সিনেমা হলের গলি

এবার সঞ্জয় দত্তের ‘সত্যিকারের’ বায়োপিক বানাবেন রাম গোপাল ভার্মা!

রাম গোপাল ভার্মাকে চেনেন না, এমন বলিউডপ্রেমী খুঁজে পাওয়া যাবে না একজনও। রঙ্গিলা, দাউদ, সত্য, কোম্পানী, রক্তচরিত্র, সরকার- এই সিনেমাগুলো এই গুণী নির্মাতার মেধার পরিচয় দেয় বরাবরই। তবে গত কয়েকবছর, বা এই দশকে খুব একটা ভালো ফর্মে নেই বলিউডের এই দক্ষিণী পরিচালক। গত কয়েক বছরে যে সিনেমাগুলো করেছেন, সেগুলো খুব একটা আলোচিত হয়নি, বক্স অফিসেও সাড়া ফেলতে পারেনি। কিছুদিন আগে এক পর্নস্টারকে নিয়ে ডকু-ড্রামা বানিয়েছিলেন, সেটা বরং বেশ আলোচনায় এনেছিল তাকে। 

সঞ্জয় দত্ত, সাঞ্জু, রাম গোপাল ভার্মা, বায়োপিক, রাজকুমার হিরানী

নিন্দুকেরা বলেন, রাম গোপাল ভার্মার নাকি আলোচনায় থাকার খুব শখ। এজন্যে সেধে সেধে বিতর্ক তৈরি করেন তিনি। সানি লিওনকে নিয়ে কটু মন্তব্য বা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অভিনেতা-পরিচালকদের নিয়ে তার করা তীর্যক কথাবার্তাগুলো নাকি তারই ইঙ্গিত দেয়। তবে এবার তিনি পড়েছেন সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে। কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে সঞ্জয় দত্তের বায়োপিক ‘সাঞ্জু’। রাজকুমার হিরানী পরিচালিত এই সিনেমাটা বক্স অফিসের রেকর্ড তোলপাড় করেছে, প্রায় পাঁচশো কোটি রূপি আয় করে সর্বকালের সবচেয় বেশি আয় করা বলিউডি সিনেমার তালিকায় সেরা পাঁচে উঠে এসেছে সাঞ্জু। দর্শক মুগ্ধ হয়েছে সঞ্জয় দত্তরূপী রনবীর কাপুরের অভিনয় দেখে।

তবে হিরানীর এই ‘সাঞ্জু’ রাম গোপাল ভার্মার একটুও পছন্দ হয়নি। তার মতে, এই সিনেমায় পরিচালক ‘সেফ গেম’ খেলেছেন। যেগুলো নিয়ে দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে ছিল, সেই বিষয়গুলোই এড়িয়ে গিয়েছেন হিরানী। বেআইনী অস্ত্র, আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়াদের সাথে সঞ্জয় দত্তের বন্ধুত্ব, জঙ্গীবাদের মামলা- এই বিষয়গুলো খুব তাড়াহুড়ো করে দেখানো হয়েছে সাঞ্জু’তে। রাম গোপাল ভার্মা তাই সঞ্জয়ের জীবনের এই অংশগুলোকে সামনে এনে নতুন বায়োপিক বানাতে চান। সেজন্যে তিনি সঞ্জয়ের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আর তার বন্ধুদের কারো কারো সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা কথাও বলেছেন। রামু’র ভাষায়, এটা হবে সঞ্জয় দত্তের ‘অনেস্ট বায়োপিক’, এখানে কোন লুকোচুরি থাকবে না! 

সঞ্জয় দত্ত, সুনীল দত্ত, বলিউড, বোম্বে ব্লাস্ট, বেআইনী অস্ত্র, নার্গিস

রাজকুমার হিরানীর ‘সাঞ্জু’ তে মূলত তিনটা বিষয়ের ওপর জোর দেয়া হয়েছিল। বাবা-ছেলের বন্ধুত্ব, সঞ্জয় দত্ত আর কমলেশ্বরের বন্ধুত্ব, আর পর্দার আড়াকে সঞ্জয়ের ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ টাইপের জীবনটা। সেখানে অন্য ব্যাপারগুলো খানিকটা আড়ালেই পড়ে গিয়েছিল। আড়াই ঘন্টার একটা সিনেমায় আর কতটাই বা তুলে আনা যায়! সেজন্যেই রাম গোপাল ভার্মা ঘোষণা দিয়েছেন, তার বানানো সঞ্জয় দত্তের বায়োপিকে মাফিয়াদের সাথে সংযোগ আর বেআইনী অস্ত্র রাখার ব্যাপারগুলোই প্রাধান্য পাবে, থাকবে সঞ্জয়ের মাদকের সাথে সখ্যতার গল্পটাও।

হিরানীর ‘সাঞ্জু’তে যে গল্পটা দেখানো হয়েছে, সেটা সঞ্জয় দত্তের নিজের মুখে বলা গল্প। নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাবে সঞ্জয় যেসব অজুহাত দিয়েছিলেন, সেগুলোকেই সেলুলয়েডে বন্দী করেছেন হিরানী। দর্শককে তাই পুরো সিনেমাটা দেখতে হয়েছে সঞ্জয় দত্তের অবস্থান থেকে। দর্শক সেটাই জেনেছেন, যেটা সঞ্জয় বলেছেন। সেকারণেই প্রশ্ন উঠেছে, হিরানী এই সিনেমাটা সঞ্জয় দত্তের ইমেজ ক্লিন করার জন্যে বানিয়েছেন কিনা! 

সাঞ্জু, সঞ্জয় দত্ত, রনবীর কাপুর, রাজকুমার হিরানী

রাম গোপাল ভার্মা জানিয়েছেন, তার সিনেমায় এমন কোন ব্যাপার থাকবে না। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণের পর সঞ্জয় গ্রেফতার হয়েছিলেন পুলিশের হাতে। তখনকার থানা ইনচার্জ আর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে কয়েক দফায় তাদের সাথে বসেছেন রাম গোপাল ভার্মা। সত্যিকারের তথ্যটা জানার চেষ্টা করেছেন। সেকারণেই হয়তো এই প্রজেক্টের নাম তিনি দিয়েছেন- ‘সাঞ্জু: দ্য রিয়াল স্টোরি’! সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু এটাই বলেছেন- ‘হ্যাঁ, এই কাজটা আমি করছি। এর বেশিকিছু আপাতত বলতে চাইছি না…’ তার সিনেমায় সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে কাকে নেয়া হবে সেই বিষয়েও এখনও কিছু জানাননি রামু।

অজস্র প্রশ্ন আছে সঞ্জয় দত্তের জীবন নিয়ে। সাঞ্জু’তে সেসবের মধ্যে খুব অল্প কয়েকটারই উত্তর দেয়া আছে। একে-৫৬ রাইফেলটা সঞ্জয় কেন এনেছিলেন? কেন দাউদের সহযোগী আবু সালেমের কাছ থেকেই অস্ত্র নিতে হয়েছিল তাকে? মুম্বাই ব্লাস্টের সঙ্গে সঞ্জয়ের কি কোন সম্পর্ক ছিল? আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়াদের সাথে সঞ্জয়ের কেমন বন্ধুত্ব ছিল? ‘পরিবারের সুরক্ষার জন্যে’ অস্ত্র রাখার অদ্ভুত যুক্তিটা কতটুকু সত্যি? ভেতরে অন্য কোন গল্প নেই তো? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন রামগোপাল ভার্মা। দর্শক নিশ্চয়ই সেগুলো দেখতে পাবেন তার বানানো সঞ্জয় দত্তের ‘আসল’ বায়োপিকে, যদি ছবিটা আলোর মুখ দেখে। 

সঞ্জয় দত্ত, সাঞ্জু, রাম গোপাল ভার্মা, বায়োপিক, রাজকুমার হিরানী

সঞ্জয় দত্ত রাম গোপাল ভার্মাকে তার জীবনের ওপরে সিনেমা নির্মাণের অনুমতি দেবেন কিনা, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। যদিও এখনও পর্যন্ত সঞ্জয়ের তরফ থেকে হ্যাঁ/না কিছুই শোনা যায়নি। তবে এটা তো নিশ্চিত, সাঞ্জু দেখে যেমন সঞ্জয় দত্তের প্রতি মানুষের একটা মায়া কাজ করেছিল, তাকে পরিস্থিতির শিকার বলে মনে হয়েছিল অনেকের কাছে, সেরকমটা রামু’র বানানো সিনেমায় অবশ্যই মনে হবে না। বলিউডের ‘ব্যাড বয়’কে কিভাবে পর্দায় নিয়ে আসবেন রাম গোপাল ভার্মা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র- টাইমস অফ ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close