সিনেমা হলের গলি

‘সেন্স অফ হিউমার’ এবং বিচক্ষণতা-বুদ্ধিমত্তার চূড়ান্ত প্রতিমূর্তি সিয়াম

বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলোতে সেলিব্রিটি টক শোর অভাব নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটি মানসম্মত এবং একই সাথে সাধারণ দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে, এমন একটি সেলিব্রিটি টক শোর অভাব অনুভূত হয়ে আসছিল। ছোট পর্দার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ও গুণী নির্মাতা শাহরিয়ার নাজিম জয়ের উপস্থাপনায় এটিএন বাংলায় প্রচারিত ‘সেন্স অফ হিউমার’ এর কল্যাণে কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে সেই শূন্যতা।

কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই এই অনুষ্ঠানটিকে পারফেক্ট বলার উপায় নেই। বরং ক্ষেত্রবিশেষে এটিকে যতটা না হাস্যরসের অনুষ্ঠান বলা যায়, তারচেয়ে বেশি বলা চলে বিতর্ক সৃষ্টির কারখানা। এবং একটি বিষয় একদমই দিনের আলোর মত পরিষ্কার যে, উপস্থাপক জয় অনেক সময় পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার এই অনুষ্ঠানে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন যাতে করে অনুষ্ঠানটি নিয়ে দর্শকেরা আলোচনা-সমালোচনা করে, আর তার বদৌলতে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে অনুষ্ঠানটি পৌঁছায়।

এ ধরণের পাবলিসিটি স্টান্ট কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং অনেকক্ষেত্রে ক্ষতিকরই বটে। খুবই ছোট ও সীমাবদ্ধ আমাদের দেশের নাটক ও চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। সেখানে এই ধরণের একটি অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে যদি তারকাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, তারকাদের মধ্যে রেষারেষি শুরু হয়, তারা পারস্পরিক বিবাদে লিপ্ত হন, তবে সেটি কখনোই দেশীয় সংস্কৃতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।

তারপরও ‘সেন্স অফ হিউমার’ এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যাবে না। বাইরের দেশের তারকারা তাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিমতের ব্যাপারে যতটা খোলামেলা, আমাদের দেশের তারকারা তার সিকিভাগও নন। এবং আমাদের বিনোদন সাংবাদিকেরাও সাক্ষাৎকারের নামে কিছু গৎবাঁধা প্রশ্নই ছুঁড়ে দেন তারকার সামনে, যার ফলে পাঠক বা দর্শকের পক্ষে কখনোই সম্ভব হয় না প্রিয় তারকাদের ব্যক্তিসত্ত্বাকে আরও ভালো করে জানা, কিংবা যেকোন আলোচিত ইস্যুর ব্যাপারে তাদের প্রকৃত অভিমত সম্পর্কে অবগত হওয়া।

কিন্তু এখন ‘সেন্স অফ হিউমার’ অনুষ্ঠানটি কিছুটা হলেও আমাদের সেই অপ্রাপ্তি ঘোচাতে সহায়তা করছে। এই অনুষ্ঠানে এসে তারকারা নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে তাদের মনের কথাগুলো খুলে বলতে পারেন, এবং জয়ও খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাদের পেট থেকে অনেক না বলা কথাই বের করে আনেন। ফলে তারকারা দর্শকের সামনে এক নতুন ইমেজে আবির্ভূত হন। তারকাদের সম্পর্কে সাধারণ দর্শকের ধারণা তাই এখন শুধু তাদের কাজের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বা পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন রসালো স্ক্যান্ডাল বা গসিপেই ঘুরপাক খায় না, বরং তারকাদের ব্যাপারে তাদের ধারণা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ হয়, সত্যের কাছাকাছি পৌঁছায়।

সুতরাং ‘সেন্স অফ হিউমার’ অনুষ্ঠানটি তারকাদের জন্যও একটি খুবই ভালো মঞ্চ দর্শকের সামনে নিজেদেরকে একটি নতুন আঙ্গিকে মেলে ধরার, দর্শকের সাথে আরও গভীরভাবে নিজেদেরকে সংযুক্ত করার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ‘সেন্স অফ হিউমার’ তারকাদের সামনে যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে, সেটিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন খুব কম তারকাই। সত্যি বলতে গেলে, এখন পর্যন্ত কোন তারকাই শতভাগ সফল হননি এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকের সামনে নিজের পূর্নাঙ্গ ইতিবাচক একটি ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে।

