সিনেমা হলের গলি

সেকরেড গেমস! যে খেলার ফল রক্তমূল্যে শোধ হয়!

স্পয়লার রিভিউ:

প্রতিটা জাতিরাষ্ট্রের নিজস্ব কিছু গল্প আছে। গল্প কিছু লেখা আছে পুরাণে, কিছু লেখা লোকগাঁথায়, কিছু লেখা থাকে গানে আর কিছু কবিতায়। বাড়িয়ে বলার স্বভাব থেকে অলৌকিকতার জন্ম নাকি ব্যাখ্যা না করার শক্তি থেকে সেটা পরের বিষয়। তবে প্রতিটি অলৌকিকতারই বাস্তব ভিত্তি থাকে। বয়নভঙ্গিই কেবল তাকে কালোত্তীর্ণতা দান করতে পারে। সেই থেকে জন্ম নেয় পুরাণ, রূপকথারা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই গল্পগুলো নির্ধারন করে দেয় আমার মানসিকতা, তাই সেই একই গল্প বারবার পুনর্বয়ন হতে থাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, ভিন্ন চরিত্রদের হাত ধরে। কারণ আমরা সেই গল্পের বাইরে ভাবতে পারি না, আমাদের চিন্তা করার সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে না নতুন কোন গল্পের। শুধু ভিন্নতা দিতে পারে উপস্থাপনায় আর বর্ণনার ভঙ্গিমায়। তাই তো মহাভারত রচিত হয়ে আসে প্রতি যুগেই কারও না কারও হাত ধরে, কুরুক্ষেত্র মনে হয় প্রতিটি যুদ্ধকেই, শকুনি মামারা রাজনীতিকে রক্তে স্নান করায় আর রুদ্ররূপে হাজির হয় শিব। বিক্রম চন্দ্র লিখতে চেয়েছিলেন বুঝি আধুনিক মহাভারতই, কিন্তু লিখেছেন পুরাণকে সঙ্গী করে রাজনীতি আর ধর্মের অন্ধকার দিকের এক বৃহৎ গাঁথা। যার মাঝে মুম্বাইয়ের মাফিয়া জগতের সূত্র ধরে গোপালমঠকে কুরুক্ষেত্র বানিয়ে তা ওয়েবসিরিজে অনূদিত করেছে অনুরাগ কশ্যপ গং। বিক্রম, অনুরাগ আর বিক্রমাদিত্য হয়তো গড়ে দিয়েছেন ভবিষ্যতের জন্যই কোন এক মিথ, নাম দিয়েছেন তার- সেকরেড গেমস। যে খেলার ফল রক্তমূল্যে শোধ হয়…

অশ্বত্থামা– দ্রোণার সন্তান অশ্বত্থামা ছিলেন চিরঞ্জীবীদের একজন। কৌরবদের হয়ে যুদ্ধ করা এই অশ্বত্থামাই যেন সেকরেড গেমসের গণেশ গায়াতোন্ডে। গণেশ বিশ্বাস করতো যে সে মরতে পারে না, সে অজেয়। গুরু দ্রোণাচার্যের মতো তারও পিতা ছিল ব্রাহ্মন ভিক্ষুক, মানতো লোকে তাকে। কিন্তু গণেশ ছোটবেলা থেকেই বিশ্বাস করতো সে চিরঞ্জীবী, সে মরতে পারে না। সেই বিশ্বাসই গণেশকে পথ দেখাতে থাকে, অন্ধকার পথ তবে সে পথই যে নির্বাচন করে অশ্বত্থামা গণেশ। একদিকে বর্তমানের চিরঞ্জীবী গণেশ গায়াতোন্ডেকে আবিষ্কার করে দর্শক অন্যদিকে তার অশ্বত্থামা হয়ে ওঠা উঠে আসে এই পর্বে। আর শেষমেষ গনেশের মৃত্যু আর তার জীবন শেষ হইয়াও হইল না শেষ হওয়ায় পবিত্র এই খেলার প্রথম পর্বের নাম দেয়া হয়- অশ্বত্থামা।

