মোহাম্মদপুরে চলন্ত গাড়ীতে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়া ধর্ষক রনি হকের বিরুদ্ধে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সর্বত্র প্রতিবাদ আর সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছিল, তখনো এক শ্রেণীর নির্লজ্জ পটেনশিয়াল রেপিস্ট রনির পক্ষে কথা বলে যাচ্ছিল, রনি হককে নির্দোষ হিসেবে প্রমাণের জন্য রীতিমত যুদ্ধ করে যাচ্ছিল। ইভেন মেয়েটাকে পতিতা বানিয়ে দিতেও দ্বিধা করেনি, যেন পতিতা হলেই তাকে যখন তখন ধর্ষণ করা যায়! তো এহেন ধর্ষকের সহযোগী নির্লজ্জ কীটদের গালে দশমনী ওজনের থাপ্পড় বসিয়ে দিয়েছে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসা সব তথ্য!

আসল ঘটনাটি হচ্ছে সেদিন রাজধানীর কলেজগেটে রনির হাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া ২১ বছরের তরূণী ছিলেন বিবাহিতা। শ্যামলীর বাসিন্দা এই গৃহবধূ জরুরী প্রয়োজনে ফার্মগেট যাবার জন্য বের হয়েছিলেন, অপেক্ষা করছিলেন সড়কের পাশে। কিন্তু রাস্তায় কোনো যানবাহন না পেয়ে তিনিসহ আরও এক তরুণী ধর্ষক মাহমুদুল হক রনির প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো- গ ২৯-৫৪১৪) লিফট নেন। তাদের মধ্যে এক তরুণী শিশুমেলায় নেমে যান। এরপরই সামনে থেকে গাড়ির পেছনের আসনে চলে আসেন মদ্যপ রনি। তিনি শ্যামলীর গৃহবধূকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান। এক পর্যায়ে তার মুখ রুমাল দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর শিশু মেলা থেকে কলেজ গেটে আসার পথে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন রনি। ওই সময় নিজেকে বাঁচাতে ধস্তাধস্তি করতে থাকেন তরুণী। এ অবস্থায় প্রাইভেটকারটি কলেজগেট সিগন্যালে জ্যামে আটকা পড়লে পথচারীরা এসে গৃহবধূকে রক্ষা করে। তারা রনিকে আটক করে মারধরের পর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের কাছে তুলে দেয়।

অথচ গত দুইদিন ধরে রনির পক্ষে দাঁড়াতে এক শ্রেণীর পটেনশিয়াল রেপিস্ট কি আপ্রাণ চেষ্টাটাই না করল! মেয়েটা পতিতা, যৌনকর্মী বানানো থেকে শুরু করে, চন্দ্রিমা উদ্যানে এমন অনেক মেয়েকেই ঘুরতে দেখা যায়, নিশ্চয়ই মেয়েটার সাথে দাম-দর নিয়ে ক্যাচাল বাঁধছিল বলেই মেয়েটা চিৎকার করে লোকজন জড়ো করে রনিকে ধরায়ে দিছে, মেয়েটার তো কাপড়-চোপড় ছেঁড়া ছিল না, তাহলে সে কিভাবে রেইপ হলো, ঢাকা শহরের রাস্তায় এতো মানুষের মধ্যে রেইপ করা সম্ভব কিনা— এমন কত অসংখ্য বিষ্ঠার দলা প্রসব করে রনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করে গেছে এই নির্লজ্জ জানোয়ারেরা। অথচ তারা এটা এড়িয়ে গেছে যে ধরা পড়বার সময় রনির প্যান্ট খোলা ও নামানো ছিল! যদি সত্যিই রনি নির্দোষ হত, তাহলে ওর প্যান্ট কেন খোলা ছিল, কেন নামানো ছিল? এই একটা প্রশ্নের উত্তরই কারো কাছে পেলাম না গত দুইদিন ধরে!

শুধু তাই না, এই রনি হক যে একজন পেশাদার নারী নির্যাতনকারী ও অপরাধী, তারও প্রমাণ মিলেছে রনিকে নেওয়া তিনদিনের রিমান্ডে। অপরাধ স্বীকারের পাশপাশি রনি এটাও বলেছে যে প্রায় রাতেই লংড্রাইভে বের হয়ে গাড়িতে বসেই মাদক সেবন করতো। এছাড়া হাজারীবাগে নিজের বাণিজ্যিক শরীর চর্চা কেন্দ্রে (জিম) বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে মাদক সেবন করতো। সেখানে বিভিন্ন পার্টিতে কলগার্ল এনে তারা ফূর্তি করতো। এর আগেও সে মদ্যপ অবস্থায় এমন নানা ধরণের অপকর্ম ঘটালেও ধরা পড়েনি। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে তার চলাফেরা সমাজের উঁচু স্তরের মানুষের সাথে। রনির সাথে প্রভাবশালীদের পরিচয় ছিল এবং তার বন্ধুরা সবাই প্রতিষ্ঠিত পরিবারের সন্তান। ফলে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকলেও কখনও এ নিয়ে তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি। এমনকি রাজধানীর সড়কে গভীর রাতে লংড্রাইভে বেরিয়ে গাড়িতে বসে মাদক সেবনসহ অপকর্ম করে বেড়ালেও রনি কখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েনি। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠা রনি সাহায্যপ্রার্থী নারীকে গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করেছে।

শনিবার রাতে কলেজগেট সিগন্যালে ধর্ষণকালে প্রাইভেটকার থেকে রনিকে আটককালে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনও রনির বেপরোয়া আচরণের কথা জানিয়েছেন। গাড়ি থেকে মদ্যপ রনি জনতার সঙ্গে চোটপাট শুরু করেন। প্রথমে সে হম্বিতম্বি করে ও রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় দিতে থাকে। এমনকি গণপিটুনির চোটে ন্যাংটো হয়ে থানায় যাওয়ার পরেও তার চোটপাট কমেনি। তখন সে আশা করছিল যে কোনভাবে সমাজের নানা উঁচু স্তরের মানুষের রেফারেন্স দিয়ে এ যাত্রায়ও বেঁচে যাবে। সেজন্যই বিভিন্ন প্রভাবশালীর সঙ্গে পরিচয় থাকার কথা বলে পুলিশকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল এই শুয়োরটা। এরপর রোববার সকাল থেকেই রনির ঘনিষ্টজনরা থানায় ভিড় করতে থাকে। তারাও রনিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু রনিকে আটক করে মারধরের ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেলে তা আর সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনা নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর রনির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের হচ্ছে বুঝতে পেরে তাকে মদ্যপ হিসেবে আটক দেখানোর চেষ্টা করেন তার লোকজন। কিন্তু ইতিমধ্যে পুলিশ রবিবার বিকেলের মধ্যেই ধর্ষণের শিকার শ্যামলী এলাকার গৃহবধূ ও গাড়িতে লিফট নিয়ে শিশুমেলায় নেমে যাওয়া আরেক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। রাতে তারা শেরেবাংলা নগর থানায় উপস্থিত হন। এরপর ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ রনিকে প্রধান আসামি করে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। এতে ধর্ষণে সহযোগিতার জন্য চালক ফারুককেও আসামি করা হয়। এরপর পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করলে রনিকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবিব।

রিমান্ডে রনিকে প্রাইভেটকারে ধর্ষণের ঘটনা ছাড়াও অন্যান্য অপরাধকর্ম ও তার সঙ্গীদের বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মিনহাজ উদ্দিন। রনি গভীর রাতে লংড্রাইভে বেরিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক হওয়ায় পুলিশের ধারণা, তিনি (রনি) ধানমণ্ডিকেন্দ্রিক বিভিন্ন নৈশ অপরাধেও জড়িত থাকতে পারেন। বিশেষ করে প্রায় সময়েই রাতের বেলা ধানমণ্ডি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সব ঘটনায় রনি ও তার পরিচতিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা রিমান্ডে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

শ্যামলীর সেই গৃহবধূর কপাল অসম্ভব ভালোই বলতে হবে, জ্যামে গাড়ীটা আটকে গিয়েছিল বলেই সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন, রাফি নামের সেই তরুণ পুরো ঘটনাটা ভিডিও করে অনলাইনে ছেড়েছিলেন এবং অসংখ্য মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুরো ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রনি প্রভাবশালীদের ব্যবহার করে এবারো ছুটে যেতে পারেনি। এখন মূল বিষয়টা হচ্ছে ভিক্টিম মেয়েটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারণ আমরা এর আগেও দেখেছি ধর্ষকেরা প্রবল ক্ষমতাধর হওয়ায় একটা পর্যায়ে তারা জামিনে বেরিয়ে যায় এবং তাদের প্রভাবশালী লিংক কাজে লাগিয়ে ভিক্টিমের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে যতক্ষণ না ভিক্টিম মামলা তুলে নেয়। তাই সবার আগে মেয়েটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যেন রনি কোনভাবেই মেয়েটাকে হুমকিধমকি দিতে না পারে। এবং যত দ্রুত সম্ভব রনির বিচার কার্য শেষ করে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং সম্ভব হলে তাকে ছাড়িয়ে নিতে রনির দেনদরবার করা সকল প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনা জরুরী! যেন ভবিষ্যতে কেউ এধরণের আবদার করা সুযোগ না পায়।

উপরের এই লেখাটা রনির ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া হয়েছে। এই নর্দমার কীট নিজে রাতের অন্ধকারে মদ্যপ হয়ে সাহায্যপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণ করে আর নিজের ফেসবুক ওয়ালে পর্দার গুরুত্ব আর পরকীয়া সম্পর্কে প্রবন্ধ রচনা করে। রনির পক্ষে যেসব পটেনশিয়াল রেপিস্ট গত দুদিন ধরে গলা ফাটাচ্ছে, আমি নিশ্চিত প্রত্যেকেই সুযোগ পেলে ঠিক এইভাবে রনির মত ফেসবুকে মেয়েদের পর্দা করার ব্যাপারে ওয়াজ-নসিহত করে থাকে, কিন্তু বাস্তবে সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে যেখানে সেখানে। তাই এই ধরণের ফেসবুকে পর্দায় থাকার ক্যানভাসিং করা ফেবু মুমিন থেকে সাবধান! এদের দেখলেই প্রতিহত করুন, রনির পক্ষে যাকেই কথা বলতে দেখবেন, তাকেই ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করুন। কারণ এরা রনির পক্ষে দাঁড়াচ্ছে স্রেফ নিজের পথটা ঠিক রাখার জন্য।

পরিশেষে, রনির পক্ষে গলা ফাটানো ধর্ষকদের কাছে জিজ্ঞাসা, নিজেদের ফেলা থুথু চেটে খেতে এখন কেমন লাগছে রে ধর্ষক?

তথ্য কৃতজ্ঞতা- যুগান্তর ও অন্যান্য জাতীয় পত্রিকা

Comments
Spread the love