পৃথিবীর বুকে ৪৭ বছর আগে ২৬শে মার্চ জন্ম নেওয়া স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য আজ ১০ই মে, ২০১৮ একটি বিশেষ দিন। কারণ আজকেই পৃথিবীর ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের মালিক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, মহাকাশে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১! পুরো উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি!

অথচ অনেককেই পাবেন আপনার আশেপাশে যারা কোন কারণ ছাড়াই প্রবল বিরক্ত হয়ে বলছে, প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা খরচ করে আকাশে রকেট পাঠায়ে আমাদের লাভটা কি? অনেকে তো আবার এটাও বলছে যে হুদাই এসব রকেট-স্যাটেলাইটের পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ না করে এই টাকা গরীব-দুঃখীদের সাহায্য করলে কত মানুষের উপকার হত, দেশের নানা প্রয়োজনে দেওয়া কত জরুরি ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি… অসংখ্য শিক্ষিতমুর্খ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ইন্টারনেটে বসেই কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ধারণ না থাকা সত্ত্বেও যেভাবে সমালোচনার নামে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তাতে হতাশ লাগা স্বাভাবিক! আসুন জেনে আসা যাক এই স্যাটেলাইটটি কিভাবে পাল্টে দেবে আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত!

১) বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি আমাদের টেলিকমিউনিকেশন্স, টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আর ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, যার জন্য পূর্বে আমরা ভারত ও অন্যান্য দেশের উপর নির্ভর করতাম। বছরে আমাদের দেশ থেকে ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা চলে যেত ভিনদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া নিতে। টেলিকমিউনিকেশন্স, টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আর ইন্টারনেটের কানেক্টিভিটির জন্য আমাদের নির্ভর করতে হত অন্যদেশের দেওয়া সুযোগের উপর, চড়া দামে, অর্থাৎ চাইলেও দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা কঠিন ছিল। এখন আমাদের দেশেরই একটা অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট থাকায় স্যাটেলাইট ভাড়া হিসেবে দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমে এখন এক তৃতীয়াংশ হয়ে যাবে! বেসরকারী চ্যানেলগুলোকে আগে প্রতি মাসে ৩০ হাজার ডলার খরচ করতে হত ফ্রিকোয়েন্সী কিনতে, অত্যাধিক এই ব্যয় আর করতে হবে না, এখন তারা কম দামে দেশের ভেতর থেকেই ফ্রিকোয়েন্সী কিনতে পারবে। ফলে সাশ্রয় হবে প্রচুর অর্থ! আর তার চেয়েও বড় কথা, দেশের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রির মাধ্যমে দেশের টাকা দেশেই থাকবে, বিদেশের উপর নির্ভরতা কমে যাবে।

২) দেশের টেলিকমিউনিকেশন্স, টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আর ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি স্যাটেলাইটের তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে।এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মায়ানমারের কাছে এই স্যাটেলাইট সার্ভিস বিক্রি করে আমরা বছরে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।

৩) এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্সিং, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সব সেক্টরেই ই-সেবা ম্যাসিভ বুস্ট আপ করবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রাখবে বঙ্গবন্ধু-১, যেটা এতোদিন অনেকটাই অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে। অর্থাৎ বড় বড় সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যায় যেমন আগে টেলিফোন, টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত, যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়তো, সেটা আর এখন হবে না।

৪) সামরিক খাতে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এটি আমাদের একটি অনেক বড় কম্পিটিটিভ এডভান্টেজ হয়ে দাঁড়াবে। আজকাল জঙ্গী বা সন্ত্রাসীরা অনেক রিমোট এরিয়াতেও স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকায় আমাদের চৌকষ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষেও এদের লোকেট করা, খুঁজে বের করা সম্ভব হয় না। শত্রুর অবস্থান জানার জন্য পরিদর্শন – পরিক্রমা, ছবি তোলার কাজে,স্থল সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য ইন্টিলিজেন্স সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা পেতে এমনকি পারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং আসন্ন হামলার আগাম খবরাখবর সরবরাহের কাজেও এই স্যাটেলাইটটিই হবে আমাদের প্রধান গুপ্তচর। সন্ত্রাসী কর্মকার্ন্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সন্ত্রাসীদের ধরতে এই স্যাটেলাইটটি রাখবে বিশাল ভূমিকা!

৫) নেভিগেশন বা জাহাজের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনায়, গ্লোবাল পজিশনিং বা জি পি এস, ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে, গামা রে এক্সপ্লোশন ডিটেকশন করতে আমাদের সাহায্য করবে বঙ্গবন্ধু-১। মাটি বা পানির নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিভিন্ন খনির সনাক্তকরণের মাধ্যমে নতুন সম্পদের দুয়ার খুলে দেওয়ার কাজে সাহায্য করবে বঙ্গবন্ধু-১।

৬) মহাকাশ বা জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার এক বিশাল দুয়ার উন্মোচন করবে বঙ্গবন্ধু-১। বিশেষ করে বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী এবং মহাকাশবিজ্ঞানে ক্যারিয়ার গড়তে , নতুন কিছু আবিষ্কার করতে চাওয়া শিক্ষার্থীরা নতুন এক ডাইমেনশন পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মহাকাশবিজ্ঞান বিভাগ খোলা হবে। হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এই এক স্যাটেলাইট দিয়েই। এই স্যাটেলাইটের হাত ধরেই একদিন হবে আমাদের নিজস্ব গবেষণা সংস্থা। পর্যাপ্ত সরকারী সহায়তা ও ফান্ডিং পেলে শুরু হবে গবেষণায় নতুন এক অধ্যায়!

৭) এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। দেশের দুর্গম অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হবে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্বাভাবিক টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও উদ্ধারকর্মীরা স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ রেখে দুর্গত এলাকায় কাজ করতে সক্ষম হবেন। যদিও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। কিন্তু এর ১০০% সঠিক ব্যবহার করতে পারলে সেটা খরচকৃত টাকার থেকে শতগুণ বেশি উপকার করবে!

এগুলো তো গেল স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি পাওয়া সুফলের কথা , কিন্তু এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা, সেটা হচ্ছে বিশ্বদরবারে আমাদের ভাবমুর্তি! বঙ্গবন্ধু-১-এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অভিজাত দেশের ক্লাবে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। যে ক্লাবে এর আগে পৃথিবীর মাত্র ৫৬টি দেশ ছিল। মহাকাশে লাল-সবুজের বাংলাদেশের চিহ্ন রেখে আসা এই স্যাটেলাইটটি বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেবে বহুগুণে, সামরিক ও অর্থনৈতিক নানা দিকে এই স্যাটেলাইটের ফলে স্বনির্ভরতা আসায় বাংলাদেশের অনেক বিষয়েই বিশ্ব মোড়লদের মুখ চেয়ে বসে থাকতে হবে না। মোড়লেরা আরো সতর্কভাবে এবং সিরিয়াসলি নেবে আমাদের। জাতি হিসেবে এটা অনেক বড় পাওয়া! 

তবে সবচেয়ে বড় পাওয়া বোধহয় “আট, সাত, ছয়, পাঁচ, চার, তিনি, দুই, এক-ইটস অ্যা গো” শব্দগুলো, প্রবল আনন্দ আর উত্তেজনায় গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যাওয়া, নিজের চোখে দেখা- অসীম মহাকাশের অনন্ত নক্ষত্রবীথির ভেতর একটা সুর্যের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবীর ছোট্ট একটা দেশ বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা অসীম মহাকাশে নিয়ে যাওয়া রকেটটির নয়টা মার্লিন ইঞ্জিন কিভাবে ১৬২ সেকেন্ড ধরে পুড়ে চোখ ধাঁধানো আলোয় উড়তে উড়তে হারিয়ে যাচ্ছে অসীম শূন্যতায়! এই আনন্দ অনির্বচনীয়, এই গর্ব সীমাহীন!

মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘অ্যাপ্লাইড রিসার্চ অ্যান্ড ফোটোনিক্স’ তথা এআরপি’র উপদেষ্টা ও নাসার প্রাক্তন প্রকৌশলী বাংলাদেশী আমেরিকান আজাদুল হক তার এই লেখায় এই আনন্দটুকু ফুটিয়ে তুলেছেন সবচেয়ে নিখুঁতভাবেঃ

সব‌কিছু ছা‌ড়িয়ে অা‌মি অান‌ন্দিত একজন বাংলা‌দে‌শি হি‌সে‌বে। অা‌মি ম‌নে ক‌রি অাজ ১০ মে বিকেলে (ফ্লোরিডা সময় ৪ঃ১২ মিনিট, বাংলাদেশ সময় রাত ২ঃ১২ মিনিটে ) ফ্যালকন ৯ এর নয়টা মার্লিন ইঞ্জিন ১৬২ সেকেন্ড ধরে পুড়ে অা‌লো ছ‌ড়ি‌য়ে যখন মহাকাশে নিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধু -১ কে সে‌টি হ‌বে জা‌তির জন্য বি‌শেষ এক মুহুর্ত।

অা‌মি ম‌নে ক‌রি নাসার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থে‌কে যখন কাউন্ট ডাউন শুরু হ‌বে তখন অান‌ন্দে অামাদের সবার চোখ ভি‌জে উঠ‌বে। দাঁ‌ড়ি‌য়ে যা‌বে শরী‌রের প্র‌তিট পশম। এমন রোমাঞ্চকর মুহুর্ত তো বারবার অা‌সে না।

