কোনো কাজ নেই? তাই মোবাইলে ফেসবুকে অন্যদের মিথ্যা হ্যাপিনেস দেখে নিজে আনহ্যাপি হচ্ছেন? এ আর নতুন কি? আমরা দিনের বেশীরভাগ সময়ই মোবাইল অযথা হাতে নিয়ে বসে থাকি। একটু বিরক্ত হলে, একটু সময় পেলেই মোবাইলে ছোঁয়া দিয়ে দেখি কেউ এসেছে কিনা। আসলেও কেউ আসেনি। এটি আমাদের জন্য একটি নেশায় পরিণত হয়েছে। এক মুহূর্ত আমরা মোবাইল ছাড়া থাকতে পারি না। কোথাও খেতে গিয়েছি খাওয়ার আগে আমরা ছবি তুলি। খেতে খেতে আমরা মোবাইল চালাই। বন্ধুদের সাথে আড্ডা। কিন্তু সবাই মোবাইল হাতে নিয়ে বসে আছি। যদি মোবাইল হাতে নিয়েই বসে থাকার, তাহলে বাসায় বসে চ্যাটিং করলেই পারি। আমাদের শরীরটা উপস্থিত থাকে কিন্তু মনটা থাকে মোবাইলের মধ্যে।

প্রযুক্তি যেমন আমাদের অনেক সুবিধা দিচ্ছে ঠিক তেমনি আমাদের অনেক ক্ষতিও করছে। বিশ্বাস করুন এই মুহূর্তে আপনি এই লেখাটি হয়তো কোনো মোবাইল থেকেই পড়ছেন। কিন্তু স্মার্টফোন আমাদের বন্ধু নয়, বরং শত্রু। আপনি শুনলে অবাক হবেন উরুজবুর্গ এবং নটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা পরিচালিত একটি পরিসংখ্যানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৩৭.৪% রেটিং ছিল স্মার্টফোন তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ২৯.৪% মানুষ বলেছে স্মার্টফোন তাদের মাতা-পিতার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ! হোয়াট’স রং উইথ দিস জেনারেশন?

একদমই মিথ্যে বলছি না। স্মার্টফোন শুধুমাত্র আপনার আচরণগত পরিবর্তন ঘটায় না। বরং এটি আপনার মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার কারণ হতে পারে। আমরা ৫ সেকেন্ডও একটি বিষয়ে মনোযোগ রাখতে পারি না। ক্রমাগত আমাদের মনোযোগ বিচ্ছিন হয় কেন? কারণ স্মার্টফোন আমাদের মনোযোগ রাখতে দেয় না। কারণ ঐটা না যে মানুষ বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করে। আজকাল তো মানুষ টাকা খরচ করে ফোন দিতেও ভয় পায়। ঐটা অন্য টপিক, কিন্তু ক্রমাগত আপনার মোবাইলে নোটিফিকেশন আসে যা আপনার দরকারও নেই। স্মার্টফোন আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছে, কিন্তু প্রোডাক্টিভ করেনি, উল্টো আমাদের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিয়েছে। রাতে ঘুম না আসার প্রধান কারণ আপনার ফোন। নিউরোজিনিস্ট জর্জ ব্রেয়ার্ড গবেষণা করেছিলেন যে, আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য মেল্যাটনিনের মুক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে যা আমাদের হরমোনের চাকাগুলো জাগাতে ও ঘুম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই যদি আপনি ঘুমোতে চান তাহলে আপনার কাছ থেকে মোবাইল ফোন দূরে রাখুন। রুটিনের বাইরে কাজ করার কারণ আপনার প্রিয় স্মার্টফোন।

আমি বলছি না স্মার্টফোন ব্যবহার করা বন্ধ করে দিন। আমি বলছি স্মার্টফোন আমাদের জীবনে দরকার, কিন্তু না থাকলে আমরা মারা যাবো না। স্মার্টফোনকে আমাদের ভালো কাজে ব্যবহার করা উচিৎ। ফেসবুকে অযথাই সময় নষ্ট না করে সে সময়টিতে আমরা কোনো আর্টিকেল পড়তে পারি। যেমন এখন আপনারা এ আর্টিকেল পড়ছেন। কিংবা আমরা কোনো মুভি, সিরিজ বা নাটক দেখতে পারি। অনেক ধরনের অ্যাপস আছে। কিন্তু সব অ্যাপস আমাদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

যারা স্মার্টফোন বানায় তারা খুব সহজেই আমাদের বোকা বানিয়ে আমাদের প্রতিভাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এই কারণেই আমাদের সবার বারবার নিজেকে স্মরণ করে নেয়া উচিৎ যে স্মার্টফোনের উপর নির্ভর না হয়ে, প্রোডাক্টিভিটিতে মনোযোগ দিন। আজকে একটি নতুন সিনেমা দেখলে, একটা নতুন বই পড়লে, একটি নতুন জায়গা দেখলে আমরা যা শিখতে পারবো, তা একটি স্মার্টফোনে আবদ্ধ হয়ে কখনোই করতে পারবো না। স্মার্টফোনের পৃথিবীটা আসল পৃথিবী থেকেও অনেক ছোট।

দরকার নেই কোনো নোটিফিকেশন সঙ্গে সঙ্গে চেক করার, প্রয়োজন নেই সাথে সাথেই প্রতিক্রিয়া দেয়ার। এর অর্থ এই নয় যে আপনার কাছে পৌঁছানোর মানুষগুলোকে মূল্যবান নয়। এর মানে এই যে আপনি আপনার ফোনের দাস নন। আপনি আপনার স্মার্টফোনকে নিয়ন্ত্রণ করুন। আপনার স্মার্টফোন যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। I like my phone but not more than family and friends.

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-