হালাহালা– অসুর আর দেবতারা সমুদ্র মন্থন করে অমৃত আস্বাদন করতে গেলে প্রথমে যে বিষের স্বাদ পায় সে বিষই হল হালাহালা। যে বিষ থেকে মুক্তিলাভের জন্য প্রথমে ব্রহ্মার কাছে পরে বিষ্ণুর কাছে ও পরে শিভের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে দুপক্ষই। আবার সংস্কৃতে হালাহালা অর্থ হচ্ছে সময় ধাঁধাঁ। তেমনি গণেশের মৃত্যু সেই বিষের সন্ধানই যেন দিয়ে দেয় গণেশের হাত ধরে উঠে আসা রাজনীতিবিদ, সুপারস্টার আর পুলিশ অফিসারদের। যে বিষে শুধু তারাই নয় বরং নীল হতে যাচ্ছে গোটা মুম্বাই। যে গোপালমঠকে মন্থন করে অমৃতের স্বাদ পেতে চেয়েছিল সবাই তাদেরই হালাহালা বিষে নিঃশেষ হতে হবে। গণেশ সময় ধাঁধাঁ দিয়ে দেয় ২৫ দিনের পুলিশ ইন্সপেক্টর সরতাজ সিং কে। ২৫ দিন পর অনেক বড় কিছু হতে যাচ্ছে মুম্বাইতে। কী সেই সময় ধাঁধার উত্তর, জানেনা কেউই। সেজন্যই তো এই পর্বের নাম- হালাহালা।

আতাপি ভাতাপি– দুই রাক্ষস সহোদর আতাপি আর ভাতাপি। কোন ক্ষুধার্ত পথিক তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে গেলেই আতাপি সম্ভাষণ জানিয়ে তাকে অতিথি হিসেবে ঘরে নিয়ে আসে। তাকে আপ্যায়ন করা সুস্বাদু পাঁঠার মাংস দিয়ে। ভোজনশেষে তৃপ্ত পথিকের কাছে আতাপি ভাতাপির নাম ধরে থাকে, ছাগ ছদ্মবেশ ধরে থাকা ভাতাপি তখন পথিকের পেট চিঁড়ে বেরিয়ে আসে আর দুই রাক্ষস এভাবেই তাকে ভক্ষণ করে। সেকরেড গেমসের এই পর্বে আমরা এরকম রাক্ষস সহোদর কেবল এক জোড়াই না বরং তিন জোড়া পাই। গণেশ গায়াতোন্ডের দুই হাত বড় বাদারিয়া আর ছোট বাদারিয়াকে দিয়েই যদিও আতাপি ভাতাপির গল্প বর্ণনা করা হয় কিন্তু তখনো টের পাওয়া যায় না এ দুজনই গণেশের জীবনে রাক্ষস হতে যাচ্ছে। বরং আতাপি আর ভাতাপি মনে হয় হোম মিনিস্টার বিপিন ভোসলে আর কমিশনার পারুলকারকে, যারা রাক্ষস হয়েই হামলে পড়ে কখনো গণেশের ওপর বা কখনো সারতাজের ওপর। আবার গণেশের অতীত কথনে মনে হয় গণেশ আর ঈসাকেও আতাপি-ভাতাপি বলা যায়। দুজনের যুদ্ধই তো গোপালমঠের নতুন রক্তাক্ত ইতিহাস রচনা করে। তাই সময়কাল যা ই হোক না কেন আতাপি আর ভাতাপির মতো রাক্ষস সদাই বিদ্যমান থাকে।

ব্রাহ্মহত্যা– ব্রহ্মদশা লাভ করে যে তাকে হত্যা করা মহাপাপ বলে ধার্য করা হতো। সে ব্রহ্মদশা সকলেই চাইলে লাভ করতে পারে যদি সে বিশ্বাস করে যে তার মধ্যে বিধাতা বিরাজ করে। পুরাণ হোক বা কোরআন হোক মানবহত্যাকে মহাপাপ হিসেবে বলা হয়েছে সবখানেই। তেমনই এক ব্রাহ্মহত্যা হয় সেকরেড গেমসের এই পর্বে। না তাকে হত্যা করা হয়েছে আরও আগেই, তবে একজন ছিল যে সত্য বলতে চাইতো। বলতে চাইতো যে যাকে হত্যা করা হয়েছে সে আক্রমণ করে নি বরং আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করেছে এক রাক্ষস। যাকে হত্যা করা হয়েছে সে হয়তো ব্রহ্মদশা প্রাপ্ত ছিল না, তবে ব্রাহ্মণ ছিল সত্যবাদীর সে সত্যটা। এই পর্বে এসে সে সত্যবাদী সরতাজ মাথা নিচু করে সত্যকে হত্যা করে। নয়নিকাকে বাঁচানোর জন্য তার দরকার পুলিশ ফোর্স আর ফোর্স পেতে হলে মানতে হবে পারুলকারের দেয়া শর্ত। তাই সত্য বিসর্জন দেয় সরতাজ আর করে ফেলে ব্রাহ্মহত্যা।

