অনেক অনেক বছর আগে এক দেশে ছিলো একটা ছেলে আর একটা মেয়ে। ছেলেটার নাম ছিলো, ‘সহমত ভাই’ আর মেয়েটার নাম ছিলো, ‘একমত আপু।’ 

তারপর একদিন সহমত ভাই আর একমত আপুর বিয়ে হলো। এরেঞ্জ ম্যারেজ। বিয়ের ঘটক ছিলো, ‘আপনাদের দুইজনকে সেই মানাইছে ভাই’ আর বিয়েতে কাজি যে ছিলো তার নাম, ‘আলোর পথে আসুন’। বিয়ের পর ‘সহমত ভাই’ আর ‘একমত আপু’ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো। দশ মাস দশদিন পর তাদের কোল জুড়ে এলো এক ফুটফুটে ছেলে সন্তান। বাচ্চার নাম রাখা হলো, ‘সেরা ভাই সেরা।’

কালের পরিক্রমায় ‘সেরা ভাই সেরা’ একদিন যৌবনে পদার্পণ করলো। ভার্সিটিতে গিয়ে প্রেমে পড়লো দুর্দান্ত এক সুন্দরী মেয়ের। মেয়েটার নাম ছিলো, ‘নাইচ লাগছে আপ্পি’। কিন্তু ভার্সিটির ছাত্রলীগ ক্যাডার ‘এসব গুজব ভাই’ এই প্রেম মেনে নিতে পারলো না। কারন সে মনে মনে ‘নাইচ লাগছে আপ্পি’কে পছন্দ করতো। সুতরাং ‘এসব গুজব ভাই’ তার দুই চামচা ‘স্যালুট ভাই’ আর ‘ভালোবাসা ভাই’কে সাথে নিয়ে আমাদের প্রেমিককে মারতে আসলো। কিন্তু আমাদের প্রেমিক ‘সেরা ভাই সেরা’ ছিলো একাই একশো। সে ‘এসব গুজব ভাই’ কে মেরে প্যান্ট খুলে নিলো। ক্যাম্পাসের সবাই স্পষ্ট দেখলো ‘এসব গুজব ভাই’য়ের প্যান্টের ভেতর কি কি সত্যি লুকানো আছে। সবার সামনে অপমানিত হয়ে ‘এসব গুজব ভাই’ কাঠি করলো স্বয়ং মেয়ের বাবার কানে গিয়ে।

মেয়ের বাবা বিখ্যাত শিল্পপতি, ‘আপনার থেকে এটা আশা করিনি ভাই’। তিনি নিজের বন্ধুর ছেলে আমেরিকা প্রবাসী, ‘আপনি একটা জিনিস ভাই’য়ের সাথে মেয়ের বিয়ে ঠিক করলো। মেয়েকে বাসায় আটকে ফেললো। কিন্তু মেয়ে তো বসে থাকার পাত্র নয়৷ তার সাথে দেখার করার অনুমতি ছিলো শুধুমাত্র তার এক বান্ধবীর। যার নাম, ‘আপু কপি করা যাবে?’

তো মেয়ে এই বান্ধবীকে দিয়ে ছেলেকে খবর পাঠালো আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও৷ তখন ছেলে তার বন্ধু ‘শেয়ার দিলাম ভাই’ কে সাথে নিয়ে রাতের অন্ধকারে মেয়েকে তুলে নিয়ে আসলো৷ সাহায্য করলো মেয়ের বান্ধবী। তারপর তারা ট্রেনে করে পালিয়ে দিনাজপুর চলে গেল।

এই দীর্ঘ ট্রেন জার্নিতে প্রেম হয়ে গেলো, ‘শেয়ার দিলাম ভাই’ আর ‘কপি করা যাবে আপু’ এই দুজনের মধ্যে। সুতরাং দিনাজপুর কাজি অফিসে একসাথে দুটো বিয়ে হলো। দুই দম্পতিই দিনাজপুরে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার পাতলো। একই সাথে বাচ্চা হলো দুজনের। ‘নাইচ লাগছে আপ্পি’দের হলো মেয়ে যার নাম রাখা হলো, ‘আপনার হাসিটা অনেক সুন্দর’ আর ‘শেয়ার দিলাম ভাই’য়ের হলো ছেলে যার নাম রাখা হলো, ‘এই পোস্ট আগে যেন কোথায় পড়েছি।’ তারা ঠিক করলো ছেলে মেয়ে বড় হলে নিজেদের বন্ধুত্বটাকে আত্মীয়তায় পরিনত করবে। সেই কথা অনুযায়ী দুইজনেরই তেইশ বছর বয়স হলে শুভ বিবাহ সম্পন্ন হলো। তার আরো দুই বছর বাদে তাদের কোল জুড়ে একটা ছেলে আসলো যার নাম রাখা হলো, ‘ক্যামনে পারেন ভাই হাসতে হাসতে শেষ!’

তারপর তারা সকলে মিলে বাড়ির সামনে উঠানে দিনাজপুরের বিখ্যাত বাতাবিলেবুর চাষ করে সুখে শান্তিতে সংসার চালাতে লাগলো।

আরও পড়ুন-

Comments
Spread the love