তবে এক্ষেত্রে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হলেন তরুণ অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। সম্ভবত তিনিই প্রথম কোন তারকা যিনি এই অনুষ্ঠানে এসে এক ফোঁটাও বিতর্কের জন্ম দেননি, বরং নিজের বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দর্শকমনে দারুণ মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। সিয়াম যে পর্বটিতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন, সেই পর্বটিতে তিনি ছাড়াও এসেছিলেন আরও দুইজন- সিয়ামের প্রথম ছবি ‘পোড়ামন ২’ এর পরিচালক রায়হান রাফি এবং ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে ভিলেন হিসেবে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করা তাসকিন রহমান। এই বিশেষ পর্বটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার কারণ রাফি ও তাসকিনের কিছু বিতর্কিত কথাবার্তা।

উপস্থাপক জয় রাফিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তিনি একজন মাওলানা হয়েও চলচ্চিত্র পরিচালনায় এসেছেন, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ হালাল নাকি হারাম? এই প্রশ্নের জবাবে রাফি কাজটিকে হালাল বলে দাবি করায় ক্ষেপে গিয়েছে অনেক দর্শকই। স্বভাবতই রাফির এই উত্তরে দর্শকমহলের একটি বিরাট অংশের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। তাছাড়া ইদানিং শাকিব খানের অনেক ছবিও হিট হয় না, রাফির মুখে এমন আপাত নিরীহ সত্যবচনও সহ্য হয়নি অনেক শাকিব ভক্তের।

অন্যদিকে তাসকিনের কথাবার্তার অসামঞ্জস্যতা একদিকে যেমন দর্শককে হাসিয়েছে, তেমনি অনেকের মনে বিরক্তি ও ক্ষোভেরও সঞ্চার করেছে। ঢালিউড থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ ছবিই তার অদেখা। তাই স্বাভাবিকভাবেই কোন তারকা সম্পর্কেই তার সম্যক ধারণা নেই। কিন্তু তারপরও একের পর এক তারকার নামে মনগড়া বিশেষণ ব্যবহার করে গেছেন তিনি। যেমন পূজা চেরি ও পরীমণির কোন ছবি না দেখেও তাদেরকে অসাধারণ প্রতিভাবান নায়িকা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জন্ম তিনি দিয়েছেন শিল্পী সমিতির সভাপতি ও ‘অন্তর জ্বালা’ খ্যাত নায়ক জায়েদ খানকে চিনতে না পারার মাধ্যমে। জায়েদ খানকে চিনতে না পারলেও প্রথমে তিনি তাকে বেশ কিছু বিশেষণে বিশেষায়িত করেন। কিন্তু পরে তার কথাবার্তার অসামঞ্জস্যতা থেকে প্রমাণিত হয়ে যায় যে আসলে তিনি জায়েদ খানকে চেনেনই না, এবং তার নিজস্ব ভাষ্যমতে, তিনি নাকি জায়েদ খানকে অন্য কোন এক পরিচালকের সাথে গুলিয়ে ফেলেছিলেন! এরকম পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই বাংলাদেশী চলচ্চিত্র সম্পর্কে খুবই কম জ্ঞাত তাসকিনের বলা কথাগুলো প্রচুর হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে, পাশাপাশি কিছু সিরিয়াস দর্শককে চটিয়েও দিয়েছে।

সবমিলিয়ে রাফি ও তাসকিনের কল্যাণে এই পর্বটি ‘সেন্স অফ হিউমার’ অনুষ্ঠানের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত একটি পর্ব হয়ে থাকবে। অথচ সেই পর্বটিতেই কিনা কী সাবলীলভাবে নিজের স্মার্টনেসের পরিচয় দিয়ে গেলেন সিয়াম! ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া ও পরে লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা সিয়ামের কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গিত থেকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা ও বুদ্ধিমত্তার ছাপ ঠিকরে বেরিয়েছে। উপস্থাপক জয় অনেক চেষ্টাচরিত্র করেও সিয়ামের মুখ থেকে একটিও বিতর্কিত উপাদান বের করাতে পারেননি।

