নেটফ্লিক্সের প্রথম ভারতীয় অরিজিনাল সিরিজ ‘সেকরেড গেমস’- এর মাধ্যমে সাইফ আলি খানের ক্যারিয়ার যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। দীর্ঘদিন পাদপ্রদীপের আলোর বাইরে থাকা এই তারকাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে দর্শকেরা। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিরিজটির মাধ্যমেই তার ডুবন্ত ক্যারিয়ারে নতুন এক পথচলার সূচনা হবে। ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে সিরিজটি, সেই সাথে সাইফের অভিনয়ও। এমন অভাবনীয় সাফল্য নাকি তিনি নিজেও কল্পনা করেননি। তাই স্বভাবতই দারুণ খুশি তিনি। এই প্রাণবন্ত সাক্ষাৎকারে এই সিরিজের ব্যাপারেই খোলামেলা কথা বলেছেন।

* ‘সেকরেড গেমস‘ যে পরিমাণ প্রশংসা কুড়োচ্ছে, আপনি নিশ্চয়ই বিষয়টি উপভোগ করছেন?

– যে বিষয়টি আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছি তা হলো, আমি এমন একটি শোয়ের অংশ হতে পেরেছি যেটি ভারত থেকে নির্মিত হলেও, পুরো বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করে চলেছে, এবং এমন অনেক রিভিউয়ারই এটির ব্যাপারে ইতিবাচক কথা বলছেন, যারা সাধারণত ভারতীয় কিছুর ব্যাপারে রিভিউ পর্যন্ত দেন না।

এবং এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল- এমন এক ধরণের অভিনয়শৈলীর চেষ্টা করা, যেটি মোটেই টিপিক্যাল নয় যা আমরা আমাদের দেশে করে থাকি। এবং একই সাথে বাড়াবাড়ি রকমের কিছু না করা, যাতে শো’টি আরও বেশি আন্তর্জাতিক হয়ে ওঠে। গত কয়েকদিন ধরে আলোচনায় এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে।

তাই সত্যিই যদি সেরকম কোন শংকা থেকে থাকে, তা হলো ভারতীয় অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কাজ করতে পারবেন কি না। তো এই একটি জায়গায় আমাদের ভয় ছিল। কারণ আমরা সকলেই হয়ত একভাবে কাজ করে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, কিন্তু পুরো বিশ্বের সব দর্শক সেটি নাও গ্রহণ করতে পারে। তাই এই ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হয়েছিল। কখনও কখনও এমন হয়েছে যে বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে আমাকে বলেছে, ‘তুমি একটু বেশি বেশি করে ফেলছো। অভিনয়ের মাত্রা একটু কমাও, কারণ আমাদের দর্শক কিন্তু একেবারেই আলাদা।’

সবমিলিয়ে পুরো কাজটিই অনেক সন্তোষজনক ছিল। তবে এমনকি আমরা যখন শুটিং এর মাঝপথে ছিলাম, তখনও আমরা ভাবছিলাম যে দর্শকরা কি পুরো জিনিসটি দেখবে, নাকি কোন কোন এপিসোড বাদ দিয়ে যাবে। আমি এই বিষয়টি আসলেই জানি না, কারণ আমি তো মুভি করেই অভ্যস্ত। তাই আমার মনের মধ্যে ঐ ভয়টিও ছিল যে, কিছু কিছু জায়গা হয়ত দর্শক না দেখেই সামনে এগিয়ে যাবে।

* আপনি কি মনে করেন এই প্রজেক্টে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনারা অনেক বেশি স্বাধীনতা পেয়েছেন? কারণ প্রথম সিজনের যে বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তা হলো যেভাবে এখানে ধর্মকে খাটো করে দেখানো হয়েছে কিংবা যেভাবে যৌন দৃশ্যগুলো দেখানো হয়েছে।

