নাসির সুবাহ দুই ক্যারেক্টার।

শুরুতে নাসিরের দিক থেকে যদি বলা যায়, ছেলেটা মেধার অপচয়। অর্থ জনপ্রিয়তা একটা মানুষকে কতোটা অনৈতিক করে ফেলতে পারে নাসির তার প্রমান। হাতে টাকা ছিল, খেলার সুবাধে টিভিতে মুখ দেখাতে পারত, এই পুঁজিতে ছেলেটা নিজের মূল্যবোধ, ফ্যামিলি স্ট্যাটাস, দেশের প্রতি নূন্যতম দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছিল। শিক্ষা না থাকলে যারা অল্পতেই অতিরিক্ত পেয়ে বসে, তারা অল্প সময়েই নাসিরের মতো মাঠপ্রেমী অপেক্ষা খাট প্রেমী হয়ে উঠে।

আমার মনে হয়, ক্রিকেট বোর্ডের এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিৎ তারা ক্রিকেটার তৈরি করবে নাকি একের পর এক তৈরি হবে, নাসির, রুবেল, সানি। আমাদের ক্রিকেটারদেরও ভেবে দেখা উচিৎ, আদর্শগত দিক দিয়ে তারা শচীন টেন্ডুল্কারের ভক্ত হবে নাকি ইমরান খান বা ক্রিস গেইলকে গুরু মানবে। হাজারো সমস্যায় জর্জরিত এ দেশের মানুষ, ক্রিকেটারদের প্রতি যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে এসেছে, তার সাথে বেইমানী করবার অধিকার কারো নেই।

সুবাহ মেয়েটা শুরু থেকে বলে আসছে “মজা তুমিও পাইছ, আমিও পাইছি” অর্থাৎ আগাগোড়া নাসির সুবাহ’র রিলেশনটি গড়ে উঠেছিল ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিট’ এর ভিত্তিতে। কোন কমিটমেন্ট থাকবে না, কিন্তু একসাথে টাইম পাস করা হবে। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক (মেয়েটি আঠারো পাড় করেছে) মানুষ একে অপরের সম্মতির ভিত্তিতে যদি এ ধরনের রিলেশনে জড়ায়, তা অবশ্যই অপরাধ নয়।

নাসির রিলেশনটিকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল ভোগে আর মাত্র উনিশ বছর বয়সের সুবাহ ব্যবহার করেছে নিজের ফলোয়ার প্রাপ্তির ট্রাম কার্ড হিসেবে। সুবাহ’র প্ল্যান ছিল দুইটি। হয়, সে আনুশকা হবে অথবা হুট করে সেলেব্রেটি। ( মেয়েটি তার বহু আগের ভিডিওগুলোতে নিজেই বলছে, তার লাইভে এক হাজার ভিউো হয় না। এর জন্য তার কষ্ট, আক্ষেপ!)

মেয়েটি শুরু থেকেই নাসিরের সাথে তার সম্পর্ককে গোপনে ক্যামেরা বন্দি করে রেখেছিল। সে আনুশকা হতে চেয়েছিল কিন্তু যখন দেখল নাসির কেবল দেহটাই চাচ্ছে তখন তার প্ল্যান বি বেছে নেয়। ক্রিকেটকে ফোকাস করে নিজেকে সেলেব্রেটি বানানো। পুরোমাত্রায় এটেনশনসিকার সুবাহ তার প্ল্যানে সক্ষম, আজ অনলাইনে ভেসে বেড়াচ্ছে সুবাহ।

এরই মাঝে প্রকাশ হয়েছে সুবাহ ছিল খুনের আসামী, আকাশ নামের এক ছেলে সুবাহ’র প্ররোচনায় নিজের মাকে হত্যা করে। মেয়েটা কিছুদিন জেলেও ছিল। আকাশ ছাড়াও আরও একজন ছেলের সাথে তার প্রনয়ের সম্পর্ক ছিল। শোনা যাচ্ছে বিয়েও হয়েছিল।

