প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটি: স্যাবোটেজ, নাকি অদক্ষতা?

লেখক
লেখক

# বিমানের জ্বালানির চাপ কমে যাওয়ার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন বিমানের প্রকৌশলীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ইঞ্জিনের একটি অংশে নাট ঢিলে হয়ে যাওয়ার কারণে মবিল পড়েছিল। তেলের ট্যাংকে তেল ঠিকই ছিল। ~ কালেরকন্ঠ, http://www.kalerkantho.com/print-edition/…/2016/11/30/435203

# প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের ইঞ্জিনে অয়েল (লুব্রিকেন্ট) সিস্টেমের একটি নাট-বোল্ট অর্ধেক খোলা ছিল। ওই ঢিলা অংশ দিয়ে ইঞ্জিন থেকে লুব্রিকেন্ট বেরিয়ে যায়। এতে ওই ইঞ্জিনে জিরো হয়ে যায় অয়েল। ~ যুগান্তর, http://www.jugantor.com/…/%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6…

# আশখাবাদে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট জরুরি অবতরণের জন্য প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিনের একটি নাট ঢিলা হওয়াকেই দায়ী করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন ইসমাইল রাঙ্গা মেইনটেন্যান্স লগ বুকে লিখেছেন, ইঞ্জিনে অয়েল প্রেসার কমে যাওয়ার দরুন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। আশখাবাদে সেটা মেরামতের সময় দেখা যায়, একটি নাট ঢিলা অবস্থায় রয়েছে। এ কারণেই অয়েল (মোবিল) পড়ে যাওয়ায় চাপ কমে যায়। ~ কালেরকন্ঠ

# বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গত সোমবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি আকস্মিকভাবে অন্য একটি দেশে অবতরণ করায় বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। কোনো ধরনের সাবোটাজ ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তাদের রিপোর্টে যা আসবে তা আমলে নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে প্রকৌশলী, পাইলট বা বিমানের কোনো লোকজন জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ~ কালেরকন্ঠ

# এ ঘটনায় সোমবার বিমান, সিভিল এভিয়েশন ও মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিমানের চিফ অব টেকনিক্যাল ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪ সদস্যের কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপ্টেন সোয়েব চৌধুরী, ডেপুটি চিফ অব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হানিফ ও ম্যানেজার (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) নিরঞ্জন রায়।

অপরদিকে সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেক্টর (এফওআই) ক্যাপ্টেন ফরিদুজ্জামানকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সাইফুল হক শাহ ও আনন্দ মণ্ডল।

এছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও পর্যটন) স্বপন কুমার সরকারকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ~ যুগান্তর

# নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা বলেন, জরুরি অবতরণকারী ফ্লাইটটি মেরামতের পর ক্যাপ্টেন ইসমাইল লগ বুকে যা লিখেছেন তা সত্যি হলে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগের। একটি নাট লুজ হওয়ার মানে হয় সেটা সাবোটাজ, না হয় গাফিলতি। ভিভিআইপি ফ্লাইট টেক অফ করার ২৪ ঘণ্টা আগে বুঝিয়ে দিতে হয় এসএসএফকে। তার আগেই সেটার সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয় একাধিকবার। ~ কালেরকন্ঠ

# এদিকে বিমানের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটের প্রধান পাইলট নিয়েও তোপের মুখে পড়েছে বিমান প্রশাসন। অভিযোগ আছে এই দুই পাইলটই বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এয়ারক্রাফটের (যে বিমানে প্রধানমন্ত্রী গেছেন) ট্রেনিংয়ে ফেল করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা ও শর্ত শিথিল করে তাদের পাস করানো হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক এভিয়েশন আইন অনুযায়ী এ ধরনের ফেল করা পাইলটরা যে কোনো ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অভিযোগ আছে, বিমানের যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সে তদন্ত কমিটির প্রধান ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীও এই এয়ারক্রাফটের ট্রেনিংয়ে ফেল করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ ফিরতি ফ্লাইটে প্রধান পাইলট হিসেবে নির্বাচন করেছেন বিমানের চিফ অব টেকনিক্যাল ক্যাপ্টেন খাজাকে। এই খাজার বিরুদ্ধেও এই এয়ারক্রাফটের ট্রেনিংয়ে প্রথম দফায় ফেল করার অভিযোগ আছে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় ক্যাপ্টেন খাজাকে বিমানের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু বি-৭৭৭-এ ফেল করার কারণে তাকে ওই দফায় ওই পদে দেয়া হয়নি। কিন্তু বিমানের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এনামুল বারী দায়িত্ব নেয়ার পর খাজাকে প্রথমত আইন ভঙ্গ করে চিফ অব টেকনিক্যাল করা হয়।

পরবর্তীকালে তাকে বোয়িং-৭৭৭ এয়ারক্রাফটের ট্রেনিং পাইলটও (ইন্সট্রাক্টর) বানানো হয়। এখন তাকে হাঙ্গেরি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফিরতি ফ্লাইট আনার জন্য প্রধান পাইলট হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানজুড়ে তোলপাড় হলেও সোমবার রাত পর্যন্ত তাকে সিডিউল থেকে বাদ দেয়া হয়নি।

বিমানের অপর একটি সূত্র জানায়, হাঙ্গেরি যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এয়ারক্রাফট ‘রাঙা প্রভাতের’ ককপিট ক্রুদের মধ্যে এমন একজন পাইলটও ছিলেন যাকে সম্প্রতি একাধিক সিনিয়র পাইলটকে ডিঙিয়ে ইন্সট্রাক্টর বানানো হয়েছে। তিনি বাপার (বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশন) সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন।

অভিযোগ আছে বাপার একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে এই পাইলট ক্ষমতার অপব্যবহার করে বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজে ফেল করা (দু’বারের চেষ্টায় পাস) দু’জন পাইলটকেও সম্প্রতি ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ~ যুগান্তর

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-