– অবশ্যই কাজের ব্যাপারে অনেক স্বাধীন একটি পরিবেশ আমরা পেয়েছি। তবে আমরা যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে ছিলাম। স্রেফ খারাপ ভাষা ব্যবহার করতে হবে বলে আমরা তা করিনি, বা অহেতুক যৌন দৃশ্যের অবতারণা করিনি। আমরা একটি গল্প বলতে চেয়েছি, এবং সেই গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে যা যা আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় মনে হয়েছি, তা আমরা কাজে লাগিয়েছি। যেমন মুঘল বা মহাভারত বা রামায়ণের অংশগুলো আমরা খুবই সুন্দরভাবে আমাদের কাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত করতে পেরেছি। আসলে এখানে সৃজনশীলতার প্রচুর জায়গা ছিল, আর আমরা সেটিরই সদ্ব্যবহার করেছি। কোন ধরণের চাপ আমাদের নিতে হয়নি। সাধারণ কোন ছবি করার চেয়ে এই সিরিজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন কিছু ছিল।

* এই শোয়ের জন্য আপনি অনেক শরীর বাড়িয়েছেন, স্থূলকায় হয়ে উঠেছেন যা শুরুর দিকে আপনার চরিত্রের সাথে মানানসই ছিল। কিন্তু শেষের দিকে আপনার চরিত্রটিকে ক্রমশই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে দেখা গেছে। তাহলে পরবর্তী সিজনে আমরা আপনাকে কোন অবতারে দেখতে পাব?

– আমার মনে হয় পরবর্তী সিজনে আমি আরও বেশি কর্মঠ হয়ে উঠব, আর আমার শরীরও কিছুটা কমবে। মূল বইতে গ্রাফটা মাইনাস ১০ থেকে শুরু হয়, এবং ক্রমান্বয়ে সে একজন প্রকৃত হিরো হয়ে উঠতে থাকে। তাই দ্বিতীয় সিজনে আমার চরিত্রের গ্রাফ কোন উচ্চতায় থাকবে তা জানতে হলে আপনাকে বইটা পড়ে দেখতে হবে।

আমার মনে হয় আমার চরিত্রটি (সারতাজ সিং) খুবই জটিল। তাকে অনেক ইস্যু নিয়ে কাজ করতে হয়। তাই তাকে নিছকই একজন হিরো হিসেবে দেখতে চাওয়াটা বোধহয় উচিৎ হবে না। তাকে তার ভিতরের দুর্বলতাগুলোর সাথে লড়াই করতে হবে, এবং অনেক দৃশ্যে তাকে অনেক ভঙ্গুর মনে হতে পারে। তবে সামনের সিজনে গল্প নিশ্চয়ই আরেকটু গতিশীল হয়ে উঠবে।

* কো-অ্যাক্টর জিতেন্দ্র যোশীর সাথে আপনার খুবই সুন্দর একটি কেমিস্ট্রি গড়ে উঠেছিল। আপনি শার্লক হলে নিশ্চিতভাবেই তিনি ছিলেন ওয়াটসন।

– আসলেই তাই। যেই মুহূর্তে আপনার কাহিনীতে একজন পুলিশ ও তার সহযোগী থাকবে, আপনি অবশ্যই শার্লক-ওয়াটসন বা জনসন-বসওয়েল বা ডন কুইক্সোট-সাঞ্চো পাঞ্জা, এ ধরণের একটি দৃশ্যকল্পের মধ্যে ঢুকে যাবেন। একটি চরিত্র কিছুটা রসকষহীন হবে, অন্যটি অনেক বেশি প্রাণবন্ত। বিষয়টা অনেকটা বাইনোকুলারের মত, যেখানে আপনি দুইদিক থেকে দুইরকম ভিউ পাবেন, এবং সেই দুইটি ভিউই অনেক ইন্টারেস্টিং।

জিতেন্দ্র যোশী দারুণ একজন অভিনেতা। মানুষ হিসেবেও সে অনেক ভালো। তার সাথে কাজ করাটা সত্যিই অনেক উপভোগ করেছি। আমার মনে হয় তার সাথে কাজ করে এবং তাকে দেখে আমার নিজের অভিনয়েও অনেক উন্নতি ঘটেছে, এবং সেটি সত্যিই দারুণ একটি ব্যাপার।

সূত্র- স্ক্রল ডট ইন

আরও পড়ুন:

Comments
Spread the love