খেলা ও ধুলা

নির্বাচকের কী দরকার বাংলাদেশের?

ধরুন আপনি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের বড় বড় সকল সিদ্ধান্তই গৃহীত হয় আপনার অগোচরে, আপনাকে একটি বার জিজ্ঞেসও না করেই। অর্থাৎ আলাদা করে আপনার মতামতের কোনো মূল্যই নেই সেখানে। সেক্ষেত্রে আপনার কী করা উচিৎ? যদি আপনার মধ্যে ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধও থাকে, তাহলে আপনার কি উচিৎ না আর এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেয়া?

মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশারের এই মুহূর্তে ঠিক সেই কাজটিই করা উচিৎ। তাদের উচিৎ অতিসত্বর বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচক পদ ছেড়ে দেয়া। দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচক হিসেবে তাদের অধিকারের অবমাননা করা হয়ে আসছিল। আর সর্বশেষ এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্কোয়াডে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারের অন্তর্ভুক্তির আগে যেভাবে বেমালুম তাদের কথা ভুলে যাওয়া হলো, তাদেরকে একটিবার জিজ্ঞেসও করা হলো না এ ব্যাপারে তাদের মতামত কী, তাতে করে নির্বাচক পদে তাদের প্রয়োজনীয়তা যে একেবারেই ফুরিয়ে গেছে, সে ব্যাপারে আর সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই। তাই নিজেদের দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তি পুরোপুরি ধূলিসাৎ হওয়ার আগেই তাদের উচিৎ পদত্যাগ করে নিজেদের মান বাঁচানো।

ঠিক কোন প্রসঙ্গে আমরা কথা বলছি, এতক্ষণে নিশ্চয়ই সকলে বুঝে গিয়েছেন। এশিয়া কাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চোট পাওয়ার ফলে বাকি পুরো টুর্নামেন্ট থেকে নিয়মিত ওপেনার তামিম ইকবালকে হারায় বাংলাদেশ দল। তার শূন্যস্থান পূরণ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কাছে একজন ওপেনারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায় বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। তারই ভিত্তিতে একই সাথে ওপেনিংয়ের দুইটি অপশন হিসেবে ইমরুল ও সৌম্যকে দলের সাথে যোগ দিতে বলা হয়। 

এশিয়া কাপ, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, নির্বাচক, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার, নাজমুল হাসান পাপন

এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, “তামিমের অনুপস্থিতিতে আমাদের ওপেনিং পজিশনটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় টিম ম্যানেজমেন্ট একজন ওপেনার চেয়েছিল, কিন্তু আমরা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দুইজন ওপেনারকে নিয়ে এসেছি। টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ড প্রধানের সাথে আলোচনার পর আমরা ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

“লিটন (দাস) ও (নাজমুল হাসান) শান্ত রান পাচ্ছিল না। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। এরকম উইকেটে আমাদেরকে ২৪০-২৫০ রান করতে হবে। আমরা সৌম্য ও ইমরুলকে এনেছি, কারণ তারা (লিটন ও শান্ত) পারফর্ম করতে পারছিল না।”

এখানে পাঠক একটি বিষয় লক্ষ্য করুন। আকরাম, যিনি তার পদাধিকার বলে সিলেকশন কমিটিরও একজন সদস্য, একটিবারের জন্যও কিন্তু এমনকি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের নামও উল্লেখ করেননি। অথচ মিনহাজুল নিজেও কিন্তু এই মুহূর্তে দলের সাথে আরব আমিরাতেই রয়েছেন। তাই আমরা যদি একদমই সাদামাটা দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করি, তাহলেও কিন্তু এই আলোচনায় মিনহাজুলেরও সামিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আকরাম খানের কথার মাধ্যমে একটি বিষয় এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গেল যে, নির্বাচকরা এখন আর স্বাধীনভাবে নিজেদের কাজ করতে পারছেন না। বরং যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই আজকাল নির্বাচকদের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এবং আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, শুধু যে প্রধান নির্বাচকই সৌম্য ও ইমরুলের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলেন তা কিন্তু নয়। আকরাম খান বলেছেন যে টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, কিন্তু সেই টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে এমনকি ছিলেন না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও। তাই সৌম্য ও ইমরুলকে যে দলে ডাকা হয়েছে, এ তথ্য অজানা ছিল তার কাছেও! ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজে এ কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

মাশরাফি পাপন, মাশরাফি টেস্ট ক্রিকেট

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ককে সৌম্য ও ইমরুলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “ওরা যে আসছে, আমি সিওর না। আমি মাঠে ছিলাম। তাই পুরোপুরি ক্লিয়ার না। আমার সঙ্গে আলোচনা হয়নি।”

সৌম্য ও ইমরুল দুজনেরই সর্বশেষ ওয়ানডে গত বছর অক্টোবরে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইস্ট লন্ডনে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে এঁরা দুজনই শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের ইনিংস। ব্যর্থও হয়েছিলেন দুজনই। ইমরুল করেছিলেন ১, সৌম্য ৮। মাঝখানে সৌম্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে রান পেলেও ওয়ানডে দলে ফেরার মতো কিছু করেননি। ইমরুলের ক্ষেত্রে তো কোথাও রান পেয়েছেন, সেটিও বলার উপায় নেই। যে–কারও মনে তাই প্রশ্ন জাগতে বাধ্য, “খারাপ খেলায় বাদ পড়েছিলেন যাঁরা, কী করে আবার তাঁরা ফিরছেন দলে?”

অধিনায়ক এই প্রশ্নের জবাব দেবেন কী, উল্টো তাঁর মনেই তো এই প্রশ্ন। ভরা সংবাদ সম্মেলনে সেটি প্রকাশও করে দিলেন, “ওরাও কিন্তু এমন পারফর্ম না করেই দল থেকে বের হয়েছে। আবার এসে এই ধরনের টুর্নামেন্টে এত চাপ নিয়ে…আমি জানি না ওরা টেকনিক্যালি কী কাজ করেছে। যে সমস্যার কারণে দলের বাইরে গিয়েছিল, সেগুলো ঠিক করে আসছে কিনা। এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আফগানিস্তানের ম্যাচ যদি চিন্তা করেন, আমার মনে হয় তাঁদের (সৌম্য ও ইমরুল) আরও কঠিন বোলার মোকাবিলা করতে হবে।” 

স্বয়ং দলের অধিনায়ককেই যেখানে জানানো হয়নি এত বড় একটি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে, সেখানে সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও যে এ ব্যাপারে বিশেষ কিছু জানবেন না, সেটিই তো স্বাভাবিক। এবং বাস্তবতাও অভিন্ন কিছু নয়। এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না সাকিবও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোর স্টেজের ম্যাচের আগেরদিন সাকিবের কাছে সৌম্য ও ইমরুলের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ““আমি জানি না। এটা আসলে টিম ম্যানেজমেন্ট ভালো বলতে পারবে। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর বলতে পারবো না। যারা আসতেছে তারা খেলবে কিনা এটাও নিশ্চিত না!” 

এশিয়া কাপ, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, নির্বাচক, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার, নাজমুল হাসান পাপন

টুর্নামেন্টের মাঝপথে এভাবে ক্রিকেটারদের অন্তর্ভূক্তির বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক? ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেন, “বিষয়টা একটু অন্যরকম। সাধারণত এরকম হয় না। তবে দলের প্রয়োজনে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।”

