ফিচারটি যতবার পড়া হয়েছেঃ 2,313

‘মাই ফ্রাস্ট্রেশন ইজ মাই ইন্সপায়ারেশন’- সাদাত হোসাইন

সাদাত হোসাইন সময়ের জনপ্রিয় তরুণ লেখক, উপস্থাপক ও নির্মাতা। তার দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস‘আরশিনগর’ ও ‘অন্দরমহল’ রীতিমত বিস্মিত করেছে পাঠককে। দুটোই স্থান করে নিয়েছে বেস্ট সেলার উপন্যাসের তালিকায়। বইমেলাতেই চতুর্থ ও পঞ্চম মুদ্রণ ছাপা হয়েছে। এছাড়া তিনি নির্মাণ করেছেন নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও। সেখানেও সমান সাড়া ফেলেছেন। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছে তার নির্বাক চলচ্চিত্র ‘বোধ’ ও ‘দ্য শ্যুজ’। সম্প্রতি ‘দ্য শ্যুজ’-এর জন্য জিতেছেন শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতার পুরস্কার।

জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এগিয়ে চলো-এর সাথে। চলুন মুগ্ধতায় বুঁদ হওয়া যাক অসাধারণ এই মানুষটিতে…

Ad

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘The Shoes’-এর জন্য ‘বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্য উৎসব ২০১৬’-এর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতার পুরস্কার জেতায় আপনাকে অভিনন্দন। ‘The Shoes’-বানানোর পেছনে কী ভাবনা কাজ করেছিল?

সাদাত – ধন্যবাদ। আমি আসলে গল্প বলতে এবং শুনতে বা পাঠ করতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এই গল্প শোনার এবং বলার প্রচণ্ড তাড়না নিয়ে আমি বড় হয়েছি। সমস্যা হচ্ছে, যত বড় হয়েছি, ততই আবিস্কার করেছি, গল্প বলাটা, গল্প শোনার চেয়ে কঠিন। কারণ আপনি চাইলেই গল্প শুনতে পারেন, সেটি সিনেমা দেখে, বই পড়ে থেকে শুরু করে নানানভাবে। কিন্তু আপনি চাইলেই গল্প বলতে পারেন না। কারণ, আপনি কিভাবে গল্প বলবেন, সেটি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাকে গল্প বলবেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সেই গল্প শুনতে মানুষ আগ্রহী হবে কি না? না কি গল্প শুরু মাঝখানে মানুষ উঠে যাবে? এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি অনেক ভেবেছি। ভেবে মনে হয়েছি আমি বৃহৎ পরিসরে গল্প বলতে চাই, এবং আমি চাই, সেই গল্পগুলো মানুষ আগ্রহ নিয়ে শুনুক। আমার ভেতরে অসংখ্য গল্প, অসংখ্য। কিন্তু এই বৃহৎ পরিসরে গল্প বলার মাধ্যম কি? ধরুন, রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা রয়েছে। কিন্তু সেগুলোতে এক্সেস কিন্তু সহজ নয়। কিংবা আপনি চাইলেই আপনার মত করে বলতে পারছেন না। তাহলে? তাহলে আজকাল প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে ইউটিউব, ফেসবুকও আসলে এই গল্প বলার বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। আমার তখন মনে হল, আমি এই প্ল্যাটফর্মে চাইলেইতো আমার গল্প বলতে পারি। এখানে সরাসরি পাঠক , শ্রোতা বা দর্শক প্রতিক্রিয়া পাওয়ায় সহজ। যা আপনাকে একটা স্পষ্ট ধারনা দেবে। সেই ভাবনা থেকেই আমি ফেসবুকে গল্প বলা শুরু করি। আমি যেহেতু একটু আধটু ফটোগ্রাফির সাথেও যুক্ত ছিলাম, সেই থেকেই ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের প্রতিও আগ্রহ টের পাই। তখন মনে হতে থাকে, আমি তাহলে ভিজ্যুয়ালি কেন গল্প বলছি না? এই ভাবনা থেকেই মূলত নির্মাণ করি ‘দ্যা শ্যুজ’। পুরোটাই আসলে আমার সেই গল্প বলার তেষ্টা। তবে এই তেষ্টার ভেতর আমার শৈশবের অনেক আক্ষেপ, প্রাপ্তি, স্পর্শের অনুভূতিই রয়েছে…

এর আগে ‘বোধ’ নামক আরেকটি শর্টফিল্ম বানিয়েছিলেন আপনি, সেটি তো ঝড় তুলেছিল বিশ্বজুড়েই… 

