ডিসকভারিং বাংলাদেশতারুণ্য

নতুন সিজনে যারা সেন্টমার্টিন যাওয়ার প্ল্যান করছেন…

Sujauddin F. Sohan-

নতুন সিজন শুরু হয়েছে, অনেকেই সেন্টমার্টিন ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন হয়তো! এই লেখাটা তাদের কাজে আসতে পারে। সেন্টমার্টিন ট্যুরের খরচাপাতি; সাথে কিছু আনুষঙ্গিক তথ্য ও পরামর্শ-

ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া আসায় কত খরচ আর কোথায় কত সময় লাগে সে ব্যাপারে লিখব আজকে! ঢাকা টু টেকনাফ বাস ভাড়া ৯০০ (নন-এসি), ১৫০০-২০০০ (এসি)

টেকনাফ টু সেন্টমার্টিন যাওয়া আসা ভাড়া ৫৫০ থেকে শুরু, শীপভেদে ১০০০/১২০০ টাকাও নিবে! যাওয়া আসার টিকেট একসাথেই কাটা হয়, কবে যাবেন আর কবে ফিরবেন সেটা আগে থেকে বলে দিতে হয়, সেন্টমার্টিনে ১ দিন থাকেন বা ২ দিন থাকেন, ভাড়া একই!

আর কেউ যদি টিকেটে উল্লেখিত তারিখে না ফিরে অন্যদিন ফিরতে চান তাহলে সেটাও সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে সীটের নিশ্চয়তা থাকবেনা!

ঢাকা থেকে টেকনাফগামী বাসগুলো সাধারণত ৭টা বা সাড়ে ৭ টায় ঢাকা থেকে রওনা দেয়, পরদিন সকাল ৭/৮ টায় শীপের ঘাটে আপনাকে নামিয়ে দিবে, ওখান থেকেই শীপ ধরতে পারবেন! সাধারণত ৯:৩০ মিনিটের দিকে শীপগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, ১১:৩০ বা ১২ টার মধ্যে শীপগুলো সেন্টমার্টিনে পৌছে! আবার বিকেল ৩ টার দিকে শীপ সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়!

দুপুরে বা বিকেলে টেকনাফ থেকে কোন শীপ সেন্টমার্টিন যায়না, আবার সকালেও সেন্টমার্টিন থেকে কোন শীপ টেকনাফ আসেনা, সব শীপের শিডিউল একই রকম! তবে শীপ মিস করলে ট্রলারে চড়ে যেতে পারেন। ভাড়া ২০০ টাকা, শুধু যাওয়া কিংবা আসা! টেকনাফ শহর থেকেই ট্রলার ছাড়ে।

ছুটির দিনগুলোতে আগে থেকেই শীপের টিকেট কেটে রাখা ভাল, অন্যান্য দিন ঘাটেই টিকেট মিলবে! সেন্টমার্টিনে থাকার খরচ জনপ্রতি ৩০০-৫০০, অর্থাৎ মোটামুটি মানের হোটেল/রিসোর্টে এক রুমের ভাড়া সাধারণত ১২০০-২০০০ টাকা নেয়, এক রুমে ৪ জন থাকা যায়। পিক টাইম বা টানা কয়েকদিন ছুটির দিন থাকলে রুমের ভাড়া আরো একটু বাড়তে পারে!

শুক্র-শনিবার বা অন্য সরকারী ছুটির দিন গেলে আগে থেকে হোটেল বুকিং করে গেলে বেটার, অন্যান্য দিন পর্যটকের তেমন চাপ থাকেনা, সেন্টমার্টিন গিয়েই হোটেল ঠিক করতে পারেন!

সেন্টমার্টিনে ৫০-৮০ টাকায় সকালের নাস্তা, ১২০-১৮০ টাকায় দুপুর আর রাতের খাবার খেতে পারেন সামুদ্রিক মাছ দিয়ে! রুপচান্দা দিয়ে খেতে চাইলে দামটা একটু বেশিই পড়বে! রাতের বেলা বারবিকিউ ১৭০-২০০ টাকা পড়তে পারে, গেলে অন্তত এক বেলা এটাও ট্রাই করে দেখতে পারেন!

ছেড়াদ্বীপ যাবেন অবশ্যই, এটা না দেখে ফিরবেন না! ছেড়াদ্বীপ ট্রলারে চড়ে গেলে জনপ্রতি ১৫০ টাকা নিবে ভাড়া, স্পীডবোট রিজার্ভ ১৬০০-১৮০০ টাকা নিবে যাওয়া-আসা। দরদাম করে যা পারেন, একটা স্পীডবোটে ৬ জন বসা যায়। ট্রলার বা স্পীডবোট আপনার জন্যে দেড় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করবে ছেড়াদ্বীপে, আবার আপনাদেরকে নিয়েই ফিরে আসবে। যে ঘাটে শীপ থামে সেখানেই ছেড়াদ্বীপ যাওয়ার বোট পাওয়া যায়! ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছেড়াদ্বীপ ঘুরে ফিরে আসা যায়!

সাইকেল চালিয়ে বা হেঁটে হেঁটেও ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যায়, তবে তা ভাটার সময়, স্থানীয়দের কাছ থেকে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিতে পারেন! সেখানে প্রতিটি ডাব ৪০-৬০ টাকায় পাবেন, সাইকেল ঘণ্টাপ্রতি ভাড়া নিবে ৪০ টাকা!

সব মিলিয়ে ৩২০০-৩৩০০ টাকায় ঢাকা টু সেন্টমার্টিন ১ রাত দুইদিনের ট্যুর করা যায়, ২ রাত থাকলে আর ৫-৬ শত টাকা খরচ বাড়বে, এই তো! আর সকাল ১০/১১ টার দিকে অথবা বিকেলের কোন এক সময়ে পারলে জেটির পাশে এসে বসে থাকবেন, পানির রঙ দেখে মন ভরে যাবে!

অনেকেই দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসে, এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত! ২-৩ ঘণ্টায় আপনি সেন্টমার্টিনের কিছুই দেখতে পারবেন না; অন্তত একরাত থাকুন, সম্ভব হলে দুইরাত থাকতে পারেন! একটু রিলাক্সে দ্বীপটা ঘুরে দেখতে না পারলে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়াটাই যেন বৃথা (আমার মনে হয়)!

ইদানীং কোস্টগার্ড নাকি রাত ১১ টার পর বীচে থাকতে দেয়না, চেকিং বাড়িয়েছে, অবিবাহিত কাপল গেলে হেনস্তার শিকার হচ্ছে- এ বিষয়গুলোও মাথায় রাখবেন!

চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি টেকনাফের বাস আছে, সিনেমা প্যালেস (লাল দীঘির পাড়) থেকে রাত ১২/১ টার দিকে কিছু বাস ছাড়ে, সকালে টেকনাফ পৌছে, ভাড়া ৪০০ টাকা! আর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যেতে চাইলে শহর থেকে টেকনাফ শীপের ঘাটে যাওয়া লাগবে প্রথমে, ভাড়া ১৫০ টাকা নিবে! খুব ভোরে রওনা দিতে হবে, নয়তো শীপ মিস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে! এছাড়া কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফ গিয়ে শীপ ধরা সম্ভব না, প্রাইভেট গাড়িতে করে গেলে অবশ্য সম্ভব হতেও পারে!

অনেকেই ঢাকা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে তারপর ঐদিনই বাসে করে কক্সবাজার/টেকনাফ গিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন, এটা অসম্ভব প্রায়! চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যেতেই তো ৪-৫ ঘন্টা লেগে যায়, টেকনাফ তো আরো বহুদূর!

কিছু অনুরোধ-

  • ভ্রমণের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রবাল নিয়ে আসবেন না!
  • যেখানে সেখানে পানির বোতল, খালি প্যাকেট ইত্যাদি অপচনশীল জিনিস ফেলবেন না!
  • পানির ব্যবহার সীমিত করুন, বাথরুম ও গোসলের সময় যত কম পানি ব্যবহার করা যায় ততই ভাল, পর্যটকদের জন্য প্রচুর ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করতে হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপের জন্য এটা একটা ঝুকির কারণ!

শীপে চড়ে যাওয়ার সময় অনেককেই দেখা যায় চিপসের খালি প্যাকেট সমুদ্রে ফেলে দেয়, এমনটা করবেন না প্লিজ, আপনার সাথে থাকা ভ্রমণসঙ্গীকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করুন! দ্বীপের বা প্রকৃতির ক্ষতি হয় এবং সৌন্দর্যহানি ঘটে এমন যে কোন কাজ থেকেই বিরত থাকুন, সকলের ভ্রমণ হোক উপভোগ্য!

আরও পড়ুন-

 

Comments

Tags

Related Articles