টেকি দুনিয়ার টুকিটাকি

শুধু কম্পিউটার কিংবা ফোন নয়, হচ্ছে রাউটার হ্যাকিংও!

আমরা তো কম্পিউটার হ্যাক হবার কথা হরদম শুনি, ফোনও, যা আদতে এক ধরনের কম্পিউটার, হ্যাক হয়। নতুন উৎপাত হিসাবে এখন আবার শুরু হয়েছে রাউটার হ্যাকিং! কম্পিউটার বা ফোনে তো তাও নিরাপত্তার জন্য অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা যায়, কিন্তু রাউটারকে হ্যাকারদের আক্রমন থেকে রক্ষা করবেন কিভাবে? সেই আলোচনায় যাবার আগে চলুন জেনে নেই রাউটার হ্যাক হচ্ছে কিভাবে, আর হ্যাক হবার ফলে কি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন আপনি।

বেশ কয়েকটি ম্যালওয়্যার হ্যাকাররা রিলিজ করেছে যেগুলোর টার্গেট হচ্ছে বাসা বা অফিসে ব্যবহারের জন্য তৈরি ছোট রাউটার গুলো। এর মধ্যে সবশেষ নামটি হচ্ছে ভিপিএন ফিল্টার, যা এর মধ্যেই সারা পৃথিবীতে এক মিলিয়ন রাউটারকে সংক্রমিত করে ফেলেছে, এবং প্রতিদিন আরো করছে। বাংলাদেশেও এই ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। হয়ত আপনার রাউটারও এরই মধ্যে ইনফেক্টেড হয়ে গেছে।

কিভাবে বুঝবেন যে আপনার রাউটার ইনফেক্টেড কিনা? নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন।

১. আইএসপি থেকে কানেকশন ঠিক থাকার পরেও রাউটার থেকে ইন্টারনেট কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে না।
২. রাউটারের ডিএনএস অ্যাড্রেস নিজে নিজেই পালটে গেছে, এবং সেটা আর পরিবর্তন করা যাচ্ছে না।
৩. আপনি আর আপনার পুরানো পাসওয়ার্ড দিয়ে রাউটারের কনসোল প্যানেলে লগিন করতে পারছেন না।
৪. কিছু কিছু ওয়েবসাইটে আপনি যেতে পারছেন না, সঠিক অ্যাড্রেস টাইপ করার পরেও। চলে যাচ্ছেন অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ওয়েবসাইটে।
৫. ওয়েবপেজ লোড হতে অস্বাভাবিক বেশি সময় লাগছে।

এবার জেনে নিন এইভাবে রাউটার ইনফেক্টেড হলে কি কি হতে পারে। প্রথমেই যা হতে পারে তা হল, এই রাউটারের নেটওয়ার্কে কানেক্ট করা সমস্ত ডিভাইসে (কম্পিউটার, ফোন, ট্যাব) ভাইরাস চলে আসতে পারে, যদি সেগুলোতে উপযুক্ত সুরক্ষা না থাকে। এমনকি যদি আপনার ডিভাইসে আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার থেকেও থাকে, তবুও আপনি ইমেইল হ্যাক হওয়া, ফেসবুক, লিঙ্কডইন এর মত সাইটের পাসওয়ার্ড চুরি এবং অন্য যে কোন ধরনের আইডেন্টিটি থেফট এর সম্মুখীন হতে পারেন। যদি এই রাউটারের সাথে সংযুক্ত ডিভাইস দিয়ে ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং করেন, তাহলে সেসবের পাসওয়ার্ডও হাতিয়ে নিতে পারে হ্যাকাররা, আর সেটা ব্যবহার করে আপনার টাকাও নিয়ে নিতে পারে তারা।

আর এসবই হতে পারে অনেক ক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটারের অ্যান্টিভাইরাস থাকা সত্বেও, কেননা সব অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের আবার সব ধরনের সুরক্ষা থাকে না। আপনার রাউটারকে তো ব্যবহারের অযোগ্য (আনবুটেবল) তো করে ফেলতেই পারে এইসব ম্যালওয়্যার, তার পাশাপাশি নেটওয়ার্কে কানেক্টেড সমস্ত ডিভাইসের নিয়ন্ত্রনও নিয়ে নিতে পারে হ্যাকাররা, ডিএনএস হাইজ্যাক করে আপনাকে ম্যালওয়্যার ইনফেক্টেড সাইটে নিয়ে যেতে পারে, আপাতঃ সুরক্ষিত এইচটিটিপি সেশনের মাঝে ফিশিং লিঙ্ক ঢুকিয়ে আপনার তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে, আপনার ফায়ারওয়াল, যদি থাকে, সেটার রুলস ডিজেবল করে দিতে পারে; আরো যে কতভাবে আক্রমণ করা সম্ভব সেটা অনুমান করে শেষ করা যাবে না।

এবার আসি আসল কথায়; কিভাবে এরকম ম্যালওয়্যারে ইনফেক্টেড রাউটার ঠিক করবেন?

১. রাউটার ফার্মওয়্যার আপডেট করুন: আপনার রাউটারের অ্যাডমিন পেজে লগিন করে (যদি করতে সক্ষম হন) অ্যাডভান্সড অথবা ম্যানেজমেন্ট সেকশনে গিয়ে ফার্মওয়্যার আপডেট করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, ফার্মওয়্যার হচ্ছে আপনার রাউটারের কোর সফটওয়্যার, যা এটাকে বুট হতে সাহায্য করে। ফার্মওয়্যার আপডেটের মাঝামাঝি যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে কিন্তু আপনার রাউটারটি অচল হয়ে যেতে পারে। সুতরাং এই কাজটি করার আগে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর ব্যাবস্থা করে নেওয়া জরুরী।

২. ফ্যাক্টরি রিসেট করুন: রাউটার ভেদে টানা ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড রাউটারের পাওয়ার বাটন চেপে ধরে রাখলে আপনার রাউটারটি ফ্যাক্টরি রিসেট হয়ে যাবে একটা রিবুটের পরে। এতে করে আপনার রাউটারটি অরিজিনাল ফ্যাক্টরি ডিফল্ট সেটিং এ চলে আসবে, এবং ম্যালওয়ারটি রিমুভ হয়ে যাবে। রাউটার ভেদে ফ্যাক্টরি রিসেটের নিয়ম আলাদা হতে পারে, ম্যানুয়াল দেখে নিন।

৩. রাউটারের পাসওয়ার্ড করুন: এটা বেসিক প্রোটেকশন রুল। রাউটারের ইনফেকশন না হলেও ডিফল্ট পাসওয়ার্ডটি বদলে নেওয়া উচিত। এটা করে নিলে হ্যাকাররা আপনার পুর্বের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে রাউটারের নিয়ন্ত্রন নিতে পারবে না।

৪. রিমোট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বন্ধ করুন: রাউটারের সেটিংসে গিয়ে চেক করুন রিমোট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বন্ধ করা আছে কিনা; না থাকলে বন্ধ করে দিন। এটা অন থাকলে হ্যাকাররা সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার রাউটারের নিয়ন্ত্রন নিতে পারবে।

সবসময় সুরক্ষিত থাকুন, আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।

*

এখন ঘরে বসেই অনলাইনে কিনুন ক্যাসপারস্কি ল্যাবের সব পণ্য, খুব সহজে। অনলাইনে পেমেন্ট, অনলাইনেই ডেলিভারি!

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close