সাদাত – হ্যাঁ। ওই যে বললাম, ভিজ্যুয়ালি গল্প বলার একটা তীব্র তাড়না ছিল। আমার মনে হয় সকল সৃজনশীল মাধ্যমই মূলত গল্প বলে। সেটি পেইন্টিং হোক, আলোকচিত্র হোক, ভাস্কর্য হোক, কিংবা গল্প উপন্যাস, সিনেমাই হোক। আমি সেই গল্প বলতে গিয়েই নির্মাণ করি বোধ। আমার প্রথম ফিল্ম। ৫ মিনিটের সেই নির্বাক ফিল্মটি কিন্তু একটা বিস্ময় ছিল! বিস্ময় ছিল এই অর্থে যে, আমি তখনও সিনেমা সম্পর্কে কিছুই জানি না। এমনকি টেলিভিশনে, ভিডিওতে কাট টু কাট শট কিভাবে দেখানো হয়, তা-ই আমি জানতাম না। কখনও কোনদিন কোন শ্যুটিংও দেখি নি। কিন্তু তারপরও নিজের সহজাত একটা আগ্রহ আর সম্ভবত খানিকটা সেন্স ছিল। কিছুটা ইউটিউব ঘেঁটে ঘেঁটেই সিনেমাটা বানানো। সেই সিনেমা সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে কাঁপিয়ে দিল সারা বিশ্ব! জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল এওয়ার্ড। আসলে অনেক সময় হয় না, কিছু না ভেবে করা কাজও অসাধারণ হয়ে ওঠে! বোধ ছিল তেমন একটি কাজ।

s-1

* আপনার শর্টফিল্ম দুটিই কিন্তু জীবনবোধকে উপজীব্য করে বানানো। এরপরের শর্টফিল্ম কবে বের হচ্ছে?সেটিও কি এমন কিছু ভাবনায় মাথায় রেখেই হবে?

সাদাত– ওই যে বললাম, আমি আমার শৈশবটাকে প্রবলভাবে টের পাই বুকের ভেতর। আমি প্রচণ্ড স্ট্রাগল করে উঠে আসা একটা মানুষ। জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। প্রচণ্ড দারিদ্র, আবার সেই দারিদ্রের ভেতরও অসাধারণ অনুভুতিময়, মমতাময় ভালোবাসা। আমার কেন যেন মনে হয়, এই ধরণের বাস্তবতার ভেতরেই জীবনের সত্যিকারের বোধ অনেক বেশি স্পষ্ট থাকে। স্পর্শ করে। আমি আমার সেই শৈশব ভুলতে পারি না। আমার চারপাশ, আমার অনুভূতি, এই সকল আমাকে ক্রমাগত তাড়িয়ে বেড়ায়। হয়তো এ কারণেই আমার গল্পগুলো সেই বোধগুলোকে আশ্রয় করে, উপজীব্য করে গড়ে ওঠে। এরপর অনেকগুলো কাজ আসছে। প্রথমেই বর্ষীয়ান ও গুনী অভিনেত্রী দিলারা জামানকে নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র করতে যাচ্ছি। মোজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ফিল্মটিতে একটিমাত্র চরিত্র এবং একটি রুমেই পুরো ফিল্মটি। নিঃসন্দেহে একটি বড় চমক হবে দর্শকদের জন্য। এবং হ্যাঁ, দর্শক প্রবল জীবনবোধ অনুভব করবেন এটিতেও। আমি আসলে জীবনের গল্পই বলতে চাই। কারণ গল্পে যেমন জীবন থাকে, তেমনি জীবনেও থাকে অজস্র গল্প। এ এক গল্পের জীবন, জীবনের গল্প…

* অজস্র তরুণ অনুপ্রেরণা পান আপনাকে দেখে। আপনি অনুপ্রেরণা পান কাকে দেখে?