সারামা– ইন্দ্রর সহযোগী কুকুরের নাম ছিল সারামা যাকে বলা হয় সকল কুকুরের মাতা। ইন্দ্রকে অনেক অভিযানে সাহায্য করেছিল এই সারামা। তার সন্তানদের ডাকা হয় সারমেয়। কুকুর প্রভুভক্ত প্রাণী। সেরকমই গণেশ যখন নিজেকে প্রভু বলে দাবী করে তখন তার আশপাশে ছিল অনেক সারামা অর্থাৎ পোষ্য প্রাণী জাতীয় সহযোগী। এর মাঝে দুই বাদারিয়া ভাই তাকে ধোকা দেয় আর বান্টি আরও পরে গিয়ে। প্রত্যেকেরই তাই কুকুরের মতো মৃত্যু হয়েছে। এই সহযোগীরাই হয়তো গণেশকে প্রভুর আসন দিয়েছে কিন্তু সারামার মতো সৎ থাকতে পারে নি কখনোই। একসময় না একসময় গিয়ে ঠিকই ধোঁকা দিয়েছে। এরই মাঝে সারতাজের মাও এই পর্বে সারতাজের মন ভুলানোর জন্য এক কুকুরের গল্প শোনায়। বান্টির মৃত্যু পরে বর্নিত হয় গণেশের কণ্ঠে কুকুরের মতো মৃত্যু হিসেবে। ইন্দ্রর সারামা ভাগ্য ভালো থাকলেও গণেশের তা ছিল না বলতেই হবে।

প্রেতকল্প– পূর্ব জনমের সকল পাপ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন পরের জন্মে জন্ম নেয় সেই দূষিত আত্মা প্রেত হয়ে। সেই প্রেত হয় ক্ষুধার্ত, লোভ আর লালসাই যার একমাত্র কাম্য। সেরকম প্রেতের সন্ধান পাওয়া যায় এই পর্বে এসে। শামসুল ইসলাম নামের এক ছেলেকে খোঁজ করছে তার মা, বাঙালি বুড়ায় তখন বাঙালি অভিবাসীদের দৌরাত্ম্য চরমে। কন্সটেবল কাটেকার বারবার শামসুলের মা কে ফিরিয়ে দিচ্ছিল খালি হাতে। কিন্তু এবার কাটেকার নিজেই অনুসন্ধানে নামলো। বের হয়ে আসলো মূল ঘটনা। অসৎ সঙ্গে মিশে শামসুল চুরি করে সে এলাকারই এক ঘরে। আর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব হওয়ায় শামসুলকে খুন করে ফেলে দেয়া হয় নর্দমায়। লোভ লালসার সেই রূপই উঠে আসে এই পর্বে। বাজিল আর ফারাজ যেন ঠিক ২৫ বছর আগের বড় বাদারিয়া আর ছোট বাদারিয়া। তারাও লালসা আর প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে ঈসার সাথে হাত মিলিয়ে হত্যা করে গণেশের বড় ভাই সম পরিতোষকে। যার খবর জানতে পেরে দুঃখী গণেশ হত্যা করে দুই ভাইকেই। প্রতি যুগেই জন্ম নেয় এই প্রেতেরা, তৈরি করে নতুন গল্প, আর তাই এই পর্বের নাম প্রেতকল্প।

রুদ্র– প্রথমের সেই চিরঞ্জীবী অশ্বত্থামাই এবার হাজির রুদ্র হয়ে। রুদ্রের প্রতাপে ছাড়খার হবে সবকিছু যেমন ছাড়খার হয়েছিল ৯২ এর প্রেক্ষাপটে পুরো ভারতবর্ষ। বাবরি মসজিদ ধ্বংস পরবর্তী সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গার আঁচ মুম্বাইতেও লেগেছিল। যেখানে কট্টর হিন্দুবাদী এক গোপন সংগঠন গণেশের সাহায্য পেতে চায় দাঙ্গায় গোপালমঠকেও রক্তে রাঙাতে। কিন্তু গণেশ সবসময়ই অসাম্প্রদায়িক ছিল, এমনকি বাদারিয়া ভাইদের বিশ্বাসঘাতকতার পরও। কিন্তু যখন ঈসার গুণ্ডারা পুলিশ সেজে গণেশের বাড়িতে হামলা করে যাতে তার স্ত্রী সুভদ্রা আর সহযোগীরা মারা যায় ও বান্টি পঙ্গু হয়ে যায় তখন গণেশ হয়ে উঠে রুদ্র। তার প্রতাপে পুড়তে থাকে নিরীহ থেকে শুরু করে অপরাধীরাও। মানুষের রক্তে স্নান করে যেন গণেশ গায়াতোন্ডে। সেখান থেকে শুরু হয় ‘২৫-এর চক্র’, ২৫ বছর আগের সেই প্রেক্ষাপট এসে মিলে যায় ২৫ দিনের দেয়া আল্টিমেটামে। ২৫ দিন পরই কী শেষ হবার কথা ২৫ বছরের সেই চক্র? উত্তর জানে কেবল রুদ্রই, কিন্তু সে রুদ্র তো নিজেই নিজের হন্তারক। সরতাজের প্রশ্নের উত্তর খোঁজা তাই শেষ হয় না সেখানে।