যারা সবকিছু রাজনীতির চশমা দিয়ে দেখেন তারা কেউ কেউ অাজ‌কের ঘটনা‌কে অতিরঞ্জিত করে ফেলবেন দু’ভাবেই। কেউ একে মহাকাশ বিজয় বলবেন, আবার কেউ বলবেন এটা টাকা ওড়ানোর বা বানানোর ফন্দী। কিন্ত‌ু আমি শুধু দেখছি বিজ্ঞানের দৃষ্টি ভঙ্গীতে। এক সময় নাসাতে কাজ করতাম। তখন মিশন কন্ট্রোল রূমে বসে দেখেছি কিভাবে লঞ্চ হয়। ফ্লাইট ডিরেক্টর কিভাবে প্রতিটি খুটিনাটি দেখে বলতেন, “ইটস আ গো”। এরপর যখন কাউন্ট ডাউন হত, তখন গায়ের সবগুলো পশম দাঁড়িয়ে যেত, দু’চোখ ভিজে যেত।

লঞ্চ হবার পর থেকে আমরা মুহুর্ত গুনতাম প্রথম স্তরের রকেট গুলো না পোড়া পর্যন্ত। সেই রোমাঞ্চকর মুহুর্ত গুলো লিখে বোঝানো যায় না। এরপর এক সময় সবাই দাঁড়িয়ে মুষ্টিবদ্ধ দু হাত তুলে “ইয়েস” বলে চিৎকার করে উঠতাম ছোট্ট শিশুদের মত। তাই ব‌লবো, সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ছোট্ট শিশুদের মতন অাজ উৎসব করার দিন।

থমকে থাকুক অাজ সারা বাংলাদেশ এই ১৬২ সেকেন্ড। রাস্তায় সব গাড়ি থেমে থাকুক। সবগুলো সাইরেন বেজে উঠুক। আজান হোক প্রতিটি মসজিদে যেমন হয় ঝড়ের সময়। তোপধ্বনি হোক ২১ বার থেকে এই ১৬২ সেকেন্ড ধরে। ঢোল বাজুক, ভুভুজেলা বাজুক সবার বাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদে। আগামীকাল সব স্কুলে জাতীয় সংগীত গাওয়া হোক তারপর শিক্ষার্থীদের বলা হোক কি অসাধারণ ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। অকারনেই হাসুক বাংলাদেশের সব মানুষ। মুষ্টিবদ্ধ ৩২ কোটি হাত উঠুক বলার জন্য, “হ্যাঁ আমরাও পারি”।

বাংলাদেশের সব মানুষ জানুক মহাকাশে আজ বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা যাচ্ছে। এই ১৬২ সেকেন্ড হয়ে উঠুক দুনিয়া কাপানো ১৬২ সেকেন্ড। এই বিশ্ব জানুক, আমরা আছি।

আমরা যারা প্রযুক্তিবিদ, যারা রাজনীতি বুঝি না, কিন্তু ভালোবাসি বাংলাদেশকে, আমাদের জন্য এক অপার, অসীম সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে অাজ থেকে। আমরা এখন আর স্বপ্ন দেখতে ভয় পাবো না। সেদিন আর বেশী দূরে নেই যেদিন মহাকাশে যাবে বাংলা মায়ের দামাল সন্তানদের তৈরী রকেট, স্পেসশীপ।

আর তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, যিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন এই অনন্য অর্জন বাস্তবায়ন করতে পালন করেছিলেন অন্যতম প্রধান ভূমিকা, তার এই কথাগুলো আমাদের যেন আরো গর্বিত করে তোলেঃ

‘আমি যখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমিন্ত্রী হিসেবে স্যাটেলাইটটি সর্বশেষ (নির্মাণ শেষে) দেখতে আসি তখন থ্যালেস অ্যালেনিয়া বলে স্যাটেলাইটের গায়ে নাম লিখে সই করতে। আমি তাদের বলি সই করার একমাত্র অধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু ওরা আমাকে কিছু একটা লিখতে বলে।তখন আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে এটি (জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু) হাতে লিখে দেই। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বাংলায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানটি লেখা রয়েছে। এই স্লোগান নিয়েই অসীম মহাশূন্যে কক্ষপথের দিকে ছুটবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট! 

আজকের এই আনন্দের দিনটায় যারা খুশি হয়েছেন, যারা ক্ষুব্ধ হয়েছে, যারা গর্বিত হয়েছেন, যারা বিরক্ত হয়েছেন, যারা অনাবশ্যক বিদ্রুপে মেতেছেন, সেদিন আর বেশি দূরে না, যেদিন আপনারা সবাই তথ্যপ্রযুক্তিতে শীর্ষস্থানে থাকা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে এই বলে গর্ব করবেন যে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার আমিও একজন সাক্ষী ছিলাম! এই অর্জন আমাদের সবার! জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!

লেখাটা তৈরিতে তথ্য কৃতজ্ঞতা- রবিউল এইচ ভূঁইয়া ও শরীফুল হাসান

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-