খেলা ও ধুলা

বিশ্বকাপে সাকিবকে পাবে তো বাংলাদেশ দল?

অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে সাকিব আল হাসান জানিয়েছিলেন, বিপিএলের আগেই মাঠে ফিরতে চান তিনি। আঙুলের সার্জারীটা হয়ে গেলে ছয়-আট সপ্তাহ পরেই খেলার মতো অবস্থায় ফিরে আসতে পারতেন এই অলরাউন্ডার। কিন্ত এখন ছয় বা আট সপ্তাহ নয়, বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে সাকিবের লেগে যেতে পারে ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত সময়ও! সেরকমটা হলে, ২০১৯ বিশ্বকাপে ফুল-ফিট সাকিবকে দলে পাওয়াটাও একরকম প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে।

আঙুলের অবস্থা ডাক্তারকে দেখানোর জন্যে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছেন সাকিব। সেখানে গিয়েই জেনেছেন, আঙুলের সংক্রমণটা পুরোপুরি সেরে উঠতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগবে। এই ইনফেকশনটা ভালো হবার আগে আঙুলে অস্ত্রোপচার করার ঝুঁকি নিতে চান না চিকিৎসকেরা। সাকিব যখন দেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখনও ডাক্তারেরা একই কথা জানিয়েছিলেন। সাকিবও দেশ ছাড়ার আগে বলে গিয়েছিলেন, কবে নাগাদ অস্ত্রোপচার করা হবে, সেই সম্পর্কে তার কোন ধারণাই নেই। 

জানুয়ারীতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচ খেলতে গিয়ে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন সাকিব, মাঠের বাইরেও ছিলেন বেশ কিছুদিন। এরপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সেই ব্যাথাটা আবার ফিরে এসেছিল, তখন ব্যাথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেছিলেন সাকিব। ভেবেছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরেই আঙুলের অস্ত্রোপোচার করে ফেলবেন। কিন্ত এশিয়া কাপ তখন কড়া নাড়ছিল দরজায়। সাকিবকে ছাড়া বাংলাদেশ অনেকটাই খর্বশক্তির দল হয়ে যায়, একারণে বোর্ড প্রেসিডেন্টের বিশেষ অনুরোধে সার্জারীর তারিখ পিছিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব, এশিয়া কাপের পরেই অস্ত্রপোচারের টেবিলে যাবেন, এমনটাই তখন ভবিতব্য ছিল।

কিন্ত মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা খেলার পরেই ব্যাথায় অবশ হয়ে গিয়েছিল সাকিবের সেই আঙুলটা। দলের ফিজিও নিজেও বুঝতে পারেননি কিছুই। আঙুলের অবস্থা খারাপ দেখে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে আসেন সাকিব, সিঙ্গাপুর বা অন্য কোথাও গিয়ে অপারেশন করাবেন, সেটা ভেবে।

ব্যাথা বাড়তে থাকায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকেরা আঁতকে উঠেছিলেন সাকিবের আঙুলের অবস্থা দেখে! আঙুলে ততক্ষণে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। এই আঙুল নিয়ে তো কোন কাজই করা যায় না, আর সাকিব কিনা ক্রিকেট খেলে বেড়াচ্ছেন! ইনফেকশন সারাতে সেই রাতেই পুঁজ বের করা হয় সাকিবের আঙুল থেকে। ডাক্তারেরা জানান, আর কয়েক ঘন্টা দেরী হলে হয়তো চিরদিনের মতো অকেজো হয়ে যেতো সাকিবের হাতটা! 

সাকিব আল হাসান, আলায়না হাসান অব্রি, উম্মে আহমেদ শিশির, এশিয়া কাপ, সাকিবের আঙুল

খানিকটা সুস্থ হয়ে গত শুক্রবার মেলবোর্নে উড়ে গেছেন সাকিব। সেখানে শল্যচিকিৎসক ডা. গ্রেগ হাওয়ের তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি। বাহাত্তর ঘন্টা পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে তাকে। সেখান থেকেই সংবাদমাধ্যমকে সাকিব জানিয়েছেন এই খবরটা, বলেছেন-

“ইনফেকশনের জন্য আগামী ছয় মাসের মধ্যে অপারেশনের কোন চান্স নেই। ইনফেকশন থাকা অবস্থায় অপারেশন করলে তো হাতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই রিস্ক তো কেউ নিবে না। ইনফেকশন  হান্ড্রেড পার্সেন্ট সেরে যাওয়ার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। সেটার জন্যে সব মিলিয়ে ছয় মাসের মতো লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ডাক্তারেরা।”

ইনজুরির চেয়েও বেশি ঝামেলা পাকাচ্ছে আঙুলের এই সংক্রমণটাই। ইনফেকশনটা পুরোপুরি সেরে ওঠার অপেক্ষা তো করতেই হবে, সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, এটা যেন ফিরে না আসে। পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে ইনফেকশনের অবস্থা বুঝেই। আপাতত মেডিসিনের ওপরেই থাকতে হবে সাকিবকে। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন-

“দেড়-দুই মাস মেডিসিন চলার পর দেখতে হবে যে ইনফেকশন আবার বাড়ে কিনা। তারপর ট্রায়াল বেসিসে খেলে দেখব ব্যথা বাড়ে কিনা। তখন আরেকটি পরীক্ষার পর যদি সব ঠিক থাকে, তাহলেই ছয় মাস পর অস্ত্রোপচার। সার্জারি ছাড়াও এই টাইপের ইনজুরি ভালো হয় শুনেছি, কিন্ত আমি নিজে যে অবস্থায় আছি, আমার মনে হয় না এখানে থেকে সার্জারি ছাড়া কামব্যাক করা সম্ভব।”

সাকিব আল হাসান, ইনজুরি, সাকিবের আঙুলের চিড়, সাকিব বেয়াদব

অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহটা পেরিয়ে গিয়েছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আগামী বছরের জুনের ২ তারিখে। নয় মাসও পুরোপুরি নেই হাতে। বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করতে হবে টুর্নামেন্টের একমাস আগে। সাকিবের অপারেশন যদি ছয়মাস পরেই করতে হয়, সেক্ষেত্রে তাকে মাঠে ফিরতে হবে অপারেশনেরও ছয়-আট সপ্তাহ পরে। এই সময়টা চলে যাবে সেরে উঠতেই। আট মাস চলে যাচ্ছে এতেই। এত ধকল সামলানোর পরে বিশ্বকাপের ঠিক আগমূহুর্তে সাকিব ম্যাচ খেলার মতো ফিট থাকবেন কিনা, এই প্রশ্নটা তাই উঠছেই।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আসছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভালো কিছু করার স্বপ্নটা ধাক্কা খেতে যাচ্ছে ভালভাবেই। সাকিববিহীন বাংলাদেশ দল তো খানিকটা হলেও বিবর্ণ! এখন তাই অদ্ভুত কোন মিরাকলের প্রত্যাশাই হয়তো করতে হবে আমাদের… 

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close