প্রিয় তারকার প্রতি মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ, ইংরেজিতে যাকে আরও সুন্দর ও বোধগম্যভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় ‘অবসেশন’ শব্দটি দ্বারা, তা নেহাত অস্বাভাবিক বা অপরিচিত কোন ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিটি মানুষেরই অন্তত একজন না একজন প্রিয় তারকা বা সেলিব্রিটি রয়েছেন, যার জন্য তারা যেকোন কিছুই করতে রাজি।

যেকোন কিছু মানে যেকোন কিছু! প্রিয় তারকার নামে নিজের সন্তানের নাম রাখা, তাকে এক নজর দেখা বা তার অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য ভোরবেলা থেকে এয়ারপোর্টের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, জন্মদিনে তার মঙ্গল কামনায় উপোস থাকা – কী না করে মানুষ!

কিন্তু তাই বলে মৃত্যুর আগে নিজের পরিবারের সদস্যদের বঞ্চিত করে স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি প্রিয় তারকার নামে উইল করে দিয়ে যাওয়া? এটি শুধুই অস্বাভাবিক নয়, রীতিমত খ্যাপামি, এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি এক ধরণের অবিচারও বটে। আর ঠিক এই কাজটিই করেছেন এ বছরের শুরুর দিকে পরপারে পাড়ি জমানো জনৈক সঞ্জয় দত্ত ভক্ত।

৬২ বছর বয়সে, এ বছরের ১৫ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন মুম্বাইনিবাসী নিশি হরিশ্চন্দ্র ত্রিপাঠী। দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধীতে ভুগছিলেন তিনি। জানতেন যেকোন দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হবে তাকে। তাই তো আগে থেকেই ব্যাংকে থাকা তার সকল টাকা, লকারের সোনাদানা, ও অন্যান্য নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকল সম্পদ তিনি বলিউড তারকা সঞ্জয় দত্তের নামে লিখে দিয়ে যান।

ওয়াল্কেশ্বরের ‘ব্যাংক অব বরোদা’কে লেখা একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি অফিসিয়ালি সঞ্জয় দত্তকে তার সম্পত্তির আইনত উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান, এবং কাগজপত্রে তার পালি হিলের ঠিকানাও উল্লেখ করেন।

যদিও এইসবের কিছুই শুরুতে জানতেন না সঞ্জয় দত্ত। ২৯ জানুয়ারি পুলিশের তরফ থেকে তাকে প্রথম এই উইলের কথা জানানো হয়। আর খুব স্বভাবতই যারপরনাই অবাক হন তিনি। কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্তটি নিয়ে খুব একটা দেরি করেননি তিনি। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তার পরিবারের লোকেদের প্রাপ্য, এমনটিই বিশ্বাস করেন তিনি। তাই খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই উকিল লাগিয়ে প্রাপ্ত সম্পত্তি সব যাতে নিশি দেবীর পরিবারের সদস্যদের একাউন্টে স্থানান্তর করা হয়, সে উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। এখনও সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, তারপরও তার অ্যাটর্নি নিশ্চিত করেছেন যে কয়েকদিনের মধ্যেই কাজটি হয়ে যাবে।

মুম্বাই মিররে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিশি দেবী যে তার সব সম্পত্তি সঞ্জয় দত্তকে দিয়ে গেছেন, এ তথ্য কেবলমাত্র তার মৃত্যুর পরই জানতে পারেন তার পরিবারের বাকি সদস্যরা। এবং এতে তারা নাখোশও হন। তবে গণমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

অন্যদিকে সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, নিশি দেবীর মত একজন ভক্ত তার জন্য যা করেছেন, তাতে তিনি অভিভূত। এরকম কিছু যে কখনও তার সাথে হতে পারে, তা তিনি কোনদিন কল্পনাও করেননি। কিন্তু তারপরও নৈতিকভাবে তিনি নিশি দেবীর এমন অদ্ভূত সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাতে পারেননি, যে কারণে সব সম্পত্তি ফিরিয়ে দিচ্ছেন নিশি দেবীর পরিবারকে।

তবে একটি জিনিস সবসময়ই তার সাথে থাকবে, যেটি তিনি চাইলেও কখনও ফেরত দিতে পারবেন না। তা হলো তার প্রতি এই খ্যাপাটে ভক্তের অকৃত্রিম ভালোবাসা। এই ভালোবাসা কি ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব?

তথ্যসূত্র- বিবিসি, ফার্স্টপোস্ট ডটকম

Comments
Spread the love