কিন্তু তাই বলে সিয়াম যে খুবই সাবধানী ছিলেন, ভয়ে মুখই খোলেননি, গোটা অনুষ্ঠানজুড়ে জড়সড় হয়ে ছিলেন, তাও কিন্তু না। অন্যান্য অধিকাংশ তারকা যেসব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিতর্কের ভয়ে ডিপ্লোমেটিক রাস্তা বেছে নেন, সেসব প্রশ্নেও সিয়াম ছিলেন আশ্চর্যরকমের ধীর-স্থির, সাবলীল ও সোজাসাপটা। কোনরকম রাখঢাক না রেখেই তিনি এমন সব কথা বলে গেছেন, যেগুলোতে মূলত সচেতন দর্শকদের মনোভাব ও আবেগেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

যেমন তাসকিন যেই জায়েদ খান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে গুবলেট পাকিয়ে ফেলেছেন, সেই জায়েদ খান সম্পর্কেই সিয়াম অকপটে বলে দিয়েছেন যে জায়েদ খানকে তিনি অভিনেতা হিসেবে না চিনলেও এটুকু জানেন যে তিনি একজন ভালো নেতা। এরচেয়ে ভদ্র ভাষায় জায়েদ খান সম্পর্কে প্রকৃত বাস্তবতাটা কি তুলে ধরা সম্ভব ছিল? সিয়ামের মত করেই বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের অধিকাংশ অনুসারীও তো মনে করেন যে জায়েদ খানের মধ্যে নেতৃত্বগুণ খুব ভালোভাবে থাকলেও, অভিনয় দক্ষতা খুব একটা নেই। সেই মনে করাটাকেই সিয়াম একবাক্যে যেভাবে বলে দিলেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

আবার বাপ্পি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, বাপ্পির নিজের কথা অনুসারে তিনি একজন অলরাউন্ডার। আর সাইমনের ব্যক্তিত্বের সারল্য ও বিনয় নাকি তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। তারপর তিনি আরও বলেছেন যে, বাপ্পি ও সাইমন নিজেরা যেহেতু দাবি করেন যে তারা গোটা ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা কারণ তারা সব পরিচালকের সাথে কাজ করেন এবং তাদের কারণেই ইন্ডাস্ট্রি টিকে রয়েছে, তাই তিনিও এই অভিনেতাদের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। সিয়ামের কথায় যদিও বা কিছুটা শ্লেষ মিশে থাকে, সরাসরি তা ধরতে পারার উপায় আছে কি?

নুসরাত ফারিয়াকে তিনি অভিহিত করেছেন একজন চমৎকার পারফর্মার হিসেবে যিনি নাচতে পারেন খুব ভালো, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ছবিতে তাকে খুব ভালো অভিনয় করতে দেখা যায়নি, কিংবা হয়ত পরিচালকরাই তার ভিতর থেকে সেরা অভিনয়টা বের করে আনতে পারেননি। মাহি সম্পর্কে বলেছেন যে, শুরুর দিকে মাহিকে তার অনেক সম্ভাবনাময় মনে হলেও, মাহির ইদানিংকার চলচ্চিত্র বাছাই থেকে তিনি মনে করছেন মাহি হয়ত নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খুব বেশি সচেতন নণ। আরিফিন শুভ সম্পর্কে বলেছেন, অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে শুভ পারফেক্ট হলেও, রোমান্টিক নায়ক হিসেবে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’- এর পর তার আর কোন ভালো কাজ দেখা যায়নি।

সিয়ামকে জয় সবচেয়ে বেশি জব্দ করার চেষ্টা করেছেন পূজা চেরি সংক্রান্ত প্রশ্ন করে। শুরুতেই সিয়াম বলেছেন যে পূজা হলেন বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ, একজন জাত অভিনেত্রী। অন্য কারও সিদ্ধান্ত যদি পূজা নিজের উপর চাপিয়ে না দেন, তাহলে তিনি ভবিষ্যতে খুব বড় কিছু করে দেখাতে পারবেন। এরপর জয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানাভাবে একটি কথা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন যে ‘পোড়ামন ২’ ছবি করতে গিয়ে সিয়াম ও পূজার মধ্যে হয়ত একটি ব্যক্তিগত রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরী হয়ে গেলেও থাকতে পারে।

সিয়াম খুবই স্মার্টলি সবগুলো প্রশ্ন হ্যান্ডল করেছেন, পেশাদারিত্বের খাতিরে পূজার সাথে তার রসায়নের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন, দুজনের বয়সের ব্যবধানের কারণে স্বাভাবিকভাবেই তাকে পূজার সাথে মিশতে পূজার কাতারে নেমে আসতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এরপরও যখন জয় ক্ষান্ত না দিয়ে বলেই চলেছেন যে, সিয়াম পূজার প্রতি আকৃষ্ট না হলেও পূজা হয়ত সিয়ামের প্রতি দুর্বল হয়ে থাকতে পারেন। সিয়াম দারুণ একটি জবাব দিয়েছেন, এধরণের কাজ করে থাকে ছোট রেসের ঘোড়ারা, কিন্তু পূজা একজন লম্বা রেসের ঘোড়া।

জয়কে জয়বঞ্চিত করতে সিয়াম কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন নিজের প্রেমিকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে, যার সাথে তার সাত বছরের সম্পর্ক। এই পর্যায়ে এসে সিয়াম যেভাবে প্রেমিকার সাথে তার সম্পর্কের গভীরতার ব্যাপারে কথা বলেছেন, তাতে যেকোন দর্শকেরই হৃদয় আর্দ্র হতে বাধ্য, সেই সাথে সিয়ামের প্রতি মন থেকে সম্মান জাগাটাও অনিবার্য। সিয়ামের আরেকটি কথাও দর্শকমনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিতে পারে- আজকে হয়ত তার গ্ল্যামার দেখে অনেকেই তার দিকে ছুটে আসছে, কিন্তু চামড়া ঝুলে গেলে ঠিক একভাবেই সকলে ছুটে পালাবে! যে সত্যটা অনুধাবন করতে অনেক তারকার দশকের পর দশক লেগে যায়, সিয়াম সেটি বুঝে ফেলেছেন এখনই।

সিয়ামের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় আরও মিলেছে যখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল রায়হান রাফি ও তৌকির আহমেদের মধ্যে কে সেরা সে-ব্যাপারে। প্রথমেই তিনি বলেছেন রাফির সাথে তার বেশি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক, কিন্তু অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এগিয়ে রেখেছেন তৌকিরকেই। আরও একবার যখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, রাফিকে তিনি বাংলাদেশের সেরা পরিচালক হিসেবে মনে করেন কি না, রাফি সামনে থাকা অবস্থাতেই কোনরকম সংকোচ ছাড়া তিনি বলে দিয়েছেন যে রাফি বাংলাদেশের সেরা পরিচালক নন।

তবে বাংলাদেশের সেরা পরিচালক কে? এ প্রশ্নের জবাবে শুরুতেই সিয়াম উল্লেখ করেছেন প্রয়াত জহির রায়হানের নাম। এরপর একে একে নাম করেছেন অমিতাভ রেজা, আদনান আল রাজিব, দীপঙ্কর দীপন ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকির। এদের সবার সাথেই ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তিনি।

সামগ্রিকভাবে সিয়ামের সাক্ষাৎকারটি দেখা ছিল চমৎকার একটি অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের কোন শীর্ষ পর্যায়ের নায়কের পক্ষে যে একই সাথে এতটা বিনয়ী এবং স্পষ্টভাষী হওয়া সম্ভব, সিয়ামকে না দেখলে হয়ত জানতেই পারতাম না। সবে তো মাত্র একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে সিয়ামের। তাই ক্যারিয়ারে তিনি কতদূর যেতে পারবেন তা এখনই আন্দাজ করা মুশকিল। কিন্তু সিয়ামের মধ্যে যে সততা ও আত্মবিশ্বাস দেখলাম, তাতে আশা করতেই পারি যে এই দুইটি অসাধারণ গুণকে সঙ্গী করে তিনি অনেকটা পথ পাড়ি দিতে পারবেন, জয় করতে পারবেন সকল প্রতিবন্ধকতা ও বাধার পাহাড়।

বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে সিয়ামের মত আরও যত শিক্ষিত, মার্জিত, রুচিশীল নায়কের আগমন ঘটবে, তত বেশি এগিয়ে যাবে এদেশের চলচ্চিত্র। সিয়ামের জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা ও শুভকামনা।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close