সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের আভ্যন্তরীণ কিছু মেজর ত্রুটি’র সংক্ষেপে কিছু বর্ণনা দিচ্ছি চিত্র সহ। আজ ঘুরে ঘুরে এই প্রথম দেখলাম, সোনার বাংলার কিছু সোনার মানুষের ডেডিকেশন ও দেশপ্রেম!!

ছবি-১ঃ নন এসি কোচের এক ফ্যান থেকে অন্য ফ্যানের দূরত্ব বেশি, ফলে মাঝের এক সারি করে সিটের (লাল দাগ, ৪ টি সিট) মাথার উপর কোন ফ্যান না থাকায় ফাঁকে পড়া যাত্রীদের গরমে ভালই কষ্ট হবে।

ছবি নং ১

ছবি-২ঃ এসি কেবিনের দরজার মাঝখানের মূল হাতল ওয়ালা লক, কেবিনের ভিতর থেকে আটকানোর কোন চাবি নেই (নীল দাগ)। বাইরে থেকে কেউ হ্যান্ডল ধরে টান দিলেই দরজা খুলে আসে। কিন্তু সুবর্ণে এই লক আটকানোর চাবি আছে।

ছবি নং ২

কেবিনের দরজা ভিতর থেকে আটকানোর জন্য উপরে ছোট্ট একটি ছিটকানি আছে (ছবিঃ৩), তা মোটেই নিরাপদ ও মানসম্মত নয়। ভয়ের ব্যাপার হবে, এই কোচ যদি রাতে তুর্ণায় দেয়া হয়। দরজায় আর কোন লক নেই।

গ্রামের বাড়িতে অথবা আমরা বাসা বাড়িতে বাথরুমের দরজায় ছোট যে ছিটকানি লাগাই, কেবিনের দরজায় সেটাই লাগানো হয়েছে এবং এটাই কেবিনের একমাত্র সিকিউরিটি!!!

ছবি নং ৩

ছবি-৪ঃ সব এসি স্নিগ্ধা কোচের শেষ সিট ৫৫ নাম্বার সিটের উপর এসির কোন ব্লোয়ার বা ছিদ্র নেই (লাল দাগ)। তবে মাথার উপর ছোট একটি ফ্যান আছে। সুবর্ণের এই জায়গায় ছোট্ট ব্লোয়ার আছে। একই টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ৫৫ নাম্বার সিট পাওয়া যাত্রীদের কপাল হবে খারাপ।

ছবি নং ৪

ছবি-৫ঃ অনেক কোচের মেইন দরজার মাঝখানের হ্যান্ডল লকের মাথা হুকের সঙ্গে আটকায় না। লাল দাগের ভিতর দেখুন বেঁকে ফাঁক হয়ে আছে।

ছবি নং ৫
এই মেইন দরজার উপরে সেই গ্রামের বেড়ার ঘরের দরজায় লাগানো ছোট্ট একটি ছিটকানি লাগানো হয়েছে, যেটার মাথা দেখুন কোথায় গেছে! (ছবি-৬)।

ছবি নং ৬

ছবি-৭ঃ মেইন দরজার নিচের হুকের অবস্থা দেখুন ডান দিকে বেঁকে আছে। কোন কাজ হবে না তাতে।

ছবি নং ৭

ছবি-৮ঃ ক্ষমা চাচ্ছি এই ছবি দেয়ার জন্য। যদিও ব্লার/ ঝাপসা করে দিয়েছি। ফ্ল্যাট টয়লেট প্যানের ময়লা যাবার ছিদ্র এত ছোট যে, সামান্য টয়লেট পেপার ফেললেই তার ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। আর যদি কখনও বিশাল বপু নিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য ওয়ালা কেউ টয়লেট সারেন, নির্ঘাত কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে সেদিন।

ছবি নং ৮

প্রতিটি টয়লেটের পিছনে বেশ বড় জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে। কারণ জানি না। এই ফাঁকা জায়গা অর্ধেক কমিয়ে টয়লেট আরও বড় করা যেত।

ড্রয়িং ডিজাইন কে করেছেন, কে দেখেছেন, কে পরিদর্শন করে সব কিছু বুঝে নিয়েছেন জানি না। ফিটিংসের এরকম দুরবস্থা কেন তা জানি না। এই দুই পয়সার ছিটকানি কি ইন্দোনেশিয়ায় না আমাদের দেশে লাগানো, তা জানি না।

অনিয়ম অবহেলা করা আর তা দেখে মুখ বুঝে চেপে যাওয়া একই অপরাধ। উভয়ই কল্যাণ ধ্বংসকারী।

মাহবুব কবির মিলনএর ফেসবুক ওয়াল থেকে ) 

মাহবুব কবির মিলন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন সম্মানিত যুগ্মসচিব। নিজের ফেসবুক ওয়ালে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের ছবি তুলে ধরেন, একজন পাবলিক সার্ভিস হোল্ডার হিসেবে সত্যিকারের সিটিজেন জার্নালিজমের চর্চা করেন। ‘এগিয়ে চলো’-তে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো পোস্ট হিসেবে দেওয়ার মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।  

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো