ডিসকভারিং বাংলাদেশতারুণ্য

সেন্টমার্টিন- এক অসাধারণ সুন্দর দ্বীপের মৃত্যুদৃশ্য!

তানভীর মৃদুল:

সেন্টমার্টিন্স পরিচ্ছন্নতা অভিযানে গিয়ে দ্বীপের ভূ-ভাগে থাকা অপচনশীল ও ক্ষতিকর আবর্জনার পরিমাণ দেখে যে আতংক ও মন খারাপ বোধ শুরু হয়েছে, তা মন-মগজ কুরে কুরে খাচ্ছে। আমি গত ২০ বছর ধরে দ্বীপটিতে গিয়েছি নানা সময়ে বেশ কয়েকবার। মনে হচ্ছে চোখের সামনে একটা অসাধারণ সুন্দর দ্বীপের মৃত্যুদৃশ্য দেখছি। 

আমরা শতাধিক ব্যাগে করে ১৪০ কেজি মতো অপচনশীল আবর্জনা টেকনাফে নিয়ে এসেছি। ১৪০ কেজি শুনতে বেশ হলেও আদতে সেন্টমার্টিন্স এর ভু-ভাগে থাকা মোট অপচনশীল আবর্জনার ১০০ ভাগের এক ভাগও আমরা অপসারণ করতে পেরেছি কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে।

আমরা মূলতঃ পর্যটকেরা ঘোরাফেরা করেন- দ্বীপের এমন সমূদ্র সৈকতগুলোতে পড়ে থাকা অপচনশীল আবর্জনা পরিস্কার করার চেষ্টা করেছি। এর একটা কারণ হলো দ্বীপের অভ্যন্তরে- অর্থাৎ কটেজগুলো এবং দোকান/রেস্টুরেন্ট/বাজারঘেঁষা অঞ্চলে যে পরিমান অপচনশীল আবর্জনার স্তুপ আমরা দেখেছি, ৫০ জন মানুষ মিলে ২ দিনে তা অপসারণ করার চেষ্টা নিতান্ত হাস্যরসের ব্যাপার হয়ে যেতো! তা করতে গেলে আরো অনেক ব্যাপক আয়োজন লাগবে।

ব্যাপারটা খুবই আতঙ্কজনক! দেশের অন্যান্য যায়গায় অন্ততঃ প্লাস্টিকের বোতল রিসাইকেল হয় অনেকটা; বিক্রি করে অর্থ উপার্জন হয় বলে। এখানে এই বোতলও কেউ কুড়িয়েও নেয় না, কারণ জানা গেলো নৌকা ভাড়া দিয়ে বোতল নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে পোষায় না বলে।

সৈকতগুলোতে প্রতিদিন আসংখ্য পর্যটকের ফেলা আবর্জনার একটা বড় অংশ সমূদ্রে ভেসে যায় জোয়ারের জলে, ফেলার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই। তার উপরে নিয়মিত প্রচুর আবর্জনা ফেলা হয় সমুদ্রে। দ্বীপের ভু-ভাগেই যদি এত আবর্জনা থাকে, এখান থেকে সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে না জানি তার কত শত গুণ আবর্জনা এত বছরে! ভেবে ভীষণ মন খারাপ হয়েছে! সমুদ্রে কত না প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই আবর্জনাগুলো, আরো কত-ই না কেড়ে নিবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে!

এখানে স্কুবা ডাইভ করেছেন এমন মানুষদের কাছে শুনেছি এই দ্বীপের সাগর তলে আর তেমন প্রবাল বেঁচে নেই, এখন সেন্ট মার্টিন্সের সাগরতল মুলত প্রবালের কবরখানা। এভাবে ময়লা ফেললে তা না হয়েই বা উপায় কি!

দ্বীপে ময়লা জমা করার জন্য কোন গার্বেজ ডাম্প (আবর্জনা জমা করার যায়গা) নেই, কোন রকম গার্বেজ ব্যবস্থাপনা নেই। গার্বেজ ডাম্প স্থাপন ও গার্বেজ ব্যবস্থাপনা (সংগ্রহ অপসারণ, রিসাইক্লিং ইত্যাদি) স্থাপন অত্যন্ত জরুরী। দ্বীপে দৈনিক কতজন পর্যটক যেতে পারবেন তা নিয়ন্ত্রণ করা খুব দরকার। প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল দ্রব্যে তৈরী কোনো কিছু যাতে দ্বীপে না ঢুকে বা সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে ঢুকে সে ব্যবস্থা করা খুবই দরকার। পর্যটক ও স্থানীয়রা যাতে কোনো অপচনশীল দ্রব্য নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে না ফেলেন সে জন্য কড়া নিয়ম-কানুন করা দরকার এবং তার বাস্তবায়ন দরকার। স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানোর ব্যাপক কার্যক্রম দরকার। গার্বেজ ব্যবস্থাপনা ও দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ থেকে স্থানীয়দের আয় ও লাভের ব্যবস্থা করা দরকার।

ছবি ও তথ্য কৃতজ্ঞতা- Travelers of Bangladesh (ToB)

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close