সাদাত- এই প্রশ্নটির উত্তর আমি অনেক খুঁজেছি। আমার অনুপ্রেরণা আসলে কে? কিন্তু খুঁজে আমি কোন জবাব পাই নি। আমার মা বাবা কখনোই আমাকে লিখতে, বা ফিল্ম বানাতে আগ্রহ দেন নি। শুধুই যে আগ্রহ দেননি তাও না, বরং বাধাই দিয়েছেন। যেটি তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই স্বাভাবিক ছিল। কারণ অমন একটি দরিদ্র পরিবারের বাবা মায়ের যা চিন্তা থাকে, তাদেরও তা-ই ছিল। ছেলে পড়াশোনা করে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করবে, বা ভালো আয় রোজগার হয়, এমন একটি নিশ্চিন্ত উপার্জনের পথ দেখবে। সুতরাং তারা তাদের জায়গায় ঠিক ছিলেন। কিন্তু আমার ভেতরে সবসময় একটা যন্ত্রণা টের পেতাম। কিছু করবার যন্ত্রণা। সৃষ্টির যন্ত্রণা। এই যন্ত্রণা ভয়াবহ। দিনের পর দিন আমি ঘুমাতে পারি নি। আমার বাবা স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ায় মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই আমাকে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়। সেই সাথে পড়াশোনা চালানো, খরচ। ভয়াবহ অবস্থা। সেই সময়টা আমি অমানুষিক খেটেছি। কিন্তু সবসময় কেবল মনে হত, আমি অন্যদের জন্য বেঁচে আছি, নিজের জন্য না। প্রচণ্ড ফ্রাস্ট্রেশন। এই ফ্রাস্ট্রেশন আমাকে ঘুমাতে দিত না। কেবল মনে হত, আমি একদিন নিজের জন্য বাঁচতে চাই। নিজের জন্য। কিন্তু এও জানতাম, পরিবারের প্রতি যে দায়বদ্ধতা, তা থেকে বিন্দুমাত্র পিছু হটবার মানুষ আমি নই। আমি আমার মা বাবার হাসিমুখ না দেখে থাকতে পারব না। আমি আমার সাধ্যে যতটুকু কুলিয়েছে, চেষ্টা করে গেছি। তারপর পড়াশোনা শেষ করলাম। খানিক থিতু হলাম। পরিবারের যে চাহিদা, তা মেটানো তখন খুব একটা কঠিন মনে হল না। ঠিক সেই মুহূর্তে মনে হল, এবার তাহলে নিজের জন্যও খানিকটা বাঁচি। আসলে আমার সেই নিজের জন্য বাঁচার তাড়না, আর ফ্রাস্ট্রেশন আমাকে বারবার জাগিয়ে তুলেছে। শুনলে হয়তো অবাক লাগবে, কিন্তু আমি সবসময়ই বলি, ‘মাই ফ্রাস্ট্রেশন ইজ মাই ইন্সপায়ারেশন’।

s-2 * গল্প লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, বৃহৎ কলেবরের উপন্যাস লিখেছেন। ফটোগ্রাফি করেন, উপস্থাপনা করেন, পাশাপাশি দুর্দান্ত দুটি শর্ট ফিল্মও বানিয়েছেন। আর কী করতে চান?

সাদাত- আমি আসলে আলাদা করে কিছুই করতে চাই না। ওই যে বললাম, আমার ভেতরে অজস্র গল্প। আমি কেবল গল্প বলতে চাই। অনেক অনেক গল্প। আমি গল্প বলার যে সকল মাধ্যমে নিজেকে সক্ষম মনে করি, সেই সকল মাধ্যমে গল্প বলতে চাই। এই সকল মাধ্যমের সবচেয়ে বড় মাধ্যম বোধ করি সিনেমা। সো এইসবকিছুর পাশাপাশি, সিনেমা বানাতে চাই। পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমা। তবে তার আগে দীর্ঘসময় দরকার, প্রস্তুতির… প্রস্তুত না হয়ে দুম করে নেমে যেতে চাই না। এই যে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানাচ্ছি, নানান ভিডিও কন্টেন্ট বানাচ্ছি, এই প্রত্যেকটি কাজ মূলত সেই পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা বানানোর প্রস্তুতিপর্ব। কারণ এভাবেই আমাকে শিখতে হবে। এছাড়া অন্য কোন ভাবে, বড় কোন পরিচালকের সহকারি হিসেবে কাজ করে, বা কোন ফিল্ম ইন্সটিটিউটে পড়ে ফিল্ম বানানো শেখা আমার সাধ্যের বাইরে।

* কোথায় থামতে চান?

সাদাত– আসলে থামতে চাই না। আমি স্বপ্নবাজ মানুষ। এতো এতো স্বপ্ন।আমি চাই স্বপ্নরা স্বপ্ন না থাকুক। স্বপ্ন ছুঁয়ে দেয়ার যে আনন্দ, তা আর কিছুতেই নেই। অপার্থিব। আমার অনেক স্বপ্ন, অনেক। সেইসব স্বপ্ন ছুঁয়ে দেয়ার জন্য এই একটা জীবন খুব অপ্রতুল। তাই ছুটতে চাই, ছুটতে চাই অবিরাম, স্বপ্ন ছুঁয়ে দিতে চাই। মানুষ তার জীবনজুড়ে যা করে, তার সকলই আনন্দ প্রাপ্তির জন্য, শান্তির জন্য। আমিও। আমার এই স্বপ্ন ছুঁতে ছুটে চলাতেই আনন্দ…’

* আপনি কি ঘুমনোর সময় পান?

সাদাত– হ্যাঁ, পাই। আমি ঘুম না হলে কাজ করতে পারি না। আমার পরিপূর্ণ ঘুম দরকার। কেবল পরিপূর্ণ ঘুম হলেই আমি আমার সবটুকু শক্তি খুঁজে পাই। কাজ প্রডাক্টিভ হয়।

* একদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বানানো হলো আপনাকে। সেই ২৪ ঘন্টায় কী করবেন?

সাদাত- ২৪ ঘণ্টা লাগবে না। প্রথম ঘণ্টায়ই পদত্যাগ করব। সব কাজ সবাইকে দিয়ে হয় না। আমাকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব হবে না। আর ২৪ ঘণ্টায় সেই অর্থে কোন সাসটেইনেবল কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি বলিউডের সিনেমায় সম্ভব, বাস্তবে না। তবে হ্যাঁ, ক্ষমতা থাকলে দেশের সকল বিভাগীয় শহরগুলোকে ঢাকার মতন অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক ক্ষমতাসমৃদ্ধ করে ডিসেন্ট্রালাইজেশন করার চেষ্টা করতাম। পারলে জেলা শহরগুলোকেও। যাতে ঢাকার প্রতি যে এককেন্দ্রিক চাপ সেটি কমে। ঢাকা যে একটি জ্যাম বিহীন নগরী, সেটি দেখার খুব শখ আমার! 

s-3* দেশ নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

সাদাত– আমাদের যে তারুণ্য, আমার কেন যেন মনে হয়, এরা অবিশ্বাস্য রকম সম্ভাবনাময়। এই সম্ভাবনাময় তারুণ্যকে সঠিকভাবে লালন করা গেলে, পরিচর্যা করা গেলে, আমরা গোটা পৃথিবীর কাছে অনুকরণীয় হতে পারি। তবে অবশ্যই বুকের ভেতর সবসময় টের পেতে হবে, অনুভব করতে হবে, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’

* কোনো অপূর্ণতা গ্রাস করে আপনাকে?

সাদাত– অপূর্ণতা আসলে কি? চাহিদা। আপনার চাহিদাকে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে, বাস্তবসম্মত করতে জানতে জানতে হবে। বুঝতে হবে। এই চাহিদার কিন্তু শেষ নেই। ার যার চাহিদা এমন অসীম, সে যতই পাক, তার অপূর্ণতা কখনো শেষ হবে না। আমার বস্তুগত বিষয়ের চাহিদা কম। এই কারণেই আমি পরিপূর্ণ সুখী মানুষ। কিন্তু আমার স্বপ্ন অফুরন্ত, স্বপ্ন আর চাহিদার মধ্যে বিস্তর ফারাক। আমি স্বপ্ন ছুঁয়ে দিতে চাই। আমি চাই এই স্বপ্ন ছোঁয়ার অপূর্ণতা আমার ভেতরে থাকুক। ভালো করবার ক্ষিদে আমার ভেতরে থাকুক। আমার যেন আমার এই গল্প বলার মাধ্যমগুলোতে কখনো পরিতৃপ্ত মানুষ মনে না হয়। আমি যেন ক্রমাগত একটা অতৃপ্তির ক্ষিদে টের পাই। যেই ক্ষিদে আমাকে বলবে, আরও ভালো করতে হবে, আরও ভালো’। তবে এককথায় বলতে গেলে, আমি পরিপূর্ণ সুখী মানুষ। এর কারণ এই না যে আমি যা চেয়েছি সব পেয়েছি। এর কারণ এই যে, আমি আমার যা আছে, তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে শিখেছি। সুখী থাকতে শিখেছি। সেই শৈশব থেকেই। আমার এই ভাবনার বা বোধোদয়ের সকল কৃতিত্ব আমার মায়ের, আর তারপর আমার বাবার। তারা আমাকে শিখিয়েছেন, যা আছে, তুমি তাই নিয়ে সুখী থেক। ভালো করার চেষ্টা করবে, কিন্তু না পেলেও আক্ষেপের কিছু নেই। কারণ তোমার চেয়েও অপরিপূর্ণ অসংখ্য মানুষ জগতে রয়েছে।

* ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

সাদাত– আলাদা করে কোথাও দেখতে চাই না। কেবল চাই, মানুষের ক্ষতির কারণ যেন কখনো না হই। ঈর্ষান্বিত যেন না হই, উদ্ধত যেন না হই। আমার মা বলতেন, লক্ষ্য করে দেখবে, যত বড় গাছ, সে তত বেশি ডালপালা ছড়িয়ে মাটির দিকে ঝুঁকে থাকে। এর মানে হচ্ছে, তুমি সত্যিকারের বড় হলে, যত বড় হবে, তত বিনয়ী হবে, তত নত হয়ে থাকবে। এই কথাটি আমি খুব বিশ্বাস করি। আমি এই বিনয়টাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই। আর অন্যের ক্ষতি না করে নিজের ভালোলাগার, আনন্দের কাজ করতে চাই।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad