শাহরুখ খানের ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমাটা প্রায় সবারই দেখা। করণ জোহরের প্রথম পরিচালিত সিনেমা ছিল এটা, শাহরুখ খান ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্যে। এই সিনেমার একটি সংলাপ, যেটা বাংলা করলে দাঁড়ায়, “আমরা একবার বাঁচি, একবার মরি; আর প্রেম, সেটাও একবারই আসে জীবনে”- এটি তো খুবই বিখ্যাত।

তবে শাহরুখ-করণ জোহর বা সংলাপ নয়, কুছ কুছ হোতায় হ্যায় আমাদের কাছে প্রিয় ছিল আরও একজনের কারণেও। সানা সাঈদের বলিউড অভিষেক হয়েছিল এই সিনেমা দিয়েই। নামটা অপরিচিত লাগতে পারে অনেকের কাছে। তবে ছোট্ট অঞ্জলী বললেই সবাই চিনে ফেলবেন নিশ্চয়ই। শাহরুখ খানের মেয়ে অঞ্জলীর চরিত্রে অভিনয় করে সবার মন জিতে নেয়া মেয়েটা ছোট্ট নেই এখন আর! অনেক বড় হয়ে গেছে সে, বেড়েছে তার সৌন্দর্য্যের ধারও। ২০১২ সালে বলিউডি সিনেমা ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ারে’ দেখা মিলেছিল পরিণত বয়সের অঞ্জলী’ তথা সানা সাঈদের।

কুছ কুছ হোতা হ্যায় এর অঞ্জলী হিসেবে যখন তাকে নেয়া হয়েছিল, সানার বয়স তখন মাত্র নয় বছর। এর আগেও সিনেমার অফার এসেছিল তার কাছে, ডিরেক্টর রাহুল গুপ্ত তার ‘হাম পাঞ্চি এক ডাল কে’ সিনেমার জন্যে সানাকে পছন্দ করেছিলেন খুব। কিন্ত পড়ালেখার ক্ষতি হবে ভেবে সানা’র বাবা-মা রাহুলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

করণ জোহর তার প্রথম সিনেমার কাজ শুরু করবেন। শাহরুখ খানের মেয়ের চরিত্রে একদম ফুটফুটে একটা আট-নয় বছরের মেয়েকে দরকার। প্রায় দুইশো শিশুর মধ্যে থেকে অডিশন নিয়ে সানা’কে খুবই মনে ধরলো করণের। কিন্ত শুটিং শিডিউলের সঙ্গে সানা’র ক্লাস শিডিউলও এক হয়ে যাচ্ছিল। পরে দুই কূল সামলে সানা’র স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়ে ওর অংশের শুটিং শেষ করা হয়।

সিনেমা মুক্তির পর তো রাতারাতি তারকা বনে গেলেন সানা। শাহরুখ-কাজল-রানী-সালমানের মতো তারকাদের ছাপিয়ে ছোট্ট এই মেয়েটার দারুণ অভিনয় দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিল দর্শকের। ওর হাসি, ওর কান্না, বাবারূপী শাহরুখের সঙ্গে ওর অনস্ক্রীন কেমিস্ট্রি- সবটাই চোখে লেগে আছে আমাদের। অভিনয়ের সেবছর জন্যে সানসুই ভিউয়ার্স চয়েজ অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট চাইল্ড আর্টিস্টের পুরস্কার ঘরে তুলেছিলেন সানা।

কুছ কুছ হোতা হ্যায় এর সাফল্যের পর অনেক সিনেমারই অফার এসেছিল সানার কাছে। কিন্ত শিশুশিল্পী হিসেবে এরপর আর মাত্র দুটো সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। সানি দেওল-রানী মুখার্জী অভিনীত ‘বাদল’ এবং সালমান-রানী-প্রীতি জিনতা’র ‘হার দিল জো পেয়ার কারেগা’ তে দেখা মিলেছিল তার। এরমধ্যে স্টার প্লাসে প্রচারিত ছোটদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ফক্স কিডসে’ও উপস্থাপনা করেছে সানা। সেখানে তার অভিনীত চারু চাচী চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয় ছিল ছোটদের মধ্যে।

এরপর দীর্ঘ একটা বিরতি। পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন এই বিরতিতে। ২০০৮ সালে আবার ফিরেছেন মিডিয়াতে, টিভি পর্দায় দেখা মিলেছিল তার। সনি আর সনি সাবে দুটো সিরিয়ালে অভিনয় করেছিল সানা। তবে ক্যারিয়ারের বড় ব্রেকটা আবার করণ জোহরই তাকে দিলেন। ২০১২ সালে এলো স্টুডেন্ট অব দ্যা ইয়ার; একগাদা নতুন মুখের সঙ্গে সানাও নাম লেখালেন বলিউডে, শিশুশিল্পীর তকমা ঝেড়ে। তিনি সেখানে নায়িকা ছিলেন না, কিন্ত যেটুকু সুযোগ পেয়েছেন, দিয়েছেন নিজের মেধার পরিচয়। হিংসুটে এক তরুণী তানিয়া’র চরিত্রে দারুণ সাবলীল অভিনয় করেছিলেন সানা, সিদ্ধার্থ-বরুণ-আলিয়াকে রেখে কোমল নেহতা বা তরন আদর্শের মতো বলিউড ক্রিটিক্সরা মেতেছিলেন সানা’র বন্দনায়।

পরের বছর অংশ নিয়েছিলেন কালার্স টিভির ড্যান্স রিয়েলিটি শো ‘ঝালাক দিখলা জা’ তে। সেখানে ষষ্ঠ হয়েছিলেন তিনি। নাচেও তিনি কম পারদর্শী নন- জানান দিয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। আরেক রিয়েলিটি শো ‘নাচ বলিয়ে’তে হয়েছিলেন পঞ্চম। ‘ঝালাক দিখলা জা’ তে তাকে দেখা গেছে ২০১৪ আর ২০১৭ সালেও। এক পর্বে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন শাহরুখ খান। সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের অনস্ক্রীন কণ্যাকে দেখে বেশ অবাকই হয়েছিলেন বলিউড বাদশা।

স্টুডেন্ট অব দ্যা ইয়ারের পরেই আলোচনায় এসেছিলেন তিনি, সবাই জেনেছিল, আকর্ষণীয় এই তরুণীই সেই ছোট্ট অঞ্জলী। ধারণা করা হয়েছিল, ক্যারিয়ারে এরপর তরতর করে ওপরের দিকে উঠে যাবেন সানা, বলিউডে নিজের আসন পাকাপোক্ত করে নেবেন অনায়াসে। কিন্ত তেমন কিছু হয়নি। ২০১৪ তে ফুগলি সিনেমায় ক্যামিও রোলের পর বলিউডে দেখা মেলেনি তার। অভিনয়ের দারুণ প্রতিভা আছে, আছে ঐশ্বরিক সৌন্দর্য্যও; সেইসঙ্গে দারুণ নাচতে পারেন- সব মিলিয়ে বলিউডের আকর্ষণীয় এক নায়িকা হবার সব গুণাবলীই আছে সানা সাঈদের। পরিচালকেরা তার মেধাকে ঠিকঠাক মতো ব্যবহার করতে পারলে বলিউডে নিজের জায়গাটা সানা দারুণভাবেই করে নিতে পারবেন। 

তথ্যসূত্র-

১/ https://en.m.wikipedia.org/wiki/Sana_Saeed 

২/ http://www.mtvindia.com/blogs/parent/news/7-facts-we-bet-you-didnt-know-about-sana-saeed-52196674.html

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো