিন্তু যে ফ্লো তাদের ব্যাটে দেখা গেছে, তা অনুপস্থিত ছিল আর বাকী সবার ব্যাটিংয়ে। বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সম্ভবত আজকেই সবচে বেশি আলস্য দেখা গেছে বাংলাদেশের! ব্যাটিংয়েও ইমরুল উপহার দিয়েছেন বরাবরের মতো চরম হতাশা! সাকিব-মোসাদ্দেক ক্যাচ প্র্যাক্টিস করিয়ে ফিরে গেছেন!

মাঠের ভিতরে বাইরে সব মিলিয়ে সেই আগের বাংলাদেশকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না! যাক তাও অন্তত সৌম্য-সাব্বিরকে খুঁজে পাওয়া গেছে- এটা মন্দের ভালো, আশার আলো! দেখা যাক দুইজনই তাদের এই নতুন শুরুটা কতটা শক্ত হাতে ধরে রাখতে পারেন! 

Comments
Spread the love