তবে মাশরাফি ও সাকিবের এ ব্যাপারে কিছু না জানাটাও তবু মেনে নেয়া যায়। দলের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক হিসেবে তাদের এসব বিষয়ে অবগত থাকার কথা অবশ্যই, তবে তাদের প্রধান দায়িত্ব তো আর এগুলো নয়। তাদের মূল কাজ হলো মাঠে গিয়ে পারফর্ম করা। কিন্তু নির্বাচকদের কাজই হলো দলে কে খেলবে না খেলবে সেসব ব্যাপারে নজর রাখা। অথচ তাদেরকে যদি সেই সুযোগই দেয়া না হয়, তাহলে বিষয়টি দৃষ্টিকটু লাগাই স্বাভাবিক।

পৃথিবীর অন্য কোনো দলে এরকম ঘটনার অবতারণা না হলেও, গত বছর দুয়েক ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিষয়গুলি নিত্যকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালে ফারুক আহমেদের পদত্যাগের পর মিনহাজুলকে প্রধান নির্বাচক বানাবার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি সিরিজের আগে, পরে এবং মাঝপথে দল ঘোষণা কিংবা নতুন কোনো খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণা দিচ্ছেন বিসিবি সভাপতিই। অথচ এই কাজগুলি করার কথা প্রধান নির্বাচকের।

প্রথম এরকম ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। সেটিই ছিল পরিবর্তিত নির্বাচন পদ্ধতির আওতায় বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসাইনমেন্ট। সেই পরিবর্তিত নির্বাচন পদ্ধতিতে সাধারণ নির্বাচকদের সাথে নির্বাচক প্যানেলে বিসিবি সভাপতি যুক্ত করেছিলেন তৎকালীন প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, আকরাম খান ও বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনকেও। সেই থেকে অন্তরালে দল নির্বাচনের কাজ যে বা যারাই করে থাকুক না কেন, প্রকাশ্যে সেগুলোর ঘোষণা দিতে থাকেন বিসিবি সভাপতি নিজেই।

এই অযাচিত নাক গলানোর ঘটনা যে কেবল বিসিবি সভাপতির একার তরফ থেকেই ঘটছে তা কিন্তু নয়। কেবল এই বছরেই অন্তত দুইবার টিম ম্যানেজমেন্টের অনুরোধে নিজের নির্বাচনকৃত দলে রদবদল করতে হয়েছে মিনহাজুলকে। এবং সেই দুইবারই ঘটনাটি ঘটেছে যে বিশেষ খেলোয়াড়ের জন্য, তিনি হলেই সৌম্য সরকার। জুন ও আগস্টে বাংলাদেশের টি-২০ স্কোয়াডে শেষ মুহূর্তে যুক্ত করা হয়েছে সৌম্য সরকারকে। কারণ দুইবারই টিম ম্যানেজমেন্টের আবদার ছিল সৌম্যকে দলে নেয়া। 

মিনহাজুল বা বাশার নিজেরা কখনোই প্রকাশ্যে জানাননি যে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তারা অসন্তুষ্ট বা অখুশি। কিন্তু কেন তারা সেগুলো বলতে পারেননি সেটিও খুব সহজেই আন্দাজ করে নেয়া যায়। নাজমুল হাসান পাপনের স্বৈরাচারী নেতৃত্বে বিসিবিতে বাদবাকি সকলেই মোটামুটি ক্ষমতাহীন। এখন যদি কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে যায়, তাহলে তার গর্দান যাবে সাথে সাথেই। সেই ভয়তেই শুধু মিনহাজুল বা বাশারই নন, প্রতিবাদের ভাষা হারিয়েছে বিসিবির হয়ে কাজ করা অন্য সকলেও।

হাথুরুসিংহে একটি বিষয় সবসময়ই বিশ্বাস করে এসেছেন যে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচকেও অবশ্যই সিলেকশন প্যানেলে জায়গা দিতে হবে। এবং বিসিবি নিজেও সবসময়ই মনে করে এসেছে যে সেই প্যানেলে তাদেরও কিছু বলার অধিকার থাকবে। এবং তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সেই কাজটি বরাবরই করে এসেছেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের জন্য এ ধরণের নির্বাচন পদ্ধতি খুবই ভুল ও ক্ষতিকর। কারণ দল নির্বাচনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যথার্থতা বজায় রাখতে হলে একটি দলের নির্বাচকদের সবসময়ই স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ করে দেয়া দরকার। কিন্তু সেই স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মিনহাজুল ও বাশার। কারণ তারা দুজন যেখানে কেবলই নির্বাচক, সেখানে সুজন একাধারে দলের ম্যানেজার, বোর্ড ডিরেক্টর, ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, এবং ডিপিএল ও বিপিএলে দুইটি দলের কোচও। তাই সাধারণ দুইজন নির্বাচকের সাথে এমন একজন ‘অলরাউন্ডার’ কাজ করলে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট তো দেখা দেবেই।

ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান হিসেবে, আকরাম কার্যত নির্বাচকদেরও বস। তাই সিলেকশন কমিটিতে আলাদা করে তার উপস্থিতি খুবই হতবুদ্ধিকর একটি বিষয়। প্রধান কোচের জায়গা হতে পারে সিলেকশন কমিটিতে, কিন্তু অন্যান্য দেশের ক্রিকেটে এই ক্ষমতার দ্বৈততা নিয়ে ইতিপূর্বেও নানান প্রশ্ন উঠেছে। হাথুরুসিংহের বেলায়ও যেমন, তাকেই অনেক কষ্টে বিসিবি সভাপতিকে রাজি করাতে হয়েছে দল নির্বাচনে তাকে কিছু ক্ষমতা দেয়ার জন্য। অথচ হওয়ার কথা ছিল একদমই উল্টোটা।

তবে প্রধান কোচ নিজেও একজন নির্বাচন হোক বা না হোক, দুইজন সাবেক ক্রিকেটারকে খামোকা নির্বাচকের আসনে বসিয়ে রাখার কী এমন প্রাসঙ্গিকতা বা যৌক্তিকতা, যদি তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দিয়ে কেবল পুতুল বানিয়ে রেখে দেয়া হয়? 

মজার ব্যাপার হলো, মিনহাজুল ও বাশার দুইজনকেই কিন্তু তাদের খেলোয়াড়ি জীবনেও দল নির্বাচন নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। মিনহাজুল শুরুতে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন না। পরবর্তীতে পাবলিক ডিমান্ডের ভিত্তিতে তাকে দলে নেয়া হয়। একই ঘটনা ঘটেছিল বাশারের ক্ষেত্রেও, যখন ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল টাইগাররা।

অথচ মিনহাজুল ও বাশার দুইজনই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ দুইজন ব্যক্তিত্ব। ১৯৮০ ও ১৯৯০ এর দশক জুড়ে মিনহাজুল বিবেচিত হয়ে এসেছেন বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে। অন্যদিকে মিস্টার ফিফটি খ্যাত বাশারের ৩০০০ এর অধিক টেস্ট রান একদমই ফেলনা নয়। বরং তার অধিনায়কত্বেই প্রথম বড় দলগুলোকে হারানোর স্বাদ পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। তাই তো মাশরাফি বিন মর্তুজার পর বাশারকেই মানা হয় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম অধিনায়ক হিসেবে।

তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলের জন্য এই দুইজন মানুষ যদি নতুন করে কোনো অবদান না-ও রাখেন, তবু বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা থাকবে তাদের নাম। অথচ সেই তারাই যখন জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে মহাগুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, তাদেরকে কি তাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়া হচ্ছে? নাকি তাদেরকে একপ্রকার অপমানিতই করা হচ্ছে? যেকোনো বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষেই সম্ভব এই প্রশ্নগুলোর সদুত্তর দেয়া। সুতরাং ফিরে যেতে চাই সেই শুরুর প্রশ্নেই, মিনহাজুল-বাশারের কি এবার তবে পদত্যাগ করা উচিৎ নয়?

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close