সুবাহ ক্যারেক্টার আমাদের প্রথম যে কথাটি শিক্ষা দিল, ফেসবুক লাইভ দেখেই কাউকে বিচার করা ঠিক নয়। যে কোন মেয়ে কান্নাকাটি করলে কারো নামে অভিযোগ করলেই যে তা সঠিক এমনটি নয়। ঘটনার পিছনেও ঘটনা থাকে, থাকে সত্য মিথ্যা। নাসিরকে নিয়ে সুবাহর প্রথম ভিডিও’র পর সুবাহ’র পক্ষে যে ব্যাপক জনসমর্থন গড়ে উঠেছিল, তাকে বলা হচ্ছিল জাতীয় বোন, আজ সুবাহর অতীত এবং বর্তমান কার্যকলাপ পর্যালোচনা করে সেই সমর্থন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

কিছুদিন আগে আরও এক মেয়ে তার বাবার নামে রেইপের অভিযোগ তুলে লাইভে এসে কান্নাকাটি করেছিল, দুদিন পর দেখা গেল, মেয়েটি ইয়াবাখোর। নেশার টাকা জোগার করতে নিজের বাবাকে সে ফাঁসায়। সুবাহ’র জন্য এখন সত্যিকার অর্থেই নির্যাতন প্রাপ্ত মেয়েদের বক্তব্য ফেইক মনে হবে। এইটাই সবচাইতে আতংকের আর কষ্টের।

সস্তা জনপ্রিয়তার লোভ কিংবা জনপ্রিয়তা লাভের পর তা নিয়ন্ত্রন করতে না পারার অক্ষমতা মানুষের জীবনকে কিভাবে লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারে, সুবাহ আর নাসির আমাদের সামনে প্রত্যক্ষ প্রমান।

সারমর্মঃ ভাবিয়া করিয়ো কাজ, করিয়া (সুবাহ, নাসির) হইয়ো না।

_

সংযুক্তি:

নাসিরের ঘটনা আরও ৪ বছর আগে থেকেই জানি! সেই ২০১৪-২০১৫ থেকেই বাংলাদেশের জনতা ‘নাসির কেন দলে নাই?’ ‘নাসির কেন দলে নাই?’ করতো! তখন পাপন বলেছিল, “ওর ৮০টা গার্লফ্রেন্ড, ১২টা মোবাইল!” তারপরেও মানুষ ট্রল করেছে যে সে নাকি আপনের মেয়ের সাথে প্রেম করে! অথচ সাংবাদিক ভাইদের মুখে পার্সোনালি শুনেছি, ২০১৫ বিশ্বকাপের সময় অস্ট্রেলিয়াতে সে একদিনও সকালে সময়মতো প্র্যাকটিসে আসেনি। প্রতিদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে যাবার পরে সে নাইট ক্লাবে চলে যেতো। সকাল ৭টার প্র্যাকটিসে ৮-৯টায় আসতো। এজন্যে স্ট্রিক্ট হাথুরুসিংহে তাকে নিতো না। আর আমরা বলতাম, “নাসির কেন দলে নাই?”

নাসির শুধু একা না, পুরো দলের উপর খারাপ ইনফ্লুয়েন্স করছিল। সবাই রাত জেগে নাইট ক্লাবে গিয়ে ইমরান খান বা শেন ওয়ার্ন হতে পারে না। আর এটা আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতির সাথে যায়ও না। তাসকিনের ফল করার পিছনেও নাসিরের সাথে অতিরিক্ত মেশার একটা প্রভাব আছে। উচ্ছৃঙ্খল হয়ে গিয়েছিল। এখন শুনেছি তাসকিন সত্যিই আবার খেলায় মনোযোগী হচ্ছে! আরও তরুণ ক্রিকেটারকে বিগড়ে দেবার আগেই এসবের ব্যাপারে বিসিবি থেকে একটা কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। যেন এমন প্রতিভা ধ্বংস না হয়!

শেখ মিনহাজ হোসেন

Comments
Spread the love