ইয়াইয়াতি– লাইয়ুসকে ইডিপাস হত্যা করবে সেটা ইডিপাস জানতো না, লাইয়ুস যে তার পিতা সেটাও অজানা ছিল তার। পশ্চিমা পুরাণে সন্তানের হাতে পিতার মৃত্যু বা পিতার বলিদান খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। ক্রনোস, জিউস, পারসিয়াস কেউই পিতাকে রেহাই দেয় নি। কিন্তু ইয়াইয়াতি তার সন্তানের কাছেই বলিদান চেয়েছিল। যৌবনের স্বাদ আস্বাদনের জন্য শুক্রের অভিশাপ কাটাতে তার সন্তান পুরুর কাছ থেকে নিয়েছিল যৌবন আর তাকে দিয়েছিল বার্ধক্য। সেই ইয়াইয়াতিরই দেখা পাওয়া যায় গণেশ-সরতাজের প্রেক্ষাপটে। গণেশ তার তৃতীয় বাবার পরিচয় করে দিয়েছিল অনেক আগেই কিন্তু সে পিতাই যে ইয়াইয়াতি তা প্রকাশ পায় এই পর্বে এসে। ২৫ বছরের চক্রের ঘোষণা দেয়া হিন্দু গুরুজিই যে সকল কলকাঠি নেড়েছেন তা আঁচ করতে পারা যায় সিজন ফিনালেতে এসেই। সে ই গণেশকে বাঁচবার আশা দিয়েছিল আর সন্তান হিসেবে আপন করে নিয়েছিল। কিন্তু বিনিময়ে গণেশের কাছ থেকে সে কী নিয়েছে আর কেনইবা গণেশ তার ইয়াইয়াতিরুপী এই বাবার প্রতি নাখোশ হয়ে তার ২৫ বছরের চক্র ভাঙার দায়িত্ব দিয়ে যায় সরতাজকে? কী সেই মন্ডলা চিহ্নের রহস্য? ব্রহ্মাণ্ডের সেই চিহ্ন কেন বারবার ভেসে আসছিল বিভিন্ন ধাপে, বিভিন্ন জায়গায়? সেসব প্রশ্ন তুলে রাখা হয়েছে সেকেন্ড সিজনের জন্যই।

বিক্রম চন্দ্রের ‘সেকরেড গেমস’ পুরাণ, রাজনীতি আর ধর্মের অনুষঙ্গে যে পৃথিবী এঁকে দেয় সে পৃথিবীকেই নিজের মতো করে নির্মাণ করেছেন অনুরাগ কশ্যপ আর বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে। যেখানে কমতি হয় না উত্তেজনার, আবেগের আর অনাগত এক ভয়ের। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর অসামান্য অভিনয় গণেশ গায়াতোণ্ডে চরিত্রটিকেই তার নিজের করে দিয়েছে। আরেকদিকে জিতেন্দ্র জোশি, নীরাজ কবিরাও পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। সাইফ আলী খান আর রাধিকা আপ্তে দারুণ আর বাকিরা যার যার চরিত্রে একদম মানিয়ে গেছেন। নেটফ্লিক্সের এই বছরের অন্যতম ওয়েল মেইড টিভি সিরিজ তো অবশ্যই পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আর মিউজিকও তুলনাহীন। ‘সেকরেড গেমস’ ইন্ডিয়ার স্ট্রিমিং কালচারে রেভ্যুলশন এনে দিতে সক্ষম। এমন রিচ কন্টেন্ট দর্শকের হাতের নাগালে চলে আসতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কোন সুপারস্টারের শার্ট খোলা দেখার জন্য টিকিট কেটে সিনেমাহলে যেতে চাইবেনা দর্শক এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। সেকরেড গেমস গোটা ভারতবর্ষের সোশিও-পলিটিক্যাল ইস্যু নিয়ে যে সাহসী ধারণা দিয়ে যায় সে ধারণা নেয়ার মতো দর্শক তৈরি হলেই এই সিরিজকে সফল বলা যাবে। তবে মানের দিক দিয়ে, অভিনয়ের দিক দিয়ে সেকরেড গেমস আনডাউটেডলি এ মাস্